Tuesday, May 28, 2019

#আজ_বাবা_মার_২৫তম_বিবাহ_বার্ষিকী



জীবনের সাথে সময়ের চাকা ঘুরে আজ ২৫ বছরে হলো।
সময়ের ধোঁকা বাজি খেলায় কখন যে ২৫ বছর পার হল তা বাবা-মা  কারো চোখে পড়ে নাই। ঠিক একই দিনে এবং ২৫  বছর পূর্বে অথ্যাৎ ২৮ ই মে ১৯৯৪ সালে আমার বাবা - মার শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়। অতঃপর তাঁদের সংসার জীবনে ১ বছর পর আমার বড় বোন এবং ৭ বছর পর আমার জন্ম । এরই মাঝে সন্তান লালন-পালন, সংসার পরিচালনা এবং চাকুরির মধ্য দিয়ে কেটে গেল প্রায় তাঁদের জীবনের অনেকটি সময়। তবুও জীবন থেমে নেই চলছে তার নিয়মিত ধারায়। সংসার যুদ্ধের ধারাবহিকতায় আজ ২৫ বছরে পদর্পন। তাই এই দিনে তাঁদের জীবনের শুভ কামনায় আমি আপনাদের নিকট দোয়া প্রার্থী। যেন তাদের সন্তান দ্বারা বাকি ভবিষ্যৎ জীবন সুন্দর  হয়।

বাবা চাকরির সুবাদে সর্বদা ব্যস্ত থাকেন। আমি  ভেবেছি এবার বাবা-মার বিবাহ বার্ষিকীতে কিছু দিতে না পারি অন্তত অভিনন্দনটা জানাবো। যদিও সব বিশেষ দিন গুলতে অভিনন্দন জানিয়ে থাকি কিন্তু যে দিনের কারনে আজ আমি কারো সন্তান আর আমি যদি সে দিনটাকেই প্রতি বছর ভুলে যায়, অভিনন্দন জানাতে না পারি তাহলে নিজের কাছেই খারাপ লাগে। আসলে যখন মনে পরে তখন অনেক দেরি হয়ে যায়, তাই  এবার যে ভাবেই হোক অভিনন্দন জানাবোই। কিন্তু এবারো হলো নাহ বাবা এতেকাফে আছেন।

আসলে তাদের বিবাহ বার্ষিকী। আমি ভাবলাম তাদের একা থাকতে দেওয়া উচিৎ, কিন্তু অভিনন্দন তো তাকে জানাতেই হবে, কারন আমি জানি অভিদন্দন জানালে অল্প সময়ের জন্য হলেও বাবা-মা খুব খুশি হবেন। তার পর ঝট করে সে একটা এস এম এস লিখে ফেল্লাম “Happy Marriage Day Of Abbu Ammu” আমি মনে মনে বললাম এটাতে হয়তো তাদের অসুবিধা হবে না, তার পর এস এম এস টা পাঠিয়ে দিলাম।

 আজ আমার বাবা-মার ২৫ তম বিবাহ বার্ষিকী। সবাই তাদের জন্য দোয়া করবেন তারা যেন দীর্ঘজীবী হন এবং আমার নাতি নাতনির বিয়ে পর্যন্ত দেখে যেতে পারেন যদিও এখনো আমার বিয়েই হয়নি। আর তাদের মৃত্যু যেন কখনই আমার দেখতে না হয়, আমি যেন তাদের ১ দিন আগে হলেও পৃথিবী ত্যাগ করতে পারি ও পরকালে তাদের অভিনন্দন জানানোর জন্য অপেক্ষা করতে পারি।




Friday, May 24, 2019

আমার জন্মদিনে আমার কথা



#আমি_এবং_আমি

গত ২৩ মে থেকে আজ পর্যন্ত আরো একটি বছর বেঁচে থাকলাম এই পৃথিবীতে। এই সুজলা সুফলা সুন্দর পৃথিবী আমাকে আরো একটি বছর উপভোগ করার সুযোগ দিয়েছিলো । আমি তাকে( মহান প্রভু)কে কি দিলাম সে কথা নিতান্তই অবান্তর। মহান প্রভুর কাছে অশেষ শুকরিয়া। জীবনে অনেক সুন্দর সময় পার করেছি। এই জন্মদিনে আমার  মনে হচ্ছে গোধূলির দিকে আরো এক কদম এগিয়ে গেলাম আমি। আসলে এই গোধূলি বেলার দিকে তাকিয়ে থাকতে আমার খুউব ভালো লাগে । মনে হয় তার সাথে  অজানা কোন সম্পর্ক আছে,,,,,,,

#ছোট্টবেলার_অনুভূতি

সত্যি বলতে!
       ছোটবেলার জন্মদিনের  কথা ভুলতে পারি না! সকালে ঘুম থেকে উঠেই কেমন যেন একটা আলাদা অনুভূতি হতে থাকতো সারাক্ষন। এই দিনটাকে শুধুই আমার মনে হতো। যতো ফুল ফুটেছে সেদিন এই পৃথিবীতে সব যেন  আমার জন্য, যতো শিশু হেসেছে সেও আমার জন্য। ঐ নীল আকাশ আমার ঐ দখিনা হাওয়া আমার। মনে হতে থাকতো আজ এই পৃথিবীর পাখিরা অন্য সুরে গাইছে, আজ ঐ সূর্য আমার পানে চাইছে। মনে হতো পৃথিবীতে সাংঘাতিক একটা উলট পালট কিছু হয়ে যাবে।

#আর_এখনকার_আমি

 এখন ভাবি!
      ছোট সময় পড়তে গিয়ে  জীবনটাকে যেভাবে কল্পনা করেছি আর আজকে যে জীবন আমি যাপন করে যাচ্ছি তার কোথাও কি কোথাও কোন মিল আছে ? বিষয়টা নিয়ে খুউব চিন্তা করি! চিন্তা শেষে উত্তরটাও পেয়ে যাই।

আসলে!
    জীবনকে নিয়ে কে না স্বপ্ন দেখে ! সবার মতো স্বপ্ন আমিও দেখেছি আর তাই সে স্বপ্ন পূরণ করতে এই কঠিন বাস্তবতার সামনে আমি,  জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এমন ত্যাগ সবাই শিকার করে! যদি স্বপ্নের পিছনে না ঘুরি তাহলে আমি মানুষ কেন ? আজ মানুষ বলেই তো স্বপ্নের পিছু দৌড়াতে থাকি,,,,,

শাহনাজ রহমতুল্লাহ তার কিন্নর কন্ঠে গেয়ে ছিলেন,,,,,

 “স্বপ্ন সেতো স্বপ্নই নয়,
যদি না কিছু তার সত্যি হয়”

এখন মাঝে মধ্যে মনে হয় তাহলে কি সেগুলো স্বপ্ন ছিল না আদৌ ? জীবনটাকে যতোই মুঠোই ভরতে চেয়েছি, ততোই সেটা মুঠো থেকে পিছলে গেছে

 আজকাল জন্মদিন তেমন কোন বিশেষ অনুভূতি আর উচ্ছাস নিয়ে আসে না।  তেমন কোন আলাদা চমক নেই, অবাক করে দেয়ার জন্য কেউ এসে কড়া নাড়বে না, অনেকদিন ধরে চেয়ে আসছি কিছু মানুষ জন্মদিনের শুভেচ্ছাস্বরূপ উপহার দিবে কিন্তু কেউ দেয় নাহ। যখন যা মনে চায় কিনে নেই। মনে হয় চাওয়ার জন্যেও কেউ নেই, দেওয়ার আই মিন নেওয়ার আছে অনেকেই। এই বিষয়ের নিয়মে  অবাক হওয়ার মতো কিছুই নেই। ফেসবুক , মেইল, এস এম এস আর ফোনতো আছেই। তারপর ভালো কোন রেষ্টুরেন্টে খাও আর ঘুমাও, জন্মদিন শেষ, আবার সামনের বছরের জন্য তৈরি হই

 #কিন্তু!
       একটা কথা ! আমি মানুষের থেকে যেটা চাই সেটা হলো একটা চিঠি অথবা চিরকুট।  আমাকে দেওয়ার মতো কি কোন চিঠি নেই ? তাহলে কেনো এই নোট লিখছি আজ ? আসলে মেইলে,  ফেইসবুক, মেসেজে এত্তো এত্তো ই-কার্ড ফ্রী পাঠানোর সুযোগ থাকা সত্বেও অনেকে যখন হাতে লিখে ডাক / কুরিয়ার করে কার্ড পাঠায় তখন মনে হয় আসলে কি আমি এই ভালোবাসার যোগ্য ? বিষয়টা খুউব ভালো লাগে,,,

ভালোবাসার আরো কিছু  মানুষ আছে তারা আমার জন্মদাতা বাবা-মা সাথে আমার  পাঁচ বছরের বড়  আমার বড় আপু। এই বড় আপুর কাছ থেকে আমি অনেক শুভাকাংখীময় ভালোবাসা পেয়েছি, যার যোগ্যও আমি না। আল্লাহ তোমাদোর নেক হায়াত দান করুক।  তাদের অযাচিত ভালোবাসা আর চোখ ভিজিয়ে দেয়ার মতো মমতা পেয়েছি! জীবনে এটা কি কম পাওয়া  ???

মুক্তাগাছা  ময়মনসিংহ
২৩/০৫/২০১৯ ইং
রাত ১২:০১

Sunday, May 12, 2019

বাবা ❤

একটি জীবনের সুন্দর চরিত্র হচ্ছে স্বর্নের চেয়েও মূল্যবান। কিছু চমৎকার অনুপ্রেরণা মূলক উক্তি দুর্বলকে যোগায় শক্তি, দিশেহারাকে দেখায় পথ, অন্ধকারে জ্বালায় আলোর মশাল। হতাশা, ব্যর্থতা, গ্লানির তিক্ত অনুভূতিগুলো যখন ঘিরে ধরে তখন ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সম্বল হয় একটু আশা, একটুখানি সম্ভাবনার হাতছানি। জীবনের কঠিন সময়গুলোতে তোমার মনোবল ধরে রাখতে হৃদয়ে অনুপ্রেরণা যুগিয়ে দিচ্ছো তুমি,,,,,,,,,,

০১:১১
১৩/০৫/২০১৮ ইং
বাবার ছেলে আমি
❤ U বাবা

Wednesday, May 8, 2019

চিঠি

প্রিয় সুমাইয়্যাহ  !
             আমি তোমাকে ভালবাসি। আমি তোমাকে ভালবাসতে শুরু করেছি আজ থেকে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই। ভালোবাসা এভাবে মানুষকে বস করে ফেলে জানা ছিলো নাহ! তোমার মায়ায় পরে তা বুজতে নাহ জানতে বাধ্য নাহ, এবং রীতিমতো জানি। আমি যখন থেকে তোমাকে ভালবাসা শুরু করি তখন আমার মনে এমন কোন চাওয়া ছিল না।  যদি তুমি আমাকে ভালবাসো তবেই আমি তোমাকে ভালবাসব।

আসলে!
      আমি মনে করি ভালবাসা নিশর্তহীন সুতরাং এই যে তুমি আমাকে ভালো বাস না তাতে আমার কোন দুঃখ নেই এবং থাকবেও না।আমি তোমাকে ভালবাসি, আসলে কখনো আমার মাথায় উঁকি দেয় নি এমনকি আজ পর্যন্তও  দিচ্ছে না আমি যখন আমার দুই চোখ বন্ধ করি তখন তোমাকে আমার পাশে দেখি।আমি যখন আমার দুই চোখ খুলি তখনও তোমায় দেখি আমার হৃদয়ের কোটরে সযতনে রাখা তোমার প্রতিচ্ছবিগুলোতে তুমি স্পষ্ট । প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহুর্ত আমি তোমাকে অনুভব করি।পুর্ণিমার চাঁদের সাথে আমি কখনো তোমাকে তুলনা করতে পারি নি কারণ তুমি আমার নিকট পুর্ণিমার চাঁদ থেকে অনেক অনেক বেশি সুন্দর। আজ যে কদিন অতিক্রান্ত হতে চলল, এই কদিনে  এমন কোন দিন ছিল না যে দিন অন্ততঃ একবার হলেও তোমার কথা আমার মনে পড়ে নি। তুমি যখনি আমাকে বলেছ তোমার দ্বারা এসব সম্ভব নাহ আমি তখনি তোমার প্রতি আরো বেশী আকৃষ্ট হয়েছি। আচ্ছা তুমি কি একটুও ভাব নাই তোমার একটু ভালোবাসার স্পর্শ আমার দরকার , আমি কখনো তোমাকে ভুলতে পারব না এবং আমি তা চাই ও না। কারণ তুমি আমার প্রথম  ভালবাসা। স্রষ্টা তোমাকে আমার জন্যই সৃষ্টি করেছেন নাকি জানা নেই তবে আমাকে সৃষ্টি করেছেন তোমাকে ভালবাসার জন্য। তাই হয়তো পাগলামী করছি। আজ তুমি আমার পাশে নেই - তাতে কী হয়েছে, আমি তোমাকে একই ভাবে ভালবেসে চলেছি। এটা এর জন্য নয় যে আমি আর কাউকে পাই নি ভালবাসার জন্য, তোমাকে ভালবাসি বলেতে পেরে আমি সূখী এবং আনন্দিত।

 আমি
    এই আনন্দকে নষ্ট করতে চাই না। আমি তোমাকে এই  আমাকে ভুলে যেতে দিব না বললে ভুল হবে তবে এতটুকু বলবো  আজ থেকে পনের বছর পর  যেন আমাকে তোমার  মনে পরে। ভালবাসা পুরোপুরি একটি জীবনের মত। এটি সবসময় সহজ আচরণ করে না, এটি সবসময় আনন্দ বয়ে আনে না - এই চির সত্যটি আমি ভালো করে জানি।  আমি তোমাকে ভালবাসা বন্ধ করব না কারণ তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণাদানকারী।

আমি জানিনা
       তুমি আমার এসব পাগলামি বিশ্বাস করবে কিনা জানা নেই  তবে আমি যা বলছি তার ষোল আনাই সত্যি।আমি এখনো মনে  বিশ্বাস করি তুমাকে ভালোবাসি  যদিও তুমি  বলো এটি অসম্ভব। তাতে আমার কি আমি তো পাগল। আমি তোমাকে বলি পৃথিবীতে ভালবাসা এমন একটি বিষয় যেখানে অসম্ভব বলে কিছুই নেই। তুমি আমাকে বলেছ তুমি অন্য একজনকেও ভালবাসো না। তোমাকে শুধু বলতে চাই যেখানে যখন তোমার ভালবাসার প্রয়োজন হবে, শুধু স্মরণ রাখবে তোমার এক বন্ধু আছে যে তোমাকে ভালবাসার জন্য তার প্রাণ উৎসর্গ করতে সদা-সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে ।

অসমাপ্ত আমি মুকিম
০৯/০৫/২০১৯ ইং
ময়মনসিংহ

মুক্তাগাছা উপজেলার ঐতিহ্য



 মুক্তাগাছা জমিদারবাড়িইতিহাসের সত্যকে ধারণ করতে গেলে প্রসঙ্গক্রমে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার জমিদার পরিবারের কথাও উঠে আসবে। মুক্তাগাছার রাজ পরিবার ও ভূ-স্বামীদের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ শ্রীকৃষ্ণ আচার্য্য চৌধুরী ১৭২৭ সালে নবাব মুর্শিদকুলি খাঁর অনুগ্রহ লাভ করেন। তিনি জমিদারী সদর দপ্তর বিনোদবাড়ীতে স্থাপন করেন। পলাশীর যুদ্ধের পরপরই আনুমানিক ১৭৬০ সালে শ্রীকৃষ্ণ আচার্য্য চৌধুরীর পর ছেলে রামরাম,হরেরাম,বিষ্ণুরাম ও শিবরাম এ এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।তাদের পূর্ব-পুরুষগণ ছিলেন বগুড়ার অধিবাসী। কথিত আছে,শ্রীকৃষ্ণ আচার্য্য চৌধুরী জমিদারিত্ব নিয়ে এ এলাকায় আসার সময় মুক্তারাম কর্মকার নামের এক দরিদ্র প্রজা পিতলের সুবৃহৎ একটি দ্বীপধার (গাছা) দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানায়। রাজা খুশি হয়ে এক সময়ের বিনোদবাড়ি মুক্তারামের নামের সঙ্গে প্রদত্ত গাছার সঙ্গতি রেখে এ এলাকার নাম দেন  মুক্তাগাছা।প্রজাদের উপর জমিদারদের নির্যাতন-নিপীড়নের কাহিনী যেমন রয়েছে,তেমনি রয়েছে প্রজাবৎসলের ইতিহাস। জমিদারবাড়ীর সামনে দিয়ে জুতা পায়ে ছাতা মাথায় দিয়ে কোন প্রজা গেলে জমিদারদের হুকুমে পাইক বরকন্দজরা তাদের ধরে এনে চাবুক মেড়ে এই দুঃসাহসের সাজা দিত। এহেন শাস্তির ভয়ে প্রজারা জুতা,ছাতা বগলে নিয়ে রাজবাড়ীর আঙ্গিনা অতিক্রম করত।  পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষিত ও প্রজাবৎসল জমিদারদেরও সংখ্যাও নেহায়েৎ কম ছিল না। শ্রীকৃষ্ণ আচার্য্য চৌধুরীর চার পুত্রের মধ্যে কনিষ্ঠ পুত্র শিবরাম আচার্য্য চৌধুরী বাবার ন্যায় পরম ধার্মিক ছিলেন। তিনি ১৭৭৬ সালে দেশময় খাদ্য সংকটের  সময় মুক্ত হস্তে দান করে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ রক্ষায় এগিয়ে আসেন। খুলে দেন রাজকোষের তালা,খাদ্য ভান্ডারের সকল দুয়ার। তার এ মহানুভবতার কথা আজও মানুষের মুখে মুখে গুঞ্জরিত হয়।নাটোরের রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা রঘুনন্দন অপু এক বিধায় দত্তক নেন গৌরীকান্তকে। গৌরীকান্তের পুত্র শশীকান্তের সহধর্মীনি রানী লক্ষীদেবী নিঃসন্তান হওয়ায় ফরিদপুরের মজুমদার বংশের সূর্য্যকান্তকে দত্তক পুত্র রূপে গ্রহণ করেন। এমনি ভাবে দত্তকরাই জমিদারী শাসন করে যায় যুগের পর  যুগ।রাণী লক্ষ্মীদেবীর মৃত্যুর পর রাজবংশের জমিদারী চলে যায় কোর্ট অব ওয়ার্ডসের অধীনে। ১৮৬৭ সালে সূর্য্যকান্ত জমিদারীত্ব ফিরে পান। পরবর্তীতে এই সূর্য্যকান্তই বৃহত্তর ময়মনসিংহের মহারাজা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি রাজশাহী জেলার কমর গ্রামের শ্রী ভবেন্দ্র নারায়ন চক্রবর্ত্তীর কন্যা রাজরাজেশ্বরী দেবীকে বিয়ে করেন।ময়মনসিংহের রাজরাজেশ্বরী ওয়াটার ওয়ার্কাস তারই  স্বাক্ষী যুগ যুগ ধরে বহন করে চলেছে । এ জেলায় বিশুদ্ধ পানি পাওয়ার ইতিহাস এই প্রথম। জমিদার বাড়ির অভ্যন্তরে তার নামের সাথে সঙ্গতি রেখে তৈরী করেন মনোহর কারুকার্যময় এক মন্দির। নাম দেন রাজ রাজেশ্বরী মন্দির। সোনার গহনা দিয়ে জড়ানো হতো মন্দিরের অভ্যন্তরের প্রতিমা গুলোকে। জমিদারদের মধ্যে বিবাদ থাকলেও তারা প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান দূর্গা পূজা পালত করতেন এই মন্দিরকে ঘিরেই। এ ছাড়াও তৈরী করেছিলেন পাথরের শিব মন্দির,রাম কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়,নগেন্দ্র নারায়ন বালিকা বিদ্যালয়।ময়মনসিংহ পৌরসভা হওয়ার অনেক পূর্বেই জমিদারদের উদ্যোগে বেঙ্গল গভর্ণমেন্টের গেজেট নোটিফিকেশন জারীর মাধ্যমে মুক্তাগাছা ইউনিয়ন পৌরসভায় রূপান্তরিত হয়।প্রতিষ্ঠাকালীন পৌর সভায় ছয় জমিদার সূর্য্যকান্ত আচার্য্য চৌধুরী,অমৃত নারায়ন আচার্য্য চৌধুরী,যোগেন্দ্র নারায়ন আচার্য্য চৌধুরী,কেশব চন্দ্র আচার্য্য চৌধুরী,দূর্গাদাস আচার্য্য চৌধুরী ও কেদার কিশোর আচার্য্য চৌধুরী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।১৭৬০ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত প্রায় দু’শ বছর এ এলাকায় জমিদারী প্রথা চালু ছিল। ১৯৫৬ সালে তদানীন্তন সরকার জমিদারী প্রথা বাতিল করলে একমাত্র জমিদার বকুল কিশোর আচার্য্য চৌধুরী ব্যতিত অন্যসবাই ভারতে চলে যান। তিনি মৃত্যুর পূর্ব অবধি এখানে অবস্থান করেন। এখানকার জমিদাররা ছিলেন অত্যন্ত সৌখিন ও শিকারী পাগল। তারা বসবাস ও রাজকার্য পরিচালনার জন্য তৈরী করেন সুউচ্চ একতলা ও দ্বিতল বিশিষ্ট ভবন। ছিল বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা। মধুপুর বনে সদল বলে তাঁবু গেঁড়ে তারা শিকার করত বড় বড় বাঘ,হরিণসহ হিংস্র প্রাণী।জমিদার মহলের সমগ্র আঙ্গিনা ছিল পাকা। হাতি সংগ্রহ ছিল তাদের নেশা। হাতিশালায় মাহুতরা থাকত সদা ব্যস্ত। কে কত বেশী হাতি তাদের হাতিশালায় সংগ্রহ করতে পারে এ নিয়ে চলতো প্রকাশ্য প্রতিযোগিতা। দূর্গা প্রতিমা বিসর্জনে হত সাজানো হাতির মিছিল। সারা বছর জুড়ে চলত যাত্রা,নাটক,কবি গানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান। দেশের বিখ্যাত শিল্পীদের পাশাপাশি ভারত থেকে আনা হত নামকরা শিল্পীদের। আয়োজন করা হত প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলা। ভারতের বিখ্যাত ক্লাব মোহনবাগান,ইষ্ট বেঙ্গল এতে অংশগ্রহণ করতো।সূর্য্যকান্ত আচার্য্য চৌধুরীর বাড়িটি আজ শহীদস্মৃতি সরকারী কলেজ। ঐতিহাসিক সেই দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি পুরনো আদলেই নতুনভাবে সংস্কার করা হয়েছে। রাজা জগৎ কিশোর আচার্য্য চৌধুরীর বাড়িটি আজও দাঁড়িয়ে আছে কালের  স্বাক্ষী  হয়ে। দুবৃর্ত্তরা রাতের আধাঁরে বিভিন্ন ভাস্কর্য,কাঠ,লোহাসহ মূল্যবান প্রত্নতত্ব সম্পদ লুণ্ঠন করে ফুঁকলা করে দিয়েছে রাজবাড়ি। মনকাড়া,দৃষ্টিনন্দন,কারুকার্য খচিত ভবনগুলো অযত্ন আর অবহেলায় আজ বিলুপ্তপ্রায়। এ বাড়ির ঠিক উত্তর পার্শ্বেই ছিল রাজা বিষ্ণুরামের বাড়ি। এখানে স্থাপন করা হয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। বিশাল এলাকা জুড়ে ছিল বড় বড়  অট্রালিকা। ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৫ ফুট প্রস্থ্যের একটি ভবন ছাড়া কিছুই আর এখানে অবশিষ্ট নেই। এ ভবনটি এখন ব্যাটালিয়নের অশ্রাগার হিসেবে ব্যবহত হচ্ছে।এ ছাড়াও তারা জনকল্যাণে জেলার বিভিন্ন স্থানে  স্থাপন করেছিলেন জনহিতকর প্রতিষ্ঠান। সেগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ শহরে কালিবাড়ি স্কুল,আলেকজান্ডার ক্যাসেল,মহিলা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ,বিদ্যাময়ী সরকারী বালিকা বিদ্যালয়,এস কে হাসপাতাল,টাউন হলসহ আরও অনেক। আনন্দ মোহন কলেজ বর্তমানে আনন্দ মোহন বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজ  স্থাপনেও ছিল তাদের  উল্লেখযোগ্য অনুদান। প্রজাদের গোসল ও খাবার পানির জন্য খনন করেন শতাধিক বড় বড় পুকুরসংস্কৃতি কর্মকান্ডে অবদান স্মরণযোগ্য। নাটকের জন্য জমিদার জগৎ কিশোর আচার্য্য চৌধুরীর অন্দর মহলের ভিতরে  স্থায়ী ভাবে নির্মাণ করা হয় ঘূর্ণিয়মান মঞ্চ। যা ভারত উপমহাদেশে দুটির মধ্যে একটি। পরবর্তীতে তা স্থানান্তরিত হয়ে  ময়মনসিংহ টাউন হলে  প্রতিস্থাপন করা হয়।  ছিল বাংলার অন্যতম বৃহৎ পাঠাগার,জীতেন্দ্র কিশোর লাইব্রেরী। র‌্যাগেলের মানচিত্র,বঙ্কিম চট্রপাধ্যায়ের উপন্যাসের প্রথম মুদ্রিত কপি,মীর মোশাররফ হোসেনের রচনার প্রথম মুদ্রিত কপি,রবীন্দ্র ভারতীর অসংখ্য প্রকাশনা,উপ মহাদেশের বিভিন্ন মানচিত্র, চিকিৎসা বিষয়ক বই,কীর্তিমানদের আত্মজীবনী,সংস্কৃত সাহিত্যের গ্রন্থাবলী,ভেষজ চিকিৎসার বই,উদ্যান বিষয়ক গ্রন্থসহ অসংখ্য সংগ্রহ ছিল সেলফে সেলফে ঠাঁসা। ১৯৬৪ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর মূল্যবান বহু গ্রন্থ বেহাত ও নস্ট হয়ে যায়।পরে দশ সহস্রাধিক গ্রন্থ উদ্ধার করে কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড ঢাকায় সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে গ্রন্থ গুলো জিতেন্দ্র কিশোর গ্যালারী নামে বাংলা একাডেমীতে সংরক্ষিত রয়েছে। এ ছাড়াও তাদের বহু মূল্যবান ব্যবহার্য অলংকার,তৈজষপত্র,কাপড়-চোপড়,যুদ্ধাস্র,গন্ডারসহ বিভিন্ন পশুর চামড়া,হাতির দাঁতে বুনন শীতল পাটি ও বিভিন্ন উপকরণ বর্তমানে ময়মনসিংহ জাদু ঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।        জমিদারদের জমিদারী বিলীন হওয়ার সাথে সাথে তাদের বহু বিষয়সম্পত্তি ও কারুকার্যের বাসভবন,মন্দির,নাট মহল,সান বাঁধান ঘাটসহ মূল্যবান স্থাপনা গুলো হয়ে পড়ে জীর্ণ মলিন। ভবনের ইট,সুরকী,আস্ত ধ্বসে পড়েছে। দেয়াল ছাড়াই শুধু খুঁটির উপর দাঁড়িয়ে জানান দিচ্ছে তাদের অতীত অস্থিত্বের

কপি : বাংলাদেশ সরকারি তথ্য ওয়েবসাইট

Tuesday, May 7, 2019

আমাকে_আমি



আমি মানুষ!
             অতি সাধারন একটা মানুষ,,,
পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের কিছু আশা-আকাংখা থাকে, সেটা বাস্তুবে হোক অথবা স্বপ্নে । আমারও তেমন কিছু স্বপ্ন আছে। তাই হাজার মানুষের ভীরে আমিও আমার জীবন খুঁজে বেড়াই। খুঁজে খুঁজে  ক্লান্ত  হই, কখনো থেমে যাই আবার শুরু করি। এতে আমি খুব মজা পাই তাই এভাবেই  বরাবরের মতোই খুঁজে বেড়াই এই আমাকে।

আমি!
     যেখানে আমার জীবনকে সাজাই একদম নিজের মতোকরে সেখানেই তুমি এসে যায়! আচ্ছা বাদ দেই এসব। আমারও তেমন একান্ত কিছু স্বপ্ন আছে, যা আমাকে ভালো কিছু করার প্রেরনা যোগায়।
জীবনে কখনো প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেব মেলানোর চেষ্টা করিনি, হিসেব মেলানোর কোনো ব্যর্থ চেষ্টাও আমার নেই। যেকোনো মুহুর্তকে সহজে গ্রহন করার মানসিকতা লালন করি আমি, তাই হয়ত এমন। জীবনকে সব সময় বুঝতে চেষ্টা করেছি অতি-স্বাভাবিক ভাবে। আদৌও  কি পেরেছি নাকি জানা নেই।

 আমি!
       আসলে আপদ-বিপদ এর অর্থ খুঁজিনা।
আমি বুঝতে চেষ্টা করি না এই পৃথিবীতে যা ঘটমান তার সবই স্বাভাবিক। অস্বাভাবিক হতেই পারেনা, এখানে অস্বাভাবিক নামক শব্দের কোনো স্থান নেই ।
বলতে গেলে যোগ পরিবর্তনশীল তাই পৃথিবীর সাথে আমিও পরিবর্তন হচ্ছি অনবরত। তাই আমার মাঝে এত্তো পরিবর্তন  ঘটছে

আমি!
      এখনো বিশ্বাস করি এই পৃথীবিতে ভালো মানুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, যারা খারাপ কাজে লিপ্ত তারা কেবলি পরিস্থিতির শিকার। তাই ধরে নিয়েছি আমি ভালো মানুশ সব সময় আশীর্বাদ করি জগতের সকল মানুষ সুখে থাকুক,সৌন্দর্য্য গুলো দেহ ছাড়িয়ে মন পর্যন্ত পৌছে যাক, শুভহোক সকল মঙ্গল প্রয়াস…

২য় রমজান
বাদ ফজর
ময়মনসিংহ

কোন এক বিকেল

মাঝে মাঝে রৌদ্রুহীন এই বৃষ্টির বিকেলে হারিয়ে যাই নিরবতার মাঝে, অসহায় হয়ে যাই একাকিত্বের ক্লান্তিতে হতাশার চাদর জড়িয়ে ধরে আমাকে।  বিকেলের...