Sunday, March 31, 2019

গল্প


নিয়তির লেখা


কদিন ধরে কি যেন হয়েছে প্রিয়ন্তির কিছুই ভালো লাগে না। কি যেন ভাবে সবসময় একা একা।সবার মাঝে থেকেও নেই।মনটা তার হঠাৎ করেই অস্থির হয়ে উঠে।চোখ হঠাৎ চিকচিক করে উঠে কোন কারণ ছাড়াই।ছাদে দাঁড়িয়ে কি যেন ভাবছিলো প্রিয়ন্তি পাশে ছোট বোন প্রিয়া কখন এসে দাঁড়িয়ে ছিলো লক্ষ্যই করেনি।
-এখানে একা দাঁড়িয়ে কি করিস আপু?
-কিছু না রুমে দম বন্ধ হয়ে আসছিলো।
-হুম বুঝি বুঝি সবই বুঝি।ভাইয়ার কথা মনে পরছে?
-তুই একটু বেশি পেকে গেছিস।পড়া নেই তোর?যা এখান থেকে।
প্রিয়া কথা না বারিয়ে চলে এলো সেখান থেকে।প্রিয়ন্তির চোখ ভরে এলো কান্নায়।তিন মাস আগে তার বিয়ে হয়।পাতলা গড়ন পানপাতা চেহারা বেশ সুন্দর দেখতে।চুপচাপ স্ববভাব।অনার্স থার্ড ইয়ার এর ফাইনাল পরীক্ষা সামনে।বিয়ের জন্য প্রস্তাব আসলে পাত্তা দিতো না সে।কিন্তু এবার তার মা তাকে পেয়ে বসেছে ভালো একটা প্রস্তাব এসেছে ছেলে আর্মির ক্যাপ্টেন।কোন কিছুই শুনলো না তার মা।শাড়ি হাতে দিয়ে বললো তৈরী হয়ে নে তোকে দেখতে আসবে ছেলের পরিবারের লোক।অনিচ্ছা সত্বেও শাড়ি পড়লো প্রিয়ন্তি অসম্ভব সুন্দর লাগছিলো তাকে।কারও সামনে শাড়ি পরে সেজেগুজে বসে থাকতে হবে ভাবতেই তার গা রি রি করে উঠলো।বিকালে ছেলের মা,বড় বোন,ছেলে,ছেলের দুলাভাই এলো তাকে দেখতে।তাদের সামনে বসে আছে প্রিয়ন্তি এক এক প্রশ্ন করছিলো তারা সে শুধু মাথা নিচু করে উত্তর দিয়ে যাচ্ছিল। প্রশ্ন উত্তর পর্ব শেষ করে ছেলের সাথে আলাদা কথা বলার পর্বও বাকি রইলো না।ইফতির সাথে কথা বলার সময় দু'বার তাকিয়ে ছিলো তার দিকে।প্রথম দেখেই প্রেমে পড়ে যাবার মতো চেহারা তার।যাই হোক পছন্দ হয়েছে ইফতিকে।যদিও বা তেমন কথা বলেনি।আসলে কি বলবে বুঝতে পারছিলো না সে।নিরবতা ভেঙ্গে ইফতি বললো
-আপনার চোখগুলো দারুন মায়াবী জানেন আপনি?
আপনার নামটাও সুন্দর
প্রিয়ন্তি কিছু বলেনি চুপ করে শুনছিলো।লজ্জা করছিলো তার।
ইফতি ব্যাপারটা বুঝতে পেরে বললো
-ঠিক আছে আপনাকে কিছু বলতে হবে না।চলুন উঠি।
তারা চলে যাবার পর প্রিয়ন্তি তার রুমে গিয়ে আয়নায় সামনে দাঁরিয়ে মনে মনে ভাবছিল সত্যিই চোখ দুটো মায়াবী?পরদিন ইফতির মা কল করে জানালেন তাদের মেয়ে পছন্দ হয়েছে তারা বেশি দেড়ি করতে চান না।আর প্রিয়ন্তির বাসায় সবাই রাজি।বিয়ের দিন ঠিক হলো ১৫ দিন পরে কারন ইফতির ট্রেনিং এ চলে যেতে হবে।২দিন পরে অপরিচিত নাম্বার থেকে কল এলো প্রিয়ন্তির।রিসিভ করলো সে
-প্রিয়ন্তি বলছিলেন?
-জ্বী বলছিলাম।আপনি কে?
-আমি ইফতি।সকালে মা আন্টির কাছ থেকে আপনার নম্বরটা নিলো ভাবলাম একটু কল দেই।ব্যস্ত আপনি?
-না তেমন কিছু করছিলাম না।বাসার সবাই ভালো আছে?
-হুম আছে দুদিন পরে আমার বিয়ে তো।তাই সবাই একটু ব্যস্ত।
-(হেসে ফেলে বললো) তাই আপনার বিয়ে?
-জি আমার বিয়ে।আপানার সাথে কি বাহিরে দেখা করা যাবে?
-হুম কোথায় আসতে হবে বলুন?
-আসতে হবে না আপনি আপনার বাসার নিচে দাঁড়াবেন আমি আপনাকে পিক করবো।বিকালে রেডি থাকবেন।
বিকালে প্রিয়ন্তি রডি হয়ে বাসার নিচে গিয়ে দেখে ইফতি দাঁড়িয়ে আছে।মেরুন কালারের শার্টে বেশ লাগছিলো তাকে।কাছে যেতেই একগাদা গোলাপ তার হাতে দিয়ে বললো 
-এগুলো আপনার জন্য।
সে ফুলগুলো হাতে নিলো।ইফতির সাথে সময় কাটাতে খুব ভালো লাগছিলো তার।রসিক ধরণের মানুষ।একটু বেশি কথা বলে ভালোই লাগে স্বভাবটা।দেখতে দেখতে বিয়ের দিন চলে এলো।ধুমধাম করে বিয়েও হলো।১ মাস পরে ইফতি চলে যায় ট্রেনিং এর জন্য চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট এ।প্রিয়ন্তিও তার ফাইনাল পরীক্ষাটা বাবার বাসা থেকেই দেবে বলে চলে এলো। কিন্তু লাভ হলো কই?পড়ায় কোন ভাবেই মনযোগ নেই তার ওদিকে ইফতিও খুব ব্যস্ত দিনে এক ঘণ্টাও কথা হয় না। কিছুই ভালো লাগে না তার।সময়গুলো কাটতেই চায় না।
ইফতির ও মনে পড়ে প্রিয়ন্তির কথা কিন্তু তার কিছুই করার নেই তবে সামনে ওর জন্মদিন।অন্তত্য জন্মদিনটাতে তাকে একটা সারপ্রাইজ দেয়াই যায়।অনেক কষ্টে ২ দিনের ছুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে ইফতি।একটা শাড়িও কিনে নিলো।রাতের বাসে উঠলো কিন্তু শেষ পর্যন্ত পৌঁছালো না ইফতি প্রিয়ন্তির কাছে।বেপরোয়া গাড়ি চালানোর জন্য এক্সিডেন্ট করে বাসটি।ইফতি মারা যায়।হতবাক প্রিয়ন্তি দেখছে তার লাশ।ছেড়ে চলে গেলো মানুষটা?কি নিয়ে বাঁচবে সে এখন?
তারপর কেটে গেলো ৭টা বছর।প্রতি বছর সে কবর জিয়ারত করতে যায়।ভুলে যায় নি ইফতিকে।নতুন করে ভাবে নি কিছু।
-কবর কি?
-মানুষ মারা গেলে কবর দিতে হয় মা।
-এটা কার কবর?
-তোমার বাবার।
-আমার বাবা মারা গেছে?
৬ বছরের ফুটফুটে বাচ্চাটার প্রশ্নের উত্তর দিলো না সে শুধু চোখ থেকে পানি পড়লো।আফসোস হয় ইফতিকে একটা বার জানাতে পারেনি তার কথা!!!

কল্পিত কথা ২



কেডা তুমি?
-আমি মজনু মিয়া
-তুমি কেডা
- আমি চানু
-তয় এই রাইতের বেলা কিতা করো এই চাংগে?
-কিছু করি না, মন পাখিরে ভাবতাছি।
-কি হইছে তোমার হেইডা কও ?
-কিছু হয় নাই
-তো পাগলের লাহান এমন করতাছো ক্যান? পাগল হইয়া গেলা নাকি?
 - হ চানু মিয়া, পাগল হইয়া গেছি!
-কি বল আবুল তাবুল,হইছে কি হেইডা কও?
-কিচু হয় নাই, আসলে পিরিতের মানুষে কষ্ট পাইছে!  ভুল কইরা একটা কতা কইয়া ফালছি, মনে হয় হে খুব কষ্ট পায়ছে।
- তে হেরে বুঝায় কও সবকিছু
- হ কইছিই তো হে মনয় আমারে খুব ভালোবাসে তাই মাফ কইরা দিছে বইলা কইলো। একবার আই লাভ ইউটুও কইছে।
কিন্তু আগের লাহান আর কতা কয় না
দেহা করবার আইয়া খালি থুম মাইরা খারাই থাহে
দিনকাল  খারাপ যাচ্চে গো চানু মিয়া।

১৭/১০/২০১৮ ইং
তালতলা
ময়মনসিংহ

কল্পিত কথা_১



-ঐদিন হঠাৎ এসে হাত ধরেছিলে কেনো?
-কেনো কি হয়েছে?
-কিছু না, তবে,,,
-তবে কি ভয় পেয়েছিলে?
-হুমমমম
-আচ্ছা তুমি সবসময় আমাকে নিয়ে এমন ভয়ে থাকো কেনো?
- হুমম থাকি কিন্তু ভয়টা কোন বস্তু বা ব্যাক্তিকে নাহ! তোমাকে হারানোর ভয় পাই, প্রচুর ভয় পাই,,,,,!
- আচ্ছা আমি যদি হারিয়ে যায় তহলে কি করবে ?
- আমিও হারিয়ে যাব!
-কোথায় হারাবে?
-তোমার হারানো শহরে,,,,,

মুক্তাগাছা 

তুমি


-ভাইয়া ফুলটা দিবা?
-আচ্ছা নাও।
-বড়টা কিন্তু?
-ঠিক আছে নাও( সত্য তোমার জন্যেই ফুলের গাছটা কিনেছি)
-আচ্ছা ভাইয়া তোমাকেও তো কিছু দেওয়া লাগে?
-না সমস্যা নেই, কিছু লাগবে না!
-না লাগবেই,,,,,
-আচ্ছা বলো কী দিবা?
-ওম্মম্ম তোমাকে একটা কাগজের  ফুলের ওয়ালমেট বানিয়ে দিব।
-  আচ্ছা বানিয়ে দিও,,,,,
- নিবা তো ??
- হুমমম নিবো।
-ওকে
সর্বপ্রথম ভালোবাসার পরশ ভুলিয়েছো
          #তোমার_অপেক্ষায়_থাকবো,,,,,,,,,

১৯/১১/২০১৮ইং
ময়মনসিংহ

মিষ্টি সকাল



প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে দেরী করে উঠি।আর শুক্রবারতো বিশেষ দিন একদম এগারোটা।কিন্তু আজকে
 আটটায় দরজা নক হচ্ছে কারণ কি? চখে ঘুম ঘুম ভান নিয়েই দরজাটা খুলে আবার শুয়ে পরলাম বিছানাতে। সাথে সাথে ঘুম। বুঝি নাই দেখিও নাই যে, কে এসেছে।
কিছুক্ষণ পর  একজন ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকছে,,,,,,,,
- ভাইয়া শুনছো,,,,,,
- হু বলো শুনছি আমি মাথা দিয়ে হ্যাঁ সূচক জানাই
-একি!  কে আমার রুমে? 😕আরে তুমি আমার রুমে কখন আসলা???
- রাতে,,,,
- ফাইলামি করছো?
- হুমম। আধ ঘন্টা আগে অাসছি
-অ কেন আসছো???
- গিফট কটতে
- কিসের গিফট ? কার গিফট?আর কি উপলক্ষে গিফট?
-আমার মন চেয়েছে তোমাকে গিফট দিতে তাই দিলাম। আর কিছু জানি নাহহ।
-এতো সুন্দর  কাগজের ফুল কে বানালো??
- তোমার মাথা বানিয়েছে আমি গেলাম আমাকে অার কিছু বলার সুযোগ-ই দিল নাহ!বলেই চলে গেল!!!
যাই হোক ফুল দেওয়ার কারণ আমার জানা নেই। তবে আজ এই পর্যন্তই,,,,
আমার খুব করে জানতে ইচ্ছা হয়, মানুষটা অামার এত্তো খেয়াল কেন করে? সবসময় চেয়ে আমাকে দেখে। এটা সেটা জিজ্ঞেস করে। নাহহহ আজকে আর কিছু বলবো নাহহহ
ধন্যবাদ
#মায়াবতী
০১/০২/২০১৯ ইং





অনুভূতি



ঘড়িতে 05:07 বাজে। আচমকা  মিস্টি কন্ঠের বসন্তের কোকিলের গুঞ্জনে বিকেলে ঘুম ভাঙ্গে গেল আমার! তারপর জালানার পর্দা সরিয়ে দিয়ে তাকিয়ে দেখলাম পাশের ছাদে একটা মেয়ে রেলিংয়ে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কি যেন অনুভব করছে মেয়েটা, আর আমি তার দিকে তাকিয়ে তাকে নিয়ে অনুভব করছি, খুব ভালো লাগছিল হঠাৎ সে আমাকে দেখে ফেলল আমাকে দেখে লজ্জায় তার লজ্জামাখা মুখটা ঢেকে নিল! হঠাৎ দেখি শেষ বিকেলের সোনালী আলো এসে পড়েছে মেয়েটার চোখে মুখে। মেয়েটার মুখে যেন বিধাতা সবটুকু মায়া ঢেলে দিয়েছে। আর সেই অপূর্ব মায়া আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দেখছি! আমি দেখতে দেখতে মুগ্ধ! হঠাৎ দেখি জালানা দিয়ে মেয়েটিকে আর দেখা যাচ্ছে না, মেয়েটিকে আর দেখা যাচ্ছে না! কোথায় গেল সেই মেয়েটি, কোথায় হারালো, সে কি চলে গেল ? নাকি চলে গিয়ে হৃদয়ে থেকে গেল,,,,,,,,,,,,,


   14/03/18 ইং
মুক্তাগাছা, মোমেনশাহী

ছড়া

ভেজাল

একি হলো দেশের হাল
সব কিছুতে ভেজাল
ভালো জিনিস খোঁজে পাওয়া
বড়ই যে আকাল।

চালে ভেজাল ডালে ভেজাল
আরও ভেজাল তেলে
ভেজালকারীদের ধরে সব
দিতে হবে জেলে।

ভেজাল বিরোধী আইন আছে
নেই আইনের বাস্তবতা।
তাই যদি হয় অমন অাইন
কিবা আছে স্বার্থকথা।

গল্প


অপেক্ষা

আজ সুবহার ১৫তম জন্মদিন।সকাল থেকেই আশ্রমের সবাই এটা নিয়ে হই হুল্লোড় করছে। মনি মা এর কড়া হুকুম সন্ধ্যের মদ্ধ্যে পুরো আশ্রমটা সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে হবে। আশ্রমের ছোট বড় সবাই ফুল দিয়ে আশ্রমটা সাজাতে ব্যস্ত। সুবহা নিজের ঘরে বসে আছে। ওর ঘরটা দোতলায়।নিচে সবাই ব্যস্ত।সুবহা আপন মনে বসে ভাবছে। দেখতে দেখতে পুরো দশ বছর আশ্রমেই কাটিয়ে ফেলল সে।আজো ঝাপসা ঝাপসা মনে পড়ে তার সেদিন এর কথা। সে পাঁচ বছরের বাচ্চা মেয়ে ছিলো তখন। তাদের প্রতিবেশী রুমা আন্টি তাকে এই আশ্রমে নিয়ে আসে। রুমা আন্টি না থাকলে তার কি যে হতো ভেবেই কান্না পায় তার। আজ মা বাবার কথাও তার খুব মনে পড়ছে। সুবহা তাদের খুব আদরের ছিলো। সুবহা উচ্চ বংশের মেয়ে ছিলো। বাবা কাকাদের নিয়ে একান্নবর্তী পরিবার ছিলো তাদের।সুবহার পাঁচ তম জন্মদিনে তার বাবা অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান। তার বাবার মৃত্যু সংবাদ শোনা মাত্র তার মা ও হার্ট অ্যার্টাক করে সেদিনই মারা যান। সুবহা তখন মৃত্যু কি বুঝত না। শুধু বুঝতে পারল কিছু একটা খারাপ হয়েছে। পরদিন সকাল থেকে সে তার বাবা মা কে খুঁজতে থাকে। কিন্তু সারা বাড়িতে খুঁজেও বাবা মাকে পায়নি সে। খুব কষ্ট হয়েছিল তার। তার কাকি মনি তাকে একদম সহ্য করতে পারত না।পরদিন যখন সে বাবা মাকে খুঁজে আনার জন্য বায়না করেছিলো, তখন তার কাকি মনির কথায় তার কাকু মনি তাকে টেনে বাড়ির বাইরে বের করে মুখের উপর দরজা দিয়ে দিয়েছিলো। ছোট্ট সুবহা বাইরে বসে কান্না করছিলো। পাশের বাড়ির রুমা আন্টি তাকে দেখতে পেয়ে সাথে করে তার বাসায় নিয়ে গিয়েছিলো। রুমা আন্টি সুবহার কাকি মনির সাথে কথা বলেছিলো সুবহার ব্যাপারে। কিন্তু সুবহার কাকি মনি ওকে বাড়িতে নিয়ে যেতে রাজী হয়নি। এরপর রুমা আন্টি সুবহার নানা বাড়ির লোকজনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তার দুই দিন পরই রুমা আন্টি তাকে এই আশ্রমে রেখে যায়। রুমা আন্টি প্রায় তার সাথে দেখাও করতে আসে।
এখন এই আশ্রমটাই সুবহার সব। আর তার জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষ তার মনি মা। যাকে ছাড়া সুবহার জীবন অর্থহীন। মনি মাকে সে তার নিজের জীবনের চাইতেও বেশি ভালোবাসে। এই একজন মানুষের জন্যই সুবহার জীবনটা এত রঙিন লাগে।
মনি মা এই দোতলা অনাথ আশ্রমটির কর্ণধার। ২০ বছর ধরে উনি এই অনাথ আশ্রমটা চালাচ্ছেন। পুরো আশ্রমের সবাই জানে যে মনি মা সুবহাকে নিজের মেয়ের মতই ভালোবাসে। আর সুবহার কাছে মনি মা ই যেনো নিজের প্রাণ। 
-- সুবহা।
সুবহা নিজের নাম তা শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখল মনি মা দরজায় দাঁড়িয়ে আছে।মনি মাকে দেখেই সুবহা দৌড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরল।মনি মা বলল..
-- এই যে মেয়ে, একা একা ঘরে বসে কি হচ্ছে শুনি। বাইরে যেতে পারিস না নাকি? সবাই বাইরে কত মজা করছে, আর তুই ঘরে বসে আছিস।
--উহহ মনি মা, তুমি কোথায় ছিলে এতক্ষণ? একবারও তো আসলে না আমায় ডাকতে?
--আজ তো আমার মেয়ের জন্মদিন। আমার যে অনেক কাজ ছিল রে। আচ্ছা সুবহা, এইবার ঝটপট বল তো, তোর জন্মদিনে তুই কি গিফট চাস?
-- আমি যা চাইব সেটা দেবে তো মনি মা?
-- হুম, দেবো। আগে বল কি চাস?
সুবহা মনি মাকে ছেড়ে দিয়ে বলল..
-- তোমাকে চাই মনি মা। কখনো ছেড়ে যেও না আমায়, প্লিজ। তুমি আমাকে ছেড়ে গেলে আমি ঠিক মরে যাব।
--এসব কি কথা বলছিল তুই? অনেক হয়েছে, এবার থাম। আমি কখনো তোকে ছেড়ে কোথাও যাব না, বুঝলি তুই? বোকা মেয়ে।
--হুম, মনে থাকে যেনো।(আবার মনি মাকে জড়িয়ে ধরল সে)
--হুম থাকবে।এবার তৈরি হয়ে নিচে আয়।আমি তোর জন্য পায়েস করেছি। তারাতারি চলে আসিস কিন্তু। আমি যাই এখন।
এই বলে মনি মা চলে গেলো। একটু পর সুবহা খুব সুন্দর করে সেজে গুজে নিচে নামলো। সুবহা চারদিকে চোখ বুলিয়ে নিলো। আশ্রমটা এত সুন্দর করে তার জন্য সাজানো হয়েছে ভেবে চোখে জল চলে এলো সুবহার। রুমা আন্টিও এসেছে।
সবার সব কাজ শেষ। সবাই সুবহা কে নিয়ে ব্যস্ত।টেবিলে কেক টাও সাজিয়ে রাখা আছে। সবাই খুব উৎফুল্ল হয়ে আছে কেক কাটার জন্য।
মনি মা বলল.. 
--কেকটা কাটার আগে আমি সুবহাকে পায়েসটা খাওয়াতে চাই।আমি রান্না ঘর থেকে পায়েস টা নিয়ে আসছি।
সবাই মনি মার কথায় সায় দিলো। মনি মা পায়েস আনতে রান্না ঘরে চলে গেলো, আর ঠিক তখনি লোডশেডিং হয়ে গেলো।পুরো আশ্রম অন্ধকারে ঢেকে গেলো। 
এমন সময় রান্না ঘর থেকে মনি মার করুন চিৎকার ভেসে এলো। সবাই শুনতে পেলো সেই আর্ত চিৎকার। সুবহা সাথে সাথে বলে উঠল..
-- কি হলো, মনি মা চিৎকার করল কেনো ??
ঠিক তখনি কারেন্ট চলে আসলো। সুবহা সহ আরও বাকি সবাই দৌড়ে গেলো রান্নাঘরে।সুবহা রান্না ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখতে পেলো, রান্নাঘরের মেঝেতে রক্ত আর রক্ত।মনি মা মেঝেতে পরে কাতরাচ্ছে।তার পেটে একটা আঁশবটি ঢুকে আছে। সুবহা মনি মা বলে জোরে একটা চিৎকার করে সাথে সাথেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলল....।
দুই মিনিটের লোডশেডিং এ দুটি জীবনের আলো নিভে গেলো। তবে দুই জনের জীবনের আলোটা আলাদা আলাদা ভাবে নিভে গেলো। মনি মা চলে গেলো। আর সুবহার আলো ভরা জীবন অন্ধকারে রুপ নিলো। ৪ বছর পর।

মানসিক হাসপাতালের রুম নম্বর ৩২।।
-- সুবহা দেখো, তোমার জন্য আমি কি এনেছি। পায়েস। কি, খাবে না তুমি? এদিকে আসো তো আমি খাইয়ে দেই।
সুবহা মাথা তুলে বলল..
-- ওই ছায়া আপু, তুমি জানো না নাকি? আমার মনি মা আমার জন্য পায়েস আনতে রান্নাঘরে গেছে। এক্ষুনি এসে যাবে। একটু দাঁড়াও না, মনি মা আসবে।
ছায়া এই মানসিক হাসপাতালে ২০ বছর ধরে কাজ করছে। বিগত চার বছর ধরে সে সুবহার দেখাশোনা করছে।মনি মার মৃত্যুর পর থেকেই সুবহা মানসিক ভাবে অসুস্থ।মাঝে মাঝে সুবহার রুমা আন্টি এসে ওকে দেখে যায়। এই চার বছরে ছায়া যখনি সুবহা কে পায়েস খাওয়াতে গিয়েছে, তখনি সুবহা এই একি কথা বলেছে। জোর করলে পায়েস এর বাটি ফেলে দিয়েছে, নয়ত জিনিস পত্র ভাঙচুর করেছে। তাই ছায়া আর বৃথা চেষ্টা করল না। ছায়া জানে, সুবহাকে বুঝিয়ে কোনো লাভ হবে না। সে যে এখন ও তার মনি মার জন্য অপেক্ষা করছে। আর আগামী তেও করবে।
আচ্ছা, এই অপেক্ষা কি কখনো শেষ হবে??

গল্প


অপেক্ষা

আজ সুবহার ১৫তম জন্মদিন।সকাল থেকেই আশ্রমের সবাই এটা নিয়ে হই হুল্লোড় করছে। মনি মা এর কড়া হুকুম সন্ধ্যের মদ্ধ্যে পুরো আশ্রমটা সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে হবে। আশ্রমের ছোট বড় সবাই ফুল দিয়ে আশ্রমটা সাজাতে ব্যস্ত। সুবহা নিজের ঘরে বসে আছে। ওর ঘরটা দোতলায়।নিচে সবাই ব্যস্ত।সুবহা আপন মনে বসে ভাবছে। দেখতে দেখতে পুরো দশ বছর আশ্রমেই কাটিয়ে ফেলল সে।আজো ঝাপসা ঝাপসা মনে পড়ে তার সেদিন এর কথা। সে পাঁচ বছরের বাচ্চা মেয়ে ছিলো তখন। তাদের প্রতিবেশী রুমা আন্টি তাকে এই আশ্রমে নিয়ে আসে। রুমা আন্টি না থাকলে তার কি যে হতো ভেবেই কান্না পায় তার। আজ মা বাবার কথাও তার খুব মনে পড়ছে। সুবহা তাদের খুব আদরের ছিলো। সুবহা উচ্চ বংশের মেয়ে ছিলো। বাবা কাকাদের নিয়ে একান্নবর্তী পরিবার ছিলো তাদের।সুবহার পাঁচ তম জন্মদিনে তার বাবা অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান। তার বাবার মৃত্যু সংবাদ শোনা মাত্র তার মা ও হার্ট অ্যার্টাক করে সেদিনই মারা যান। সুবহা তখন মৃত্যু কি বুঝত না। শুধু বুঝতে পারল কিছু একটা খারাপ হয়েছে। পরদিন সকাল থেকে সে তার বাবা মা কে খুঁজতে থাকে। কিন্তু সারা বাড়িতে খুঁজেও বাবা মাকে পায়নি সে। খুব কষ্ট হয়েছিল তার। তার কাকি মনি তাকে একদম সহ্য করতে পারত না।পরদিন যখন সে বাবা মাকে খুঁজে আনার জন্য বায়না করেছিলো, তখন তার কাকি মনির কথায় তার কাকু মনি তাকে টেনে বাড়ির বাইরে বের করে মুখের উপর দরজা দিয়ে দিয়েছিলো। ছোট্ট সুবহা বাইরে বসে কান্না করছিলো। পাশের বাড়ির রুমা আন্টি তাকে দেখতে পেয়ে সাথে করে তার বাসায় নিয়ে গিয়েছিলো। রুমা আন্টি সুবহার কাকি মনির সাথে কথা বলেছিলো সুবহার ব্যাপারে। কিন্তু সুবহার কাকি মনি ওকে বাড়িতে নিয়ে যেতে রাজী হয়নি। এরপর রুমা আন্টি সুবহার নানা বাড়ির লোকজনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তার দুই দিন পরই রুমা আন্টি তাকে এই আশ্রমে রেখে যায়। রুমা আন্টি প্রায় তার সাথে দেখাও করতে আসে।
এখন এই আশ্রমটাই সুবহার সব। আর তার জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষ তার মনি মা। যাকে ছাড়া সুবহার জীবন অর্থহীন। মনি মাকে সে তার নিজের জীবনের চাইতেও বেশি ভালোবাসে। এই একজন মানুষের জন্যই সুবহার জীবনটা এত রঙিন লাগে।
মনি মা এই দোতলা অনাথ আশ্রমটির কর্ণধার। ২০ বছর ধরে উনি এই অনাথ আশ্রমটা চালাচ্ছেন। পুরো আশ্রমের সবাই জানে যে মনি মা সুবহাকে নিজের মেয়ের মতই ভালোবাসে। আর সুবহার কাছে মনি মা ই যেনো নিজের প্রাণ। 
-- সুবহা।
সুবহা নিজের নাম তা শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখল মনি মা দরজায় দাঁড়িয়ে আছে।মনি মাকে দেখেই সুবহা দৌড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরল।মনি মা বলল..
-- এই যে মেয়ে, একা একা ঘরে বসে কি হচ্ছে শুনি। বাইরে যেতে পারিস না নাকি? সবাই বাইরে কত মজা করছে, আর তুই ঘরে বসে আছিস।
--উহহ মনি মা, তুমি কোথায় ছিলে এতক্ষণ? একবারও তো আসলে না আমায় ডাকতে?
--আজ তো আমার মেয়ের জন্মদিন। আমার যে অনেক কাজ ছিল রে। আচ্ছা সুবহা, এইবার ঝটপট বল তো, তোর জন্মদিনে তুই কি গিফট চাস?
-- আমি যা চাইব সেটা দেবে তো মনি মা?
-- হুম, দেবো। আগে বল কি চাস?
সুবহা মনি মাকে ছেড়ে দিয়ে বলল..
-- তোমাকে চাই মনি মা। কখনো ছেড়ে যেও না আমায়, প্লিজ। তুমি আমাকে ছেড়ে গেলে আমি ঠিক মরে যাব।
--এসব কি কথা বলছিল তুই? অনেক হয়েছে, এবার থাম। আমি কখনো তোকে ছেড়ে কোথাও যাব না, বুঝলি তুই? বোকা মেয়ে।
--হুম, মনে থাকে যেনো।(আবার মনি মাকে জড়িয়ে ধরল সে)
--হুম থাকবে।এবার তৈরি হয়ে নিচে আয়।আমি তোর জন্য পায়েস করেছি। তারাতারি চলে আসিস কিন্তু। আমি যাই এখন।
এই বলে মনি মা চলে গেলো। একটু পর সুবহা খুব সুন্দর করে সেজে গুজে নিচে নামলো। সুবহা চারদিকে চোখ বুলিয়ে নিলো। আশ্রমটা এত সুন্দর করে তার জন্য সাজানো হয়েছে ভেবে চোখে জল চলে এলো সুবহার। রুমা আন্টিও এসেছে।
সবার সব কাজ শেষ। সবাই সুবহা কে নিয়ে ব্যস্ত।টেবিলে কেক টাও সাজিয়ে রাখা আছে। সবাই খুব উৎফুল্ল হয়ে আছে কেক কাটার জন্য।
মনি মা বলল.. 
--কেকটা কাটার আগে আমি সুবহাকে পায়েসটা খাওয়াতে চাই।আমি রান্না ঘর থেকে পায়েস টা নিয়ে আসছি।
সবাই মনি মার কথায় সায় দিলো। মনি মা পায়েস আনতে রান্না ঘরে চলে গেলো, আর ঠিক তখনি লোডশেডিং হয়ে গেলো।পুরো আশ্রম অন্ধকারে ঢেকে গেলো। 
এমন সময় রান্না ঘর থেকে মনি মার করুন চিৎকার ভেসে এলো। সবাই শুনতে পেলো সেই আর্ত চিৎকার। সুবহা সাথে সাথে বলে উঠল..
-- কি হলো, মনি মা চিৎকার করল কেনো ??
ঠিক তখনি কারেন্ট চলে আসলো। সুবহা সহ আরও বাকি সবাই দৌড়ে গেলো রান্নাঘরে।সুবহা রান্না ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখতে পেলো, রান্নাঘরের মেঝেতে রক্ত আর রক্ত।মনি মা মেঝেতে পরে কাতরাচ্ছে।তার পেটে একটা আঁশবটি ঢুকে আছে। সুবহা মনি মা বলে জোরে একটা চিৎকার করে সাথে সাথেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলল....।
দুই মিনিটের লোডশেডিং এ দুটি জীবনের আলো নিভে গেলো। তবে দুই জনের জীবনের আলোটা আলাদা আলাদা ভাবে নিভে গেলো। মনি মা চলে গেলো। আর সুবহার আলো ভরা জীবন অন্ধকারে রুপ নিলো। ৪ বছর পর।

মানসিক হাসপাতালের রুম নম্বর ৩২।।
-- সুবহা দেখো, তোমার জন্য আমি কি এনেছি। পায়েস। কি, খাবে না তুমি? এদিকে আসো তো আমি খাইয়ে দেই।
সুবহা মাথা তুলে বলল..
-- ওই ছায়া আপু, তুমি জানো না নাকি? আমার মনি মা আমার জন্য পায়েস আনতে রান্নাঘরে গেছে। এক্ষুনি এসে যাবে। একটু দাঁড়াও না, মনি মা আসবে।
ছায়া এই মানসিক হাসপাতালে ২০ বছর ধরে কাজ করছে। বিগত চার বছর ধরে সে সুবহার দেখাশোনা করছে।মনি মার মৃত্যুর পর থেকেই সুবহা মানসিক ভাবে অসুস্থ।মাঝে মাঝে সুবহার রুমা আন্টি এসে ওকে দেখে যায়। এই চার বছরে ছায়া যখনি সুবহা কে পায়েস খাওয়াতে গিয়েছে, তখনি সুবহা এই একি কথা বলেছে। জোর করলে পায়েস এর বাটি ফেলে দিয়েছে, নয়ত জিনিস পত্র ভাঙচুর করেছে। তাই ছায়া আর বৃথা চেষ্টা করল না। ছায়া জানে, সুবহাকে বুঝিয়ে কোনো লাভ হবে না। সে যে এখন ও তার মনি মার জন্য অপেক্ষা করছে। আর আগামী তেও করবে।
আচ্ছা, এই অপেক্ষা কি কখনো শেষ হবে??

চিঠি

প্রিয় মুনতাহা!!!

                 হয়তো ভালোই আছো। আমিও তোমার মতোই ভালো আছি। আজ বেশ কিছুদিন যাবত তোমার সাথে যোগাযোগ না থাকাতে মনটাতে বিষণ্ণতার ছাপ লেগে গিয়েছিলো ! কিন্তু এখন যোগাযোগ হওয়া পর থেকে মনকে বেশ শান্তনা দিতে পাচ্ছি বলে মনে হচ্ছে । তুমি জানো, তোমার ভালোবাসাতে আমি মুগ্ধ। আমার চাওয়া থেকে বেশী ভালোবাসা আমি পেয়েছি তোমার থেকে। এতোটুকু ভালোবাসা আমি চাই নাই। তোমার থেকে বেশী হয়তো কেউ আমাকে ভালোবাসতে পারবে কিনা আমার জানা নেই। আমি তো ছন্নছাড়া অগুছালো ছিলাম। এখন এই অামি যতোটা গুছানো সবটুকুই তো তুমিই গুছিয়ে দিয়েছো। একটা ছেলের অগুছালো জীবন যে গুছিয়ে দেয় তারকাছে চির কৃতজ্ঞ হয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু সম্ভব  বলে মনে হচ্ছে  নাহহ।

জানো!!!
        আমি তোমার অভিমানের কাছে সবচেয়ে বেশী দুর্বল।  যতোটুকু না তোমাকে ভালোবাসে আমি দুর্বল  তার থেকে বেশী দুর্বল তোমার অভিমনের কাছে।  যখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে, তখন আমি এলোমেলো হয়ে যাই। অামার ভুলের কারণে তুমি যখন অভিমান করো তখন তোমার অভিমান করা আর আমার কাজের উপর খুব করে ঘৃণা আসে। তবে তুমি আমাকে আজ এতোটা ভালোবাসো কারণে হয়তো তুমি তোমার অভিমানের কাছে হেরে গিয়ে আমার কাছে চলে এসো।  জানি না তোমাকে ছাড়া থাকতে পাবো কি নাহ! তবে সারাজীবন ভালোবেসে যাব,,,,

তুমি কি আমাকে তোমার চোখের কাজল  করে রেখে দিতে পারবে চিরকাল? আমাকে নিয়ে হারিয়ে যেতে পারবে ? যে দেশে মন স্বাধীন  ছাড়া কোন আইন চলে নাহহহ,,

 ০৮/০২/২০১৯ইং
ময়মনসিংহ বাংলাদেশের 

কবিতা

হৃদয় ভুবন


 যে ভূবনে  বাস মোর জানিনা তেমায়,
কেন হঠাৎ করে ডাকিলে আমায়।
পৃথিবীর রং রুপ সবই যে মধুর,
আমাদের  মাঝে শুধু ব্যবধান  সুদূর !
ও পারেতে তুমি শুধু জানিবে অামায়
হৃদয়ের ভালোবাসা পাঠাবো তোমায়।
তোমার আমার মাঝে কাচের দেয়াল,
সবকিছু বুঝা যায় করিও খেয়াল।
হে প্রিয়!  যাবে কি মোর হৃদয় ভুবনে ?
দেবী এসে নিয়ে যাবে ঘুমে স্বপনে।
আমার ভুবনে থাকি আমি নিজ ভাবনায়,
তোমার ভুবন কেন আমাকে জড়ায়?
অ বন্ধু তুমি যে মনের প্রেমিক
তোমার যে প্রেম গভীর, সে কথা ঠিক।

১১/১১/২০১৮ ইং
ময়মনসিংহ

স্মৃতি

-ভাইয়া ফুলটা দিবা?
-আচ্ছা নাও।
-বড়টা কিন্তু?
-ঠিক আছে নাও( সত্য তোমার জন্যেই ফুলের গাছটা কিনেছি)
-আচ্ছা ভাইয়া তোমাকেও তো কিছু দেওয়া লাগে?
-না সমস্যা নেই, কিছু লাগবে না!
-না লাগবেই,,,,,
-আচ্ছা বলো কী দিবা?
-ওম্মম্ম তোমাকে একটা কাগজের  ফুলের ওয়ালমেট বানিয়ে দিব।
-  আচ্ছা বানিয়ে দিও,,,,,
- নিবা তো ??
- হুমমম নিবো।
-ওকে
সর্বপ্রথম ভালোবাসার পরশ ভুলিয়েছো
          #তোমার_অপেক্ষায়_থাকবো,,,,,,,,,

০৭/০১/২০১৯ ইং
মুক্তাগাছা ময়মনসিংহ 

চিঠি

প্রিয়_মায়াবতী
কেমন আছো জিগ্যেস করবো না। কারণ আমি তোমাকে প্রতিদিনই হাসি-খুশি ভালবাসাময় আমেজে দেখি।
জানো!
খুব ভালো লাগে! যখন তোমার দূরন্তপনাগুলো দেখি।
আমি দেখি আর মগ্ন হয়ে চেয়ে থাকি।  বাতাসের মতো তোমার এই অদ্ভুত ছুটোছুটি আগে কখনও দেখিনি।
 হয়তো দেখেছিলাম কিন্তু কখনও খেয়াল করিনি। আজকাল খুব ভালোভাবেই খেয়াল করছি তোমার দূরন্তপনা আর আনন্দগুলো। হয়তো দৃষ্টি বদলেছে বলে।

 আজ একদমই কুয়াশা ছিল না। অাকাশটা রৌদ্রজ্বল ছিল। তোমাকে দেখার জন্যেই হয়তো প্রকৃতি আমাকে নিয়ে এমন আজীব খেলা খেলেছে। জালানার পর্দা সারাতেই দেখি তুমি ছাদের পাতাগুলো ঝাড়ু  দিচ্ছো।

 আচ্ছা মায়াবতী,,
 আমি শুধু শুনেছিলাম, আর অাজ দেখছি তুমি অনেক কাজ করো, তুমি এতো কাজ কিভাবে করো? এই বয়সেই তোমার এতো কর্মঠ হওয়া আমাকে আশ্চর্য করে! অামি মগ্ন হয়ে দেখছিলাম তোমার চোখগুলো।

মায়াবতী,,,
         আমাকে কেন লজ্জা পাও বলবে একটু! পাশের বাসার ছেলেকে দেখে এতো লজ্জা পেতে হয়? দেখলেই লুকিয়ে যেতে হয়? কথা বলা বন্ধ করে দিতে হয়? দৌঁড় দিতে হয়?

কয়েকদিন তোমাকে যেদিন তোমার আগামী ক্লাসের এক সেট বই দিতে গেলাম আর তুমি প্রথমে আন্টির আঁচলের আড়ালে পরে দৌঁড়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেলে? আমি কেমন যেন "হাবলা" হয়ে গিয়েছিলাম। তাকিয়েই ছিলাম। আন্টির (তোমার আম্মু) 'মুকিম' ডাকে ধ্যান ভাঙে। তাকিয়ে দেখি আন্টি সরাসরি আমার চোখের দৃষ্টি দেখছেন! আমি যে কী লজ্জা পেয়েছিলাম! আন্টি কী না কী ভাবছে!

জানো মায়াবতী!
আমার বড় ও একমাত্র বোনটিও তোমাকে খুব পছন্দ করে! তোমাকে দেখিয়ে আমাকে বলে, "ওরে আমার খুব পছন্দের!বড় হইলে তোরে দিয়ে বিয়ে করাবো। তোমার শান্ত-শিষ্ট স্বভাবটাই তাকে বেশি আকৃষ্ট করেছে"

আচ্ছা আজ এ পর্যন্তই থাক। বাকি গল্প আরেকদিন বলবো নে,,

ইতি
#তোমার_প্রতিবেশী

২৩/১২/২০১৮ ইং

গল্প

হাসানের আর্তনাদ


২০১৭ এর শুরুর দিকে বার্মায়  মুসলমানদের উপর চলে নির্যাতনের ষ্ট্রীম রুলার।মা বোনেরা হার়ায় সতীত্ব। হাসান সেই বার্মার বাসিন্দা। নাজেরা পড়ে, কতটুকুই আর বুদ্ধিমান। দেশের অবস্থা ভালো নেই বলে ক'দিন যাবৎ মাদ্রাসায় যাওয়া হচ্ছেনা। মায়ের কাছে থেকে টুকটাক ইলম অন্বেষণে আছে সে।

 মনটা আজ তার ভালো নেই। ফজরের নামাজ শেষে সে বের হয়েছে গ্রামটাকে উপভোগ করতে। সবুজ ঘাসের ফাঁকে লুকানো শিশির। সেই শিশিরের উপর পা রেখে হাঁটছে হাসান। বাবার রেখে যাওয়া চাদর দিয়ে সে নিজেকে আবৃত করে রেখেছে।


 হাসান গ্রামে বেশ অনেক্ষণ ঘুরে বাড়িতে ঢুকলো। বাড়িতে মামা এসেছে। মামার সঙ্গে জোহরের নামাজটা মসজিদে আদায় করলাম। বাড়ী এলে মামা মাকে ফিস ফিস করে কি যেন বলল। কিন্তু কি বলল? মায়ের চেহারায় কেমন যেন বিষণ্নতার ছাপ! কিন্তু কেন? কি হয়েছে? শুয়ে শুয়ে সে এ সব ভাবছে।


ওদিকে মা জিনিস পত্র গুছাতে শুরু করল! কচি মন এবার আর বোঝ মানলনা ।অনুনয়ের সুরে মাকে জিজ্ঞেস করতে শুরু করল:-মা!মা!আমরা কোথায় যাব?

মা চুপ রইল। একটু পরে মা হাসানকেও সব গুছাতে বলল। মায়ের কথা মত সেও একটা পুটলিতে বই,কাপড়,আর প্রিয় খেলনাগুলো ভরে নিল।

এরপর আপনিতেই মা বলতে শুরু করল:-আমাদেরকে বাংলাদেশে চলে যেতে হবে। এদেশে আমাদেরকে বৌদ্ধরা থাকতে দিবেনা। এখন আমরা নাফ নদীর তীরে যাচ্ছি।বাড়ি আর বন্ধুদের ছেড়ে যাওয়াটা হাসানের জন্য ছিল খুবই কষ্টকর।


রাত তিনটা বাজে। ঘুম আসছেনা হাসানের। মা তাহাজ্জুদ পড়ছেন। বাবাকে দেখা হয়না কয়েক মাস হলো। সেই যে বার্মা পুলিশ এসে নিয়ে গেল,আর ফিরে আসেনি।মাকে বাবার কথা জিজ্ঞেস করলে মা আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে থাকে আর কাঁপা গলায় বলে তোর বাবা ইসলাম,দেশ ও আমাদের জন্য একটা কাজে গেছে। বিছানায় শুয়ে বাবার আদরের কথা ভাবছিল হাসান। হঠাৎ বাইরে বিকট আওয়াজ হলো। উঠে বসল হাসান।  বুলেট ছুড়ার আওয়াজ ছড়িয়ে পড়ল সব দিকে।


 মা নামাজ শেষে হাসানকে অভয় দিতে লাগল। অনিবার্য বিপদের আভাস পেয়ে মা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। যেদিন থেকে বাবা চলে গেছে সেদিন থেকে না খেয়ে রোজা রাখে রাতে তাহাজ্জুদ পরে কেঁদে কেঁদে খোদার দরবারে ফরিয়াদ জানায়।আজও তা-ই করছিল।হঠাৎ দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ল একদল সেনাবাহিনী। হাসানের কোলে অচেতন মা। হাসান এই অবস্থায় দিশেহারা হয়ে গেছে। একজন বন্দুক তাক করল হাসানের দিকে।আরেকজন মায়ের বুকের উপর। নিমিষেই শেষ হয়ে গেল দুজনের জীবন। শেষ মূহুর্তে হাসান শুধু এই বাক্যই বার বার উচ্চারণ করছিল-"আমি প্রভুকে বলে দিব,আমি প্রভুকে সব বলে দিব"।

১২/০৪/২০১৬
বড় মসজিদ
ময়মনসিংহ

গল্প

বাংলা আমার মায়ের ভাষা
             

১৯৫২ সাল। ফাহিম ১০ম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে।   তার বাবা ঢাকায় একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। দীর্ঘদিন পরে তার বাবা বাড়ি এসেছে। পরিবারের সবাই বেজায় খুশি কিন্তু আজ ফাহিমের মনটা ভালো নেই।  কেমন জানি বিষণ্ণ  লাগছে তার ।

রাষ্ট্রভাষা নিয়ে নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক আর পূর্ব পাকিস্তানের নিরীহ জনগনের মাঝে জোড়ালো মতপার্থক্য   দেখা দিয়েছে। পকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ কর্তৃক উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা  ঘোষনার পর উপস্থিত ছাত্ররা 'না, না,না'...... ধ্বনিতে এর প্রতিবাদ জানালে  নুরুল আমিন ১৪৪ ধারা জারি করে। ফাহিমের  বাড়ি  পূর্ব পাকিস্তানে। অন্যের ভাষা নিজের রাষ্টের উপর চাপিয়ে দেওয়ার কথা শুনে সরলমনা বাঙালিদের মন ভেঙ্গে চৌচির হয়ে যায় আর ভেতরে ভেতরে একচেটিয়া সরকারের উপর চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।   সাবার মত ফাহিমের বাবাও এ ঘোষণায় মনঃক্ষুণ্ণ হয়। ফাহিমের বাবা খবর পায়' ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেই ২১ শে ফেব্রুয়ারি  মিছিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছ' । আজ রাতে তারা স্বপরিবারে  খেতে বসেছে,ফাহিমের বাবা তার মাকে বলে "ফাহিমের মা, আমার ঢাকায় যাওয়া দরকার"। এই কথা শুনে তার মায়ের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পরে কিন্তু ফাহিম মনে মনে ভীষণ খুশি হয়। সেও তার বাবার সঙ্গে যাওয়ার  জন্য বায়না ধরে।  বাবা-মা দুজন মিলে অনেক বোঝানোর পরেও ফাহিম তার সিদ্ধান্তে অবিচল। অবশেষে
ফাহিমের  বাবা তার মাকে বলল। "থাক ফাহিমকে বাঁধা  দিও না, আমি চাই আমার ছেলে  দেশ প্রেমিক হোক"।পরদিন সকাল,  ফাহিমকে নিয়ে তার বাবা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হল।  ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে পৌঁছেই দেখতে পেল রাষ্টভাষা বাংলার দাবীতে বাংলার দামাল ছেলেরা রাজপথে মিছিল করছে। ফাহিম ও তার বাবা সে মিছিলে যোগ দিল। মিছিলে নেতৃত্ব দেয় আব্দুল মতিন ও গাজীউল হক। সেদিন মিছিল ঠেকাতে সরকার পোষ্য পেটুয়া বাহিনী নিরীহ জনতার উপর ঝঁপিয়ে পরেছিল। প্রথমে লাঠি চার্জ করলো তারপর কাঁদানে গ্যাস।  নাহ,  এ ক্ষোভ যেন ক্রমেই বেড়ে চলছে,  নির্যাতন যতো বাড়ছে প্রতিবাদের স্ফুলিঙ্গ ততোই জোড়ালো হচ্ছে। দ্রিম.. দ্রিম...দ্রিম. কেমন যেন বজ্রপাত ঘটে গেলো মিছলের মাঝে। মূহুর্তেই স্তব্ধ হয়ে গেলো প্রতিবাদী জনতা,  থেমে গেলো প্রাণের শ্লোগান "রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই"। লুটিয়ে পরলো কয়েকটি রক্তাক্ত দেহ,। লুটিয়ে পরলো রফিক, জব্বার, বরকত, সালাম ও ৯ বছরের শিশু   ওলিউল্লাহ,  এছাও নাম না জানা আরো অনেকে । চোখের সামনেই নিথর হয়ে গেলো ফাহিমের বাবার দেহ

২১/০২/২০১৭ ইং
ময়মনসিংহ



গল্প


আবার ভালবাসা


খালাতো বোনের বিয়ে ঠিক হয়েছে। বাসার সবার এক দাবি বিয়ের অন্তত ৩ দিন আগে আমার বিয়ে বাড়ি উপস্থিত থাকতে হবে। অনেক বোঝালাম সবাইকে, নতুন চাকরি পেয়েছি। এখন ছুটি নেওয়াটা ঠিক হবে না। কিন্তু আদুরে বোনটির আদুরে অভিমানের কাছে অবশেষে হার মানলাম।
আমি নীল। একটা কর্পরেট ফার্মের জুনিয়র ম্যানেজার হিসেবে জয়েন করেছি। বেশ ভাল স্যালারি। দুই বছর আগে যখন ছাত্র ছিলাম, এই স্যালারির অভাবটাই আমাকে দিয়ার থেকে আলাদা করে দিয়েছিল। ছেলেটি ব্যাংকে জব করত, হয়ত এজন্যই আমাদের ২ বছরের রিলেশনটা হাসি মুখে ভেঙে গায়ে বেনারসি জড়াতে তার কোন কষ্টই হয় নি। আজ আমার সবই হয়েছে। কিন্তু যেটা সবথেকে বেশি চেয়েছিলাম তা হারিয়ে ফেলেছি।
কুষ্টিয়া যেতে হবে, ট্রেনে যেতে ইচ্ছা হল খুব। অনেকদিন ট্রেনে ওঠা হয় না। সন্ধায় কমলাপুর স্টেশনে পৌছুলাম। টিকেট কেটে বসে আছি, কিছুক্ষন পরে ট্রেন ছাড়বে। হটাৎ খেয়াল করলাম কিছুটা দূরে বসে একটা সুন্দরী মেয়ে কাদছে। পোশাক বলে দিচ্ছে অবস্থা সম্পন্ন ঘরের মেয়ে। শুরুতে গুরুত্ব দিলাম না। মেয়েদের প্রতি একটা ঘৃনা জন্মেছিল, সেজন্যই হয়ত। কিন্তু অসহায় একটা মেয়েকে এতক্ষন কাদতে দেখে বিবেকে বাধা দিল।
* হ্যালো, কাদছেন কেন, কোন সাহায্য করতে পারি।
= না, এমনিতেই। সাহায্য দরকার নেই। (মেয়েটি)
এসে নিজ জায়গাই বসলাম, জানি সাধারন কেস। কারো জন্য হয়ত পালিয়ে এসেছে। কিন্তু সে আসে নি। এখন এটা খুব কমন একটা ব্যাপার।
= শুনুন...
তাকিয়ে দেখি মেয়েটি আমার সামনে দাড়িয়ে।
* জ্বী বলুন।
অাজকে  সারারাত  কথা বলবা?
= আসলে এখানে আসার পর আমার ব্যাগ চুরি হয়ে গেছে। ব্যাগে ফোন টাকা ট্রেনের টিকেট সব ছিল। আপনি যদি এই ঘড়িটা রেখে আমাকে ২০০ টাকা দেন তবে আমি মেসে ফিরে যাব।
* ( একটু হেসে) কোথায় যাচ্ছিলেন?
= বাড়িতে, কুষ্টিয়া।
* আমি আপনার টিকেট করে দিচ্ছি, বাড়ি পৌছে নাহয় আমাকে টাকা টা দিয়ে দিবেন। আপনার এত দামি ঘড়িটা ২০০ টাকায় বিক্রির দরকার নেই।
= (একটু ভেবে) ঠিক আছে।
নিজ জেলার একটা মেয়েকে বিপদে রাখতে মনে চায়লো না তাই সিদ্ধান্ত নিলাম সাহায্যই করব। প্রায় ১ ঘন্টা লেট করে ট্রেন আসল। আমি মেয়েটির টিকেট কেটে দিলাম। ট্রেন বেশ ফাকা, তাই মেয়েটি আমার পাশের সিটেই বসল। দেখেয় বোঝা যাচ্ছে, আমাকে খুব ভয় পাচ্ছে মেয়েটি। পাক না, আমারো বেশ মজা লাগছে সুন্দরীর ভীত চাহনী টা।
= আমি নীলা।(মেয়েটি)
* বেশ সুন্দর নাম।
= আপনার নামটা জানতে পারি..?
*...........নীল।
= কোথায় যাবেন..?
* আপনার গন্তব্য যেখানে......
= আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
* এখানে কি করেন..?
= একটা প্রায়ভেট ইউনিতে ২য় বর্ষে পড়ি। একটা বিয়েতে এটেন্ড করতে বাড়ি যাচ্ছিলাম। পথে ব্যাগ চুরি হয়ে গেল। আর আপনি কি করেন...?
* টাকার জন্য কামলা খাটি। তো শহরের কোথায় আপনার বাসা..?
= সদরপুর।
খায়ছে, এই মেয়ে দেখি খালার এলাকার, যেখানে আমি যাচ্ছি। তবে কি বিয়েটাও ওটাই..! ট্রেনের বাতাসে বেশ ঘুম পাচ্ছে। কয়েক বছর আগে হলেও এমন সুন্দরীর পাশে বসে সারারাত জেগে যেতাম। এখন সেই ইচ্ছা টা মরে গেছে। আজ আবার দিয়াকেকে খুব মনে পড়ছে। সপ্ন ছিল ওর হাতে হাত রেখে সারারাত জেগে ট্রেনে জার্নি করার।
= আমরা চলে এসেছি। উঠুন।(নীলা)
* আপনি ঘুমান নি রাতে...?
= ঘুম আসেনি রাতে...।
* নীলা, আপনাকে আপনার বাড়ি পর্যন্ত লিফ্ট দিতে পারি। যদি একটা উপকার করেন।
= কি উপকার... (ভয়ে)
* পৌছানর পরে আপনি ভুলে যাবেন আমার সাথে কখন আপনার দেখা হয়েছিল।
নীলা শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে, যার ভয়ে সে সারা রাত জেগে কাটিয়েছে কেন যেন তাকে এখন ভাল মানুষ ভাবতে ইচ্ছা করছে। আচ্ছা লোকটা পাগল নয়ত। কথা গুলো এমন উল্টা পাল্টা কেন। চেহারা টাও কঠিন। মাপা হাসি ছাড়া মন খুলে হাসতেও দেখেনি। এমন সুন্দরী মেয়ে পাশে, অথচ কথা বলার কোন ইচ্ছাই নেই তার ভেতরে। এই শেষ রাতে কোন গাড়ি পাওয়া যাবে না। কেন যেন মনে হচ্ছে মানুষটিকে বিশ্বাস করলে ঠকবে না।
আমার খালার বাড়ির দুই বাড়ি পরেই নীলাদের বাড়ি। ওকে পৌছে দিয়ে আমি গিয়ে বাড়ি ঢুকলাম। ফ্রেশ হয়েই লম্বা ঘুম। ঘুম থেকে উঠেই দেখি আমার খালাতো বোন সুমির সাথে নীলা। আমাকে দেখেই হা হয়ে গেছে।
=নীল সাহেব আপনি...?(নীলা)
> নীলা, তুইনীল ভাইয়াকে চিনিস? ভাইয়া তুমি চেন নাকি নীলাকে..? (সুমি)
না, চিনি না। বলে সোজা কেটে পড়লাম। সারা বাড়ির সব খবর দুষ্টু সুমিটা ঠিক বের করে নেয়। জানি, এটাও বের করে ফেলবে।
বড় ভাই হিসাবে পরবর্তি দুই দিন খুব ব্যাস্ত কাটালাম। আর সবসময় দেখছি নীলা আমার আশপাশেই থাকে। আবার আমি তাকালেই গায়েব। দুর থেকে মিষ্টি করে হাসি দেয়। কেন জানি মেয়েটা চোখের সামনে না থাকলে আমারো ভালো লাগে না। আমার মনে কি ওর জন্য যায়গা তৈরি হচ্ছে। না এ সম্ভব না। আমার যে কোন মন ই নেই।
বিয়ের আগের রাত। সব কিছু গুছিয়ে রেখে সিগারেট হাতে ছাদে এসে দাড়ালাম। চকচকে বিয়ে বাড়ি। একদিন আমারো এমন একটা বিয়ে বাড়ির স্বপ্ন সেই স্বপ্ন সিগারেটের ধুয়া হয়ে উড়ে যায়।
= কিছু জিনিষ ভুলে যেতে হয়। মনে রেখে নিজের ক্ষতি করতে হয় না।(পেছনে ঘুরে দেখি নীলা দাড়িয়ে। ও কি তাহলে সব জেনে গেছে..?)
* আপনি এখানে কেন...?
= আপনার টাকাটা দিতে এসেছিলাম। এখন ভাবছি দেব না।
* কেন..?
= টাকাটা বাকি থাকলে আপনি আমাকে নিয়ে ভাববেন। আর আমাকে সহজে ভুলতেও পারবেন না। তাই দিবনা টাকাটা।
* চিন্তা করবেন না ভুলে যাব।
= (হাত থেকে সিগারেট কেড়ে নিয়ে) এসব যেন আর কখন খেতে না দেখি।
অন্য সময় হলে যে কাউকে বেশ কিছু কড়া কথা শুনিয়ে দিতাম। কিন্তু মেয়েটিকে কেন যেন বকা দিতে ইচ্ছা হচ্ছে না। শুধু তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করছে। না না, আমাকে শক্ত হতে হবে।
* আমার বিষয়ে কথা বলার আপনি কে..?
= এখনো কেউ না, তবে সবকিছু হতে চায়।
কথাটা বলেই নীলা দৌড়ে চলে গেল। আমি শুধু তাকিয়েই রইলাম। বাড়ির ভেতরে গিয়ে দেখি মা কেও নীলা পটিয়ে ফেলেছে। পুরো বিয়ে বাড়ি কানাকানি চলছে পরবর্তী বিয়ে নীল আর নীলার। নাহ্ আর থাকা যাবে না। ব্যাগটা গুছিয়ে পালিয়ে যেই মাত্র বাড়ির গেট পেরিয়েছি, কেউ একজন আমার হাত টেনে ধরল। তাকিয়ে দেখি নীলা। শাড়িতে মেয়েটাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। তার সাথে করুন দৃষ্টি আর চোখের পানি যেন কলিজায় আঘাত করছে।
= আমাকে আপনার পছন্দ না সে কথা বলে দিলেই হতো। এভাবে কেন পালাচ্ছেন। আমি আর কখন আপনার সামনে আসবো না। তবু প্লিজ চলে যাবেন না।
* কে বলেছে তোমাকে আমার পছন্দ হয়নি..? আমি শুধু ভয় পেয়েছি। এখানে থাকলে সেই ভুলটা আবার করে ফেলব, যেটা একবার আমার স্বাভাবিক জীবনটাকেই কেড়ে নিয়েছে।
= আমাকে না হয় একটা সুযোগ দিন আপনাকে সেই পুরনো আপনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার।
* কখন ছেড়ে যাবে না তো...?
এবার আর মুখে জবাব পেলাম না। তবে কেউ একজন আমাকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। আর না। আমি ওকে আর ছাড়তে পারব না। ও ই আমার অগোছাল জীবনটা জড়িয়ে ধরে রাখুক না।
                        ( ((<সমাপ্ত>))))



কবিতা

      অনুভব

ভাবনায় আছো তুমি
   অনুভবে বুঝি, 
অনুভবে প্রতি দিনই 
তোমায় যে খুঁজি।

লুকিয়ে ছিলে যে তুমি 
  অচিন লোকে,
কতো যে খুঁজেছি তোমায়
পাইনি গোপনে।

কতোদিন পর তুমি 
 দূর হতে ডাকি,
কহিলেন আমীয় সুরে ,
   কতো ভালোবাসি।

পারিব কি দিতে আমি,
 তোমায় সে মান,
যাহা তুমি হতে চাও 
হয়ে মহিয়ান! 

ছড়া



ছোট্ট বেলা 


জীবন যখন ছোট ছিল   
আকাশ ছিল বড়,
মেঘের খেলায় রঙের মেলায়
হারিয়ে যেতাম ধরো।

সুযোগ হলেই খেলার মাঠে 
যেতাম   বন্ধু কতো,
রঙিন সুরের নেশায় পাগল
জমতো লড়াই শত।

বাবার শাসন ছিল করা
সন্ধ্যা হলেই নিতো পড়া, 
ফাঁকি দিলেই  খেতাম  ধরা
মায়ের আদর আচল ভড়া।
    

০১/০৩/২০১৮ ইং
ময়মনসিংহ  বাাংলাদেশ
    

চিঠি

প্রিয় মায়াবতী!
                    সকালে ঘুম থেকে উঠেই তোমার দেখা পেলাম। তোমাকে অশেষ ধন্যবাদ।  এই সকালের মিষ্টি রোদ তোমার উপর পরেছে, তাতে  মনে হচ্ছে রোদ থেকে মিষ্টি  যেন তুমিই। মনটা আজকে অনেক ফ্রেশ, মনে হচ্ছে  দিনটা ভালোই কাটবে। এখন আর প্রতিদিনের মতো তোমাকে দেখি না, কেন দেখি না উল্লেখ করতে মন চাচ্ছে  না! তবে এতোটুকু জেনে রাখো তোমার চোখের অতি মায়াতে আমি দিশেহারা হয়ে যাই। বাংলায় একটা বচন আছে "অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ " কথাটা বলার কারণ হলো আমি তোমাকে যতোই দেখি ততোই মুগ্ধ হতে থাকি। এই মুহুর্তে আমি যেভাবে তোমার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছি তা আমার ভবিষ্যতের  ক্ষতি ছাড়া  কিচ্ছু মনে হচ্ছে নাহ।

মায়াবতী!!!
          তুমি কি জানো ?  আমি তোমার চোখ দেখে অনেক কিছুই বলে দিতে পারি। তুমি আমাকে ভালোবাসো এটা আমি স্পষ্ট  ভাবে বুঝি।কথাটা তোমার চোখ গুলো বলে দেয় আমাকে। মাঝে মধ্যে তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে স্বপ্ন দেখি, স্বপ্নে ঘর বাঁধি, সুখি হয়ে যাই অনন্ত কালের জন্য আর হারিয়ে যাই অনেক দূর। তোমার দুষ্টুমিগুলো আমাকে অনেক মুগ্ধ করে। আচ্ছা আমাকে এভাবে মুগ্ধ হয়ে দেখ কেনো ? আর আমি যখন দেখে ফেলি তখন লজ্জা পেয়ে হয় চলে যাও নয়তো এমন ভাব করো যেন আমাকে চিনোই না। তোমার লজ্জা মুখটা আমাকে আরো দুর্বল করে দেয়। তোমার দেওয়া কাগজের ফুলটা যেদিন দিয়েছিলে ঐদিনের আচরণটা আমার কাছে স্মৃতি হয়ে থাকবে। সাথে তোমার দেওয়া ফুলটাও। তোমার দেওয়া কাগজের ফুলটা খুবই সুন্দর ছিলো। ধন্যবাদ দিব না, ধন্যবাদ তো দূরের মানুষগুলোর জন্য।  তুমি তো আমার দূরের কেউ না তাই ধন্যবাদ দিলাম নাহ।

জানো!
        মাঝে মধ্যে কল্পনাতে বহু দূর অবলম্বন করে ফেলি। আমার রাঙা বউ হয়ে তুমি যেন এসে গেছো, আমরা অনেক দূর পর্যন্ত আমাদের জীবনকে নিয়ে গিয়েছি কিন্তু হঠাৎ দেখি অস্তিত্ব  ঠিক জায়গাতেই রয়ে গেছে। আমরা কোত্থাও যাইনি। তবে জেনে রেখো অপেক্ষায় থাকবো অনির্দিষ্ট কালের জন্যে,,,

আচ্ছা!
       তুমি কি জানো আমি ছন্নছাড়া মানুষ,  তুমি আমার জীবনে অভির্বাব হয়ে আমার জীবনকে ছন্ন দিয়ে গুছিয়ে দিবে? আমাকে তোমাতে হারাতে দিবে? মুগ্ধ করে দিতে পারবে এই আমাকে???

০৩/১২/২০১৮ ইং
নন্দীবাড়ী মুক্তাগাছা
ময়মনসিংহ
 


স্মৃতির আয়না



 "নিষ্পেশিত মানবতা"
আরিফুল ইসলাম মুকিম 


রাস্তাঘাটে চলতে ফিরতে মানুষ কত্তোকিছু দেখে আর শেখে! কোনোটা অবাক করে। কোনোটা হাসায়, কোনটা কাঁদায় আবার কোনটা চিরদিনের জন্য স্থায়ী হয়ে যায় মনোস্পটে। সবার মতো আমারও আছে অনেক অভিজ্ঞতা আর অজস্র স্মৃতিতবে আজ শুধু একটাই বলবো বাকিগুলো অন্য কোথাও, অন্য কোন সময়।
 ১. মফস্বলেই থাকি বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঢাকাতে যাওয়াই হয়না। ক্লাসমেটদের প্রায় সবাই ঢাকায় থাকে। এজন্য কোন উপলক্ষ আসলেই ছুটে যাই সেখানে। প্রিয়জনদের সাথে হেসে-খেলে দু চারদিন কাটিয়ে আবার ফিরে আসি আপন নীড়ে, নিজের শহরে। এবার পরীক্ষার ছুটিটা হয়েছে ঠিক ফেব্রুয়ারির শুরুতে। এ মাসকে নতুন করে পরিচয় করানোর প্রয়োজন তেমন নেই। ভাষার মাস এটি। মুসলমান যুবকেরা নিজের জীবন দিয়ে ভাষার প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করেছে। বাংলা একাডেমী এসময় আয়োজন করে "একুশে বই মেলা"র যা প্রতিটি সাহিত্যপ্রেমীককে আন্দোলিত করে। আমিও আন্দোলিত হই। হারাতে চাই ভাষার মুগ্ধতায়। এমন সুযোগ আগে আর মেলেনি। যদিও বই মেলায় আরো গিয়েছি তবে লুকিয়ে। পরিবার আর মাদ্রাসা ফাঁকি দিয়ে!এবার সুযোগটা আর হাতছাড়া করতে চাইনি। তাই নিজে অনুনয় করে, বন্ধুদের দিয়ে সুপারিশ করিয়ে বহুকষ্টে বাবার থেকে ঢাকা যাওয়ার অনুমোদন পাশ করিয়েছি।
 ২.শীতের সকাল। ভর দুপুর ছাড়া রোদের দেখা পাওয়া মানে আমাবশ্যার চাঁদ হাতে পাওয়া। তাই রোদ উঠার অপেক্ষায় না থেকে সকাল সকাল বের হয়েছি। এখানকার দোকানিদেরকে প্রাচীনকালের নবাবজাদা বললে বোধয় বাড়াবাড়ি হবে না। ঘুমুবে সেই রাতে আর উঠবে দুপুর হয় হয় সময়। একটা দোকানও খোলা নেই। কিছু যে কিনবো তারও জো নেই। শহরটাও ফাঁকাফাঁকা লাগছে। তা লাগুক আমার সমস্যা নেই আমি যেতে পারলেই হলো। অন্য কোন ভাবনা না করে ঢাকাগামী বাসের টিকিট কিনে সিটে চেপে বসি। কিন্তু পেট তো মানছে না! বারবার সিগনাল দিচ্ছে। খোজ নিয়ে জানলাম চব্বিশঘণ্টা সার্ভিস দেয় এমন একটা রেস্টুরেন্ট চালু হয়েছে। টার্মিনাল চত্তরেই। ঘড়ি দেখলাম। বাস ছাড়ার এখনো পনের মিনিট বাকি। বেরিয়ে পরলাম। ররেস্টুরেন্টের ঠিক গেইটের সাথেই একটা........ বয়সটা বলতে পাচ্ছিনা তবে শীতের এই প্রকোপের মাঝেও সাতসকালে ছেড়া কাপড়াবৃত দেখে এটা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারলাম যে, উনি পথ আশ্রিতদেরই একজন। রেখাবহুল মুখখানা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে। দেখে বুঝা যায় এ জনমে বুজি সুখের দেখা পায়নি। মনে মনে খুব দয়া হলো। তার খাবারের বাজেটও করে ফেললাম। আজ আমার যেই নাস্তা হবে তাকেও সেটাই খাওয়াবো। কিন্ত তা আর হলো না। সম্ভবত ওয়েটারই হবে। সে এসে ছোট পেকেটে করে তার হাতে কিছু দিয়ে গেলো। সম্ভবত বার্গার বা রুল হবে, পিজ্জাও হতে পারে। মনটা কৃতজ্ঞতায় ভরে গেলো। ভাবলাম এখনো এমন কিছু ভালো মানুষ আছে যারা বঞ্চিতদের মনের আকুতি বুঝে। নিপীড়িতদের অশ্রুর ভাষা বুঝে। এজন্যই তো পৃথিবীটা আজো বড় সুন্দরভাবে চলছে।
 ৩. খুব দ্রুত কিছু খেয়ে আর কিছু পার্সেল নিয়ে বের হয়েই তো চোখ কপালে! সেই বৃদ্ধ বমি করছে! আর ওয়েটারের দেয়া জিনিসগুলি এদিক ওদিক ছুড়ে মারছে। বুঝা না যাওয়া ভাষায় বকাবকি করছে। এখন আর সেই ওয়েটারের মহানুভবতা(?) বুঝার বাকি রইল না। অগত্যা আমার যা কিছু পার্সেল নিয়ে ছিলাম সব উনার থলেতে ঢেলে দিয়ে আসলাম। পুরো পথে আর স্বস্তি পাইনি।চোখের জল হয়ত গড়ায়নি ভিতরে রক্তক্ষরণ হয়েছে ঠিকই। মানবতার এমন বিপর্যয় আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে। ধিক এসেছে বারবার এই মানুষরূপী বানরের প্রতি যে বঞ্চিত মানবতাকে উপহাস করেছে উচ্ছিষ্ট অখাদ্য দিয়ে আর তাদের প্রতি যারা প্রতিনিয়ত উপহাস করে চলছে বঞ্চিত মানুষগুলোর সাথে।

প্রকাশিত
চিরকুট পত্রিকা
সূচনা সংখ্যা  "মে" ২০১৮ ইং

ছড়া


বর্ণমালা 

বর্ণমালা নিয়ে গেল 
সব পাখি মিলে,
"চ"নিয়ে উড়ে গেল 
ঐ যে দেখ চিলে।

বক গিয়েছে বিলের ধারে
মাছটি পাওয়ার আসায়,
বিল গুলো সব খালি দেখে
কেঁদে বুক বাসায়।

কিচির মিচির শব্দ দেখে 
চড়ই সব আসে, 
তাই দেখে বুলবুলিটা 
মিটমিটিয়ে হাসে।

ছড়া

বনের খোঁজে

খুঁজে খুঁজে বনের মাঝে
ধরেছিলাম এক পাখি
সেই পাখি আজ উড়াল দিলো
ভাসিয়ে মোর  আঁখি।

সোনার খাঁচা গড়েছিলাম
আমি তার  জন্য
ভালোবাসার  বাঁধন কেটে
করেছে সে শূন্য।

লোকে আমায়  বলে বোকা
বুঝোনি তার অভাব
বনের পাখি খাঁচার কেন?
 মুক্তিই তার স্বভাব।

কবিতা


আমি  রাখিনি


আমি রাখিনি আমার অনুতাপের সুখ
বিকিয়ে দিয়েছি ফুটপাতে,
নয়তো তপ্ত বালুচরে,
হয়তো ধুম্রজালে সব এলোমেলো 
তোমার প্রবেশ নয়তো প্রস্থান, 
পারিনি তোমায় বন্দি করতে পাখির মতো!
দিয়েছে স্বাধীন করে তোমার অনিচ্ছায়।
সাগরের গভীরতায় হারাতে চাইনি আমি-
আমি যে, ছোট শুধু ভাসতে চাই উপরে 
চাইলেই পারি দিতে পারি
মহা সমুদ্রের তলদেশ থেকে পাহাড়ের চুড়ায়
তুমি স্বাধীন, তুমি মুক্তি,
আমার প্রাচীর থেকে,
অন্যের আঙ্গিনায় তুমি বন্দি।

কোন এক বিকেল

মাঝে মাঝে রৌদ্রুহীন এই বৃষ্টির বিকেলে হারিয়ে যাই নিরবতার মাঝে, অসহায় হয়ে যাই একাকিত্বের ক্লান্তিতে হতাশার চাদর জড়িয়ে ধরে আমাকে।  বিকেলের...