Wednesday, August 14, 2019

কোন এক বিকেল

মাঝে মাঝে রৌদ্রুহীন এই বৃষ্টির বিকেলে
হারিয়ে যাই নিরবতার মাঝে,
অসহায় হয়ে যাই একাকিত্বের ক্লান্তিতে
হতাশার চাদর জড়িয়ে ধরে আমাকে।
 বিকেলের পাখিগুলোও
কেমন জানি একাকি হয়ে থাকে
ঠিক যেন স্তব্ধ নদীর মতো।

আচ্ছা!
    যদি ঝিরঝির বৃষ্টি থেমে যেয়ে
 দমকা হাওয়া বয়ে যেতে থাকতো
তখন কি এমন হতো!
ক্লান্তি, হতাশা সবকিছু মুছে যেতো
একাকি বিকেলটাও  তার
সঙ্গী ফিরে পেতো ???

বিকেল ৪:১৬
 আগষ্ট ২০১৯ ইং

Tuesday, July 30, 2019

শৈশব

#আমার_শৈশব_গ্রামে
#আমি_গ্রামের_ছেলে_ছিলাম
#আমি_গ্রামের_প্রকৃতিতে_মিশে_ছিলাম

স্পষ্ট মনে পরে আমার শৈশব। আমার ছোট চোখ দুটি যদি হয় অতীতের স্বপ্ন ধরে রাখার দূরবীন, তাহলে আমার ছোট বেলার প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি দিন সেই অতীতের স্বপ্ন ধরে রাখা সারি সারি করে সাজানো একেকটা মহা মূল্যবান শো পিস। আমার বুকের ভেতরের শ্বাস-প্রশ্বাসের যন্ত্রটা যদি হয় পৃথিবীর সর্বোচ্চ গুদাম, তাইতো সেখানে সারি বেঁধে সাজানো পণ্যের বস্তার মত আছে আমার ছেলেবেলার সেই সু- মধুর সময় আনন্দঘন মুহূর্ত দিনগুলি।

আমি ভুলতে চাইলেও ভুলতে পারি না। ছোট বেলার সেই দিন গুলি যেন একটা জীবন্ত চিত্র গুলি জীবনের স্মৃতির পাতায় এ্যালবাম হয়ে আমার পেছনে হেঁটে বেড়ায় সর্বক্ষণ। আমাকে মাঝে মাঝে স্মৃতির কাতর করে, টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যায় সেই মাটির আঁকা বাঁকা মেঠো পথে, মটরশুঁটির লতায়, হলুদ সরিষা ফুলের ক্ষেতে মাঠ, গ্রামের ছোট ছোট নালা - দীঘির জলে, শাপলা ফোঁটা ঝিলের ধারে; আম গাছের তলায়, জাম গাছের মগ ঢালে, শীতের সকালে কুয়াশা চাঁদরে মোড়া খেজুর গাছের তলে, মাটির কলসে ভরা সেই টাটকা স্বাদের রসের কাছে।

সুনিবিড় শান্তির নীড়, দক্ষিণের খোলা জানালা, সারি সারি সুপারি গাছের সাথে মায়ের নষ্ট হয়ে যাওয়া আঁচলের টুকরো দিয়ে বাধানো দোলনায়, টলমল পুকুরের পানি, আমাকে আজও হাতছানি দিয়ে জাগ্রত করে। ছোট বেলায় ঘন সেই সবুজ প্রাকৃতিক দৃশ্য শ্বাস-নিশ্বাস নিয়ে বড় হয়েছি। এখনকার গ্রামের ইট পাথরের জীবনে যখন হাঁপিয়ে উঠি, বুকের গভীর ভিতরের জমানো হতাশাটা যখন বাতাসে ভাসিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে আরামদায়ক খাটে শরীরটা হেলিয়ে নিদ্রায় দেই, তখন আমার চোখের সামনে খেলা করে দিগন্ত বিস্তৃত শস্য-শ্যামল সবুজ খোলা মাঠ, নীল আকাশের মুক্ত তারা, সোনালী ধানের শীষ।

শৈশবের প্রতিটি মুহূর্ত যেখানে একেকটা মহামূল্যবান শো পিস, সেখানে কোনটাই  দেওয়া যায় না বারবারই চলে আসে স্মৃতির পাতায়। কোনটাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করি, কোনটাকে নিয়ে স্বপ্নের তুলি দিয়ে ছবি আঁকি। শৈশবের প্রতিটি দিন যেখানে মধুভরা, আনন্দময় ছিলো সেখানে কোন দিনটা বিশেষ ভাবে স্মরণ করি।
শৈশবের প্রতিটি মুহূর্ত সুন্দরী লাস্যময়ী নারীর ভুবন জয় করা হাসির মত, ফুরিয়ে গেলেও হৃদয়ে থেকে যায়। রমণী হারিয়ে গেলেও যেমন হাসির রেশটা থেকে যায় মনের গভীরে ঠিক তেমনি ছোট বেলার দিন গুলি ফেলে এলেও দখল করে নেয় হৃদয়ের সমস্ত জমিনটা।

 বর্তমানে গ্রামের জীবনের সাথে খাপ মিলাতে চাই, ততই ফিরে যাই আমার শৈশবের শিকরে। আমার ফেলে আসা শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো আমাকে তাড়িত করে মৌলিক জীবনের পথে। আমি ভুলে যাই মেঠো পথ, সতেজ বাতাস, পাখির গান, ফুলে ফুলে প্রজাপতির নাচ।

৩০/০৭/২০১৯ ইং
ময়মনসিংহ

Sunday, July 21, 2019

শিরোনামহীন



তোমাদের কোলাহল ছেড়ে-
বহুদূরে যেতে চাই
নোংরা ধ্বংসস্তুপে পঁচতে চাই না আর!
থাকতে চাই না আর-
এই ধূলোর নগরে,
স্বার্থপর কলুষিত পতঙ্গের মত মানুষের মাঝে!

দূষিত শহর ছেড়ে দূরে চলে যাব
আকাশের পথ ধরে,
যেখানে নক্ষত্ররা মরে যায়
লাশ হয়ে থাকা নক্ষত্রের শহরে!

  নিশাচর
০৩/০৭/২০১৯ইং
কাঁঠাল বাগান, ঢাকা

Saturday, July 20, 2019

সম্পর্ক

আমার কাছে সম্পর্ক হলো অস্তিত্বের বাইরের জিনিষ। মানুষ সম্পর্ক গড়ে পৃথিবীতে আসে না। শুধুমাত্র নিজেকে নিয়ে আসে। নানান সম্পর্কের মধ্যে সে নিজেকে আবিস্কার করে। সম্পর্ক তখনই সুন্দর হয় যখন তা আমাদের অস্তিত্বের অলংকার হয়ে উঠে। তখন সেই অলংকার শেকল হয়ে যায়, আর তাকে অলংকার ভাবি আমরা । গলা আটকে যায়। আমরা নুয়ে পড়ি। তবুও পরেই থাকি । আশ্চর্য বোকা জাতি আমরা । সম্পর্ক যখন ভেঙ্গে যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে মনে হয় আর সব বারের মতন এবারও ঠিক হয়ে যাবে। সেই ঠিক হয়ে যাওয়াটা অনেক সময় ঠিক নয়। ভেঙ্গে যাওয়াটাই অনেক সময় ঠিক। সেটা আমরা মানতেই পারি না আমাদের মানসিক গঠনের জন্য। আমরা সব কিছু ধরে রাখার পক্ষে। ভুলে যাই, যে একদিন এই দেহ থেকে আমাদের বেরিয়ে যেতে হবে । আমার তো মনে হয় নানান জিনিষ ছেড়ে দেবার ভেতর দিয়েই ধীরে ধীরে তার অভ্যেস করা উচিত। কোন কিছু জোরাজুরি করে আমরা কোনমতে জোড়াতালি দিয়ে টিকিয়ে রাখি কেন? নিজেদের নষ্ট করে কষ্ট দিয়ে আমরা আসলে কি ঠিক রাখতে চাই?

                                      ২০/০৭/২০১৯ ইং
                                           ময়মনসিংহ

Wednesday, July 17, 2019

তুচ্ছ জীবন




#জীবন_এখানে_এমনই

আমার জীবনে কোন বিশেষ দিন নেই।আমার কাছে প্রতিটি দিনই সাধারণ।আমার জন্য প্রতিটি দিন একই বার্তা নিয়ে আসে।সেই একঘেয়ে একাকী জীবন।কখনো কখনো মনে হয় মানুষ না হয়ে ফুল হলে ভালো হতো।একটা দিন অপূর্ব সুবাস ছড়িয়ে মানুষকে মুগ্ধ করে দেওয়া যেতো।তারপর আরেকটা দিনের ভোরের আলো ফোঁটার আগেই হারিয়ে যাওয়া যেতো নীরবে।আমার জীবনে লুকোচুরি খেলতে গিয়ে সময় হারিয়ে যায়, কখনো খুঁজে না পাবার মতো করে।আমার জীবন অভিধানে কোথাও স্বপ্ন নেই।সেখানে একাকীত্ব আর শূণ্যতা ভরপুর।মাঝে মাঝে মনে হয় এমন একটা জীবন হোক,যে জীবন সব পাওয়ার না হোক অন্তত কিছু না হারাবার হোক।আমার এটা বুঝতে বাকি নেই যে,আমার জীবনটা সত্যিই দুঃখ,কষ্টে পূর্ণ একটা গল্প।আমার প্রতিটা মুহূর্ত কাটে দুঃখ,কষ্টে।সত্যিকার অর্থেই আমি আমার জীবণের ভবিষ্যত্‍ নিয়ে কখনোই ভাবিনা।পৃথিবীর শোক বা আনন্দ কিছুই আমাকে স্পর্শ করে না।আমার মাঝে মাঝে মনে হয়,পৃথিবীটা টুকরো টুকরো হয়ে ফেটে গেছে,যেন যে কোন মুহূর্তে ছাদটা আমার উপর ভেঙে পড়বে।আমি জানি আমি ভীষণ বিষন্ন হতে পারি।আমি খুব uncontrolled অনেক কিছুর ব্যাপারে।আমি কোন কিছু মেপে মেপে করতে পারি না।জুতা কিনতে গেলেও এক সাইজ বড় জুতা কিনে খুশি হয়ে বাসায় চলে আসি।আমি ঘুমে ঢলে পড়তে পড়তে আবার জেগে উঠি অন্য আরেকটা দু:স্বপ্নে।আমি যেমনটা ”যোগ্য” হতে পারতাম কিছুই হইনি। হয়ত আগামীতেও পারবো না।ইচ্ছে থাকলেও পারবো না।কীভাবে কী হতে হয় সেই পথ আমার জানা নেই।আমার কল্পনা গুলো মাঝে মাঝে কথা বলে,আমার সাথে গল্প করে।ইদানিং কিছুই যেন ভালো হচ্ছে না আমার সাথে।একদম কিছুই না।আমার ভীষণ একা লাগে।মনে হয় আমি একটা বিশাল মহাশূণ্যে একটা ছোট্ট ছায়াপথ।পৃথিবীতে আমাকে শোনার জন্য কোথাও কেউ নেই।প্রিয় জিনিসগুলো আর প্রিয় মানুষগুলো সব দূরে সরে যাচ্ছে।এই পৃথিবীর সবার মাঝে একজন হয়ে বেঁচে থাকার খুব ইচ্ছা ছিল আমার।কিন্তু সেই ইচ্ছা হয়ত স্বপ্নই রয়ে যাবে।জীবনে না পাওয়ার তালিকাটা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।প্রেমহীন রাতে ভালোবাসাহীন বিছানায় একাকীত্বের গন্ধে পড়ে থাকি অলসতায়।হঠাৎ আমার মনটা আপনাআপনি খারাপ হয়ে যায়।একটা গান শুনতে শুনতে হঠাৎ করেই মনটা বিষণ্ণ হয়ে উঠে।আমি একটা ছোট্ট বাচ্চার মতো একই ফরমুলা দিয়ে সব বড় বড় সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করি। আর ভুল উত্তরের চোরাবালিতে ডুবতে থাকি একা একা।মাঝে মাঝে নিজের ব্যর্থতার কথা মনে করে নিজের উপর খুব রাগ হয়।সবসময় মনে হয় আমি কিছু দুঃস্বপ্ন দেখছি।একদিন ভোরে উঠে দেখবো সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে গেছে।সময়টাকে অনেক বড় মনে হয় আর নিজেকে অনেক ক্ষুদ্র।খুব প্রিয় প্রিয় গানগুলোও হঠাৎ করে কেমন যেন বিষণ্ণ হয়ে উঠে।পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ অনেক ঝড়ঝাপটা পাড়ি দিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করে, আবার কিছু কিছু মানুষ আছে যারা ব্যস্ত থাকে প্রিয় মানুষটির স্বপ্ন পূরণে,তারপর এমন একদিন আসে যখন তারা নিজেদের জন্যই স্বপ্ন দেখতে ভুলে যায়।আমি কোনো এক অদ্ভূত শক্তিতে ভর করেই বেঁচে আছি।আমি দিব্যি জানি,বেঁচে থাকতে যেই জীবনীশক্তি,আর স্বপ্ন দরকার, তার শতভাগের একভাগও আমার নাই।মাঝে মাঝে আমার চোখদুটো কোনো এক মন্ত্রবলে বন্ধ হয়ে আসতে চায়।আমি কবে এই দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারবো?এভাবে তো জীবন কাটিয়ে দেয়া যায় না!আমি এখন আমার চোখের সামনে একটা একটা করে স্বপ্ন জ্বলতে দেখি।আমি আজো চিৎকার করে কাঁদি,আমার একাকীত্ব আজো আমাকে তাচ্ছিল্য করে।নিজেকে অনেক ক্লান্ত মনে হয়।মনে হয় জীবনের কাছে বিধ্বস্ত এক পরাজিত সৈনিক।নিজেকে নিজে মিথ্যে আশ্বাস দেই, “একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।হঠাৎ কোনো একদিন একটা ম্যাজিক হবে।”কখনো কখনো মনে হয়,যা কিছুকে আমি সুখ ভাবতাম তার সবকিছু ওই সময়টায় দাঁড়িয়ে আছে যেই সময়টায় আমি আর কখনো ফিরে যেতে পারবো না।অনেকদিন প্রিয় শহরটাকে দেখি না। বন্ধুদের সাথে জমিয়ে আড্ডা দিতে পারি না।ইদানিং সময়টা অনেক অনেক দীর্ঘ মনে হচ্ছে।আমার মতো হয়ত কেউ নেই যারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিজেদের প্রিয় শহর আর প্রিয় মানুষদের ছেড়ে অনেক দূরে থাকে।কখনও কখনও মধ্যরাতে যখন পুরা শহর ঘুমিয়ে পড়ে, তখন আমার মনে হয় কেউ একজন আলোটা জ্বালিয়ে দিক। ঘুমন্ত শহরটা আরেকবার জেগে উঠুক আমার মতো করে।এই ছোট্ট জীবনে নিজের কষ্টের বোঝাগুলো আমি আর বইতে পারছি না।দুঃখ, শোক সব নাকি সময়ের সাথে সাথে মিলিয়ে যায়। সময় নাকি সব ক্ষত পূরণ করে দেয়। তা সত্যি বুঝতে পারিনি।

 ০৫/০৭/২০১৯ইং
মানিক মিয়া এভিনিউ, ঢাকা 

Tuesday, May 28, 2019

#আজ_বাবা_মার_২৫তম_বিবাহ_বার্ষিকী



জীবনের সাথে সময়ের চাকা ঘুরে আজ ২৫ বছরে হলো।
সময়ের ধোঁকা বাজি খেলায় কখন যে ২৫ বছর পার হল তা বাবা-মা  কারো চোখে পড়ে নাই। ঠিক একই দিনে এবং ২৫  বছর পূর্বে অথ্যাৎ ২৮ ই মে ১৯৯৪ সালে আমার বাবা - মার শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়। অতঃপর তাঁদের সংসার জীবনে ১ বছর পর আমার বড় বোন এবং ৭ বছর পর আমার জন্ম । এরই মাঝে সন্তান লালন-পালন, সংসার পরিচালনা এবং চাকুরির মধ্য দিয়ে কেটে গেল প্রায় তাঁদের জীবনের অনেকটি সময়। তবুও জীবন থেমে নেই চলছে তার নিয়মিত ধারায়। সংসার যুদ্ধের ধারাবহিকতায় আজ ২৫ বছরে পদর্পন। তাই এই দিনে তাঁদের জীবনের শুভ কামনায় আমি আপনাদের নিকট দোয়া প্রার্থী। যেন তাদের সন্তান দ্বারা বাকি ভবিষ্যৎ জীবন সুন্দর  হয়।

বাবা চাকরির সুবাদে সর্বদা ব্যস্ত থাকেন। আমি  ভেবেছি এবার বাবা-মার বিবাহ বার্ষিকীতে কিছু দিতে না পারি অন্তত অভিনন্দনটা জানাবো। যদিও সব বিশেষ দিন গুলতে অভিনন্দন জানিয়ে থাকি কিন্তু যে দিনের কারনে আজ আমি কারো সন্তান আর আমি যদি সে দিনটাকেই প্রতি বছর ভুলে যায়, অভিনন্দন জানাতে না পারি তাহলে নিজের কাছেই খারাপ লাগে। আসলে যখন মনে পরে তখন অনেক দেরি হয়ে যায়, তাই  এবার যে ভাবেই হোক অভিনন্দন জানাবোই। কিন্তু এবারো হলো নাহ বাবা এতেকাফে আছেন।

আসলে তাদের বিবাহ বার্ষিকী। আমি ভাবলাম তাদের একা থাকতে দেওয়া উচিৎ, কিন্তু অভিনন্দন তো তাকে জানাতেই হবে, কারন আমি জানি অভিদন্দন জানালে অল্প সময়ের জন্য হলেও বাবা-মা খুব খুশি হবেন। তার পর ঝট করে সে একটা এস এম এস লিখে ফেল্লাম “Happy Marriage Day Of Abbu Ammu” আমি মনে মনে বললাম এটাতে হয়তো তাদের অসুবিধা হবে না, তার পর এস এম এস টা পাঠিয়ে দিলাম।

 আজ আমার বাবা-মার ২৫ তম বিবাহ বার্ষিকী। সবাই তাদের জন্য দোয়া করবেন তারা যেন দীর্ঘজীবী হন এবং আমার নাতি নাতনির বিয়ে পর্যন্ত দেখে যেতে পারেন যদিও এখনো আমার বিয়েই হয়নি। আর তাদের মৃত্যু যেন কখনই আমার দেখতে না হয়, আমি যেন তাদের ১ দিন আগে হলেও পৃথিবী ত্যাগ করতে পারি ও পরকালে তাদের অভিনন্দন জানানোর জন্য অপেক্ষা করতে পারি।




Friday, May 24, 2019

আমার জন্মদিনে আমার কথা



#আমি_এবং_আমি

গত ২৩ মে থেকে আজ পর্যন্ত আরো একটি বছর বেঁচে থাকলাম এই পৃথিবীতে। এই সুজলা সুফলা সুন্দর পৃথিবী আমাকে আরো একটি বছর উপভোগ করার সুযোগ দিয়েছিলো । আমি তাকে( মহান প্রভু)কে কি দিলাম সে কথা নিতান্তই অবান্তর। মহান প্রভুর কাছে অশেষ শুকরিয়া। জীবনে অনেক সুন্দর সময় পার করেছি। এই জন্মদিনে আমার  মনে হচ্ছে গোধূলির দিকে আরো এক কদম এগিয়ে গেলাম আমি। আসলে এই গোধূলি বেলার দিকে তাকিয়ে থাকতে আমার খুউব ভালো লাগে । মনে হয় তার সাথে  অজানা কোন সম্পর্ক আছে,,,,,,,

#ছোট্টবেলার_অনুভূতি

সত্যি বলতে!
       ছোটবেলার জন্মদিনের  কথা ভুলতে পারি না! সকালে ঘুম থেকে উঠেই কেমন যেন একটা আলাদা অনুভূতি হতে থাকতো সারাক্ষন। এই দিনটাকে শুধুই আমার মনে হতো। যতো ফুল ফুটেছে সেদিন এই পৃথিবীতে সব যেন  আমার জন্য, যতো শিশু হেসেছে সেও আমার জন্য। ঐ নীল আকাশ আমার ঐ দখিনা হাওয়া আমার। মনে হতে থাকতো আজ এই পৃথিবীর পাখিরা অন্য সুরে গাইছে, আজ ঐ সূর্য আমার পানে চাইছে। মনে হতো পৃথিবীতে সাংঘাতিক একটা উলট পালট কিছু হয়ে যাবে।

#আর_এখনকার_আমি

 এখন ভাবি!
      ছোট সময় পড়তে গিয়ে  জীবনটাকে যেভাবে কল্পনা করেছি আর আজকে যে জীবন আমি যাপন করে যাচ্ছি তার কোথাও কি কোথাও কোন মিল আছে ? বিষয়টা নিয়ে খুউব চিন্তা করি! চিন্তা শেষে উত্তরটাও পেয়ে যাই।

আসলে!
    জীবনকে নিয়ে কে না স্বপ্ন দেখে ! সবার মতো স্বপ্ন আমিও দেখেছি আর তাই সে স্বপ্ন পূরণ করতে এই কঠিন বাস্তবতার সামনে আমি,  জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এমন ত্যাগ সবাই শিকার করে! যদি স্বপ্নের পিছনে না ঘুরি তাহলে আমি মানুষ কেন ? আজ মানুষ বলেই তো স্বপ্নের পিছু দৌড়াতে থাকি,,,,,

শাহনাজ রহমতুল্লাহ তার কিন্নর কন্ঠে গেয়ে ছিলেন,,,,,

 “স্বপ্ন সেতো স্বপ্নই নয়,
যদি না কিছু তার সত্যি হয়”

এখন মাঝে মধ্যে মনে হয় তাহলে কি সেগুলো স্বপ্ন ছিল না আদৌ ? জীবনটাকে যতোই মুঠোই ভরতে চেয়েছি, ততোই সেটা মুঠো থেকে পিছলে গেছে

 আজকাল জন্মদিন তেমন কোন বিশেষ অনুভূতি আর উচ্ছাস নিয়ে আসে না।  তেমন কোন আলাদা চমক নেই, অবাক করে দেয়ার জন্য কেউ এসে কড়া নাড়বে না, অনেকদিন ধরে চেয়ে আসছি কিছু মানুষ জন্মদিনের শুভেচ্ছাস্বরূপ উপহার দিবে কিন্তু কেউ দেয় নাহ। যখন যা মনে চায় কিনে নেই। মনে হয় চাওয়ার জন্যেও কেউ নেই, দেওয়ার আই মিন নেওয়ার আছে অনেকেই। এই বিষয়ের নিয়মে  অবাক হওয়ার মতো কিছুই নেই। ফেসবুক , মেইল, এস এম এস আর ফোনতো আছেই। তারপর ভালো কোন রেষ্টুরেন্টে খাও আর ঘুমাও, জন্মদিন শেষ, আবার সামনের বছরের জন্য তৈরি হই

 #কিন্তু!
       একটা কথা ! আমি মানুষের থেকে যেটা চাই সেটা হলো একটা চিঠি অথবা চিরকুট।  আমাকে দেওয়ার মতো কি কোন চিঠি নেই ? তাহলে কেনো এই নোট লিখছি আজ ? আসলে মেইলে,  ফেইসবুক, মেসেজে এত্তো এত্তো ই-কার্ড ফ্রী পাঠানোর সুযোগ থাকা সত্বেও অনেকে যখন হাতে লিখে ডাক / কুরিয়ার করে কার্ড পাঠায় তখন মনে হয় আসলে কি আমি এই ভালোবাসার যোগ্য ? বিষয়টা খুউব ভালো লাগে,,,

ভালোবাসার আরো কিছু  মানুষ আছে তারা আমার জন্মদাতা বাবা-মা সাথে আমার  পাঁচ বছরের বড়  আমার বড় আপু। এই বড় আপুর কাছ থেকে আমি অনেক শুভাকাংখীময় ভালোবাসা পেয়েছি, যার যোগ্যও আমি না। আল্লাহ তোমাদোর নেক হায়াত দান করুক।  তাদের অযাচিত ভালোবাসা আর চোখ ভিজিয়ে দেয়ার মতো মমতা পেয়েছি! জীবনে এটা কি কম পাওয়া  ???

মুক্তাগাছা  ময়মনসিংহ
২৩/০৫/২০১৯ ইং
রাত ১২:০১

Sunday, May 12, 2019

বাবা ❤

একটি জীবনের সুন্দর চরিত্র হচ্ছে স্বর্নের চেয়েও মূল্যবান। কিছু চমৎকার অনুপ্রেরণা মূলক উক্তি দুর্বলকে যোগায় শক্তি, দিশেহারাকে দেখায় পথ, অন্ধকারে জ্বালায় আলোর মশাল। হতাশা, ব্যর্থতা, গ্লানির তিক্ত অনুভূতিগুলো যখন ঘিরে ধরে তখন ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সম্বল হয় একটু আশা, একটুখানি সম্ভাবনার হাতছানি। জীবনের কঠিন সময়গুলোতে তোমার মনোবল ধরে রাখতে হৃদয়ে অনুপ্রেরণা যুগিয়ে দিচ্ছো তুমি,,,,,,,,,,

০১:১১
১৩/০৫/২০১৮ ইং
বাবার ছেলে আমি
❤ U বাবা

Wednesday, May 8, 2019

চিঠি

প্রিয় সুমাইয়্যাহ  !
             আমি তোমাকে ভালবাসি। আমি তোমাকে ভালবাসতে শুরু করেছি আজ থেকে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই। ভালোবাসা এভাবে মানুষকে বস করে ফেলে জানা ছিলো নাহ! তোমার মায়ায় পরে তা বুজতে নাহ জানতে বাধ্য নাহ, এবং রীতিমতো জানি। আমি যখন থেকে তোমাকে ভালবাসা শুরু করি তখন আমার মনে এমন কোন চাওয়া ছিল না।  যদি তুমি আমাকে ভালবাসো তবেই আমি তোমাকে ভালবাসব।

আসলে!
      আমি মনে করি ভালবাসা নিশর্তহীন সুতরাং এই যে তুমি আমাকে ভালো বাস না তাতে আমার কোন দুঃখ নেই এবং থাকবেও না।আমি তোমাকে ভালবাসি, আসলে কখনো আমার মাথায় উঁকি দেয় নি এমনকি আজ পর্যন্তও  দিচ্ছে না আমি যখন আমার দুই চোখ বন্ধ করি তখন তোমাকে আমার পাশে দেখি।আমি যখন আমার দুই চোখ খুলি তখনও তোমায় দেখি আমার হৃদয়ের কোটরে সযতনে রাখা তোমার প্রতিচ্ছবিগুলোতে তুমি স্পষ্ট । প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহুর্ত আমি তোমাকে অনুভব করি।পুর্ণিমার চাঁদের সাথে আমি কখনো তোমাকে তুলনা করতে পারি নি কারণ তুমি আমার নিকট পুর্ণিমার চাঁদ থেকে অনেক অনেক বেশি সুন্দর। আজ যে কদিন অতিক্রান্ত হতে চলল, এই কদিনে  এমন কোন দিন ছিল না যে দিন অন্ততঃ একবার হলেও তোমার কথা আমার মনে পড়ে নি। তুমি যখনি আমাকে বলেছ তোমার দ্বারা এসব সম্ভব নাহ আমি তখনি তোমার প্রতি আরো বেশী আকৃষ্ট হয়েছি। আচ্ছা তুমি কি একটুও ভাব নাই তোমার একটু ভালোবাসার স্পর্শ আমার দরকার , আমি কখনো তোমাকে ভুলতে পারব না এবং আমি তা চাই ও না। কারণ তুমি আমার প্রথম  ভালবাসা। স্রষ্টা তোমাকে আমার জন্যই সৃষ্টি করেছেন নাকি জানা নেই তবে আমাকে সৃষ্টি করেছেন তোমাকে ভালবাসার জন্য। তাই হয়তো পাগলামী করছি। আজ তুমি আমার পাশে নেই - তাতে কী হয়েছে, আমি তোমাকে একই ভাবে ভালবেসে চলেছি। এটা এর জন্য নয় যে আমি আর কাউকে পাই নি ভালবাসার জন্য, তোমাকে ভালবাসি বলেতে পেরে আমি সূখী এবং আনন্দিত।

 আমি
    এই আনন্দকে নষ্ট করতে চাই না। আমি তোমাকে এই  আমাকে ভুলে যেতে দিব না বললে ভুল হবে তবে এতটুকু বলবো  আজ থেকে পনের বছর পর  যেন আমাকে তোমার  মনে পরে। ভালবাসা পুরোপুরি একটি জীবনের মত। এটি সবসময় সহজ আচরণ করে না, এটি সবসময় আনন্দ বয়ে আনে না - এই চির সত্যটি আমি ভালো করে জানি।  আমি তোমাকে ভালবাসা বন্ধ করব না কারণ তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণাদানকারী।

আমি জানিনা
       তুমি আমার এসব পাগলামি বিশ্বাস করবে কিনা জানা নেই  তবে আমি যা বলছি তার ষোল আনাই সত্যি।আমি এখনো মনে  বিশ্বাস করি তুমাকে ভালোবাসি  যদিও তুমি  বলো এটি অসম্ভব। তাতে আমার কি আমি তো পাগল। আমি তোমাকে বলি পৃথিবীতে ভালবাসা এমন একটি বিষয় যেখানে অসম্ভব বলে কিছুই নেই। তুমি আমাকে বলেছ তুমি অন্য একজনকেও ভালবাসো না। তোমাকে শুধু বলতে চাই যেখানে যখন তোমার ভালবাসার প্রয়োজন হবে, শুধু স্মরণ রাখবে তোমার এক বন্ধু আছে যে তোমাকে ভালবাসার জন্য তার প্রাণ উৎসর্গ করতে সদা-সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে ।

অসমাপ্ত আমি মুকিম
০৯/০৫/২০১৯ ইং
ময়মনসিংহ

মুক্তাগাছা উপজেলার ঐতিহ্য



 মুক্তাগাছা জমিদারবাড়িইতিহাসের সত্যকে ধারণ করতে গেলে প্রসঙ্গক্রমে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার জমিদার পরিবারের কথাও উঠে আসবে। মুক্তাগাছার রাজ পরিবার ও ভূ-স্বামীদের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ শ্রীকৃষ্ণ আচার্য্য চৌধুরী ১৭২৭ সালে নবাব মুর্শিদকুলি খাঁর অনুগ্রহ লাভ করেন। তিনি জমিদারী সদর দপ্তর বিনোদবাড়ীতে স্থাপন করেন। পলাশীর যুদ্ধের পরপরই আনুমানিক ১৭৬০ সালে শ্রীকৃষ্ণ আচার্য্য চৌধুরীর পর ছেলে রামরাম,হরেরাম,বিষ্ণুরাম ও শিবরাম এ এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।তাদের পূর্ব-পুরুষগণ ছিলেন বগুড়ার অধিবাসী। কথিত আছে,শ্রীকৃষ্ণ আচার্য্য চৌধুরী জমিদারিত্ব নিয়ে এ এলাকায় আসার সময় মুক্তারাম কর্মকার নামের এক দরিদ্র প্রজা পিতলের সুবৃহৎ একটি দ্বীপধার (গাছা) দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানায়। রাজা খুশি হয়ে এক সময়ের বিনোদবাড়ি মুক্তারামের নামের সঙ্গে প্রদত্ত গাছার সঙ্গতি রেখে এ এলাকার নাম দেন  মুক্তাগাছা।প্রজাদের উপর জমিদারদের নির্যাতন-নিপীড়নের কাহিনী যেমন রয়েছে,তেমনি রয়েছে প্রজাবৎসলের ইতিহাস। জমিদারবাড়ীর সামনে দিয়ে জুতা পায়ে ছাতা মাথায় দিয়ে কোন প্রজা গেলে জমিদারদের হুকুমে পাইক বরকন্দজরা তাদের ধরে এনে চাবুক মেড়ে এই দুঃসাহসের সাজা দিত। এহেন শাস্তির ভয়ে প্রজারা জুতা,ছাতা বগলে নিয়ে রাজবাড়ীর আঙ্গিনা অতিক্রম করত।  পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষিত ও প্রজাবৎসল জমিদারদেরও সংখ্যাও নেহায়েৎ কম ছিল না। শ্রীকৃষ্ণ আচার্য্য চৌধুরীর চার পুত্রের মধ্যে কনিষ্ঠ পুত্র শিবরাম আচার্য্য চৌধুরী বাবার ন্যায় পরম ধার্মিক ছিলেন। তিনি ১৭৭৬ সালে দেশময় খাদ্য সংকটের  সময় মুক্ত হস্তে দান করে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ রক্ষায় এগিয়ে আসেন। খুলে দেন রাজকোষের তালা,খাদ্য ভান্ডারের সকল দুয়ার। তার এ মহানুভবতার কথা আজও মানুষের মুখে মুখে গুঞ্জরিত হয়।নাটোরের রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা রঘুনন্দন অপু এক বিধায় দত্তক নেন গৌরীকান্তকে। গৌরীকান্তের পুত্র শশীকান্তের সহধর্মীনি রানী লক্ষীদেবী নিঃসন্তান হওয়ায় ফরিদপুরের মজুমদার বংশের সূর্য্যকান্তকে দত্তক পুত্র রূপে গ্রহণ করেন। এমনি ভাবে দত্তকরাই জমিদারী শাসন করে যায় যুগের পর  যুগ।রাণী লক্ষ্মীদেবীর মৃত্যুর পর রাজবংশের জমিদারী চলে যায় কোর্ট অব ওয়ার্ডসের অধীনে। ১৮৬৭ সালে সূর্য্যকান্ত জমিদারীত্ব ফিরে পান। পরবর্তীতে এই সূর্য্যকান্তই বৃহত্তর ময়মনসিংহের মহারাজা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি রাজশাহী জেলার কমর গ্রামের শ্রী ভবেন্দ্র নারায়ন চক্রবর্ত্তীর কন্যা রাজরাজেশ্বরী দেবীকে বিয়ে করেন।ময়মনসিংহের রাজরাজেশ্বরী ওয়াটার ওয়ার্কাস তারই  স্বাক্ষী যুগ যুগ ধরে বহন করে চলেছে । এ জেলায় বিশুদ্ধ পানি পাওয়ার ইতিহাস এই প্রথম। জমিদার বাড়ির অভ্যন্তরে তার নামের সাথে সঙ্গতি রেখে তৈরী করেন মনোহর কারুকার্যময় এক মন্দির। নাম দেন রাজ রাজেশ্বরী মন্দির। সোনার গহনা দিয়ে জড়ানো হতো মন্দিরের অভ্যন্তরের প্রতিমা গুলোকে। জমিদারদের মধ্যে বিবাদ থাকলেও তারা প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান দূর্গা পূজা পালত করতেন এই মন্দিরকে ঘিরেই। এ ছাড়াও তৈরী করেছিলেন পাথরের শিব মন্দির,রাম কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়,নগেন্দ্র নারায়ন বালিকা বিদ্যালয়।ময়মনসিংহ পৌরসভা হওয়ার অনেক পূর্বেই জমিদারদের উদ্যোগে বেঙ্গল গভর্ণমেন্টের গেজেট নোটিফিকেশন জারীর মাধ্যমে মুক্তাগাছা ইউনিয়ন পৌরসভায় রূপান্তরিত হয়।প্রতিষ্ঠাকালীন পৌর সভায় ছয় জমিদার সূর্য্যকান্ত আচার্য্য চৌধুরী,অমৃত নারায়ন আচার্য্য চৌধুরী,যোগেন্দ্র নারায়ন আচার্য্য চৌধুরী,কেশব চন্দ্র আচার্য্য চৌধুরী,দূর্গাদাস আচার্য্য চৌধুরী ও কেদার কিশোর আচার্য্য চৌধুরী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।১৭৬০ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত প্রায় দু’শ বছর এ এলাকায় জমিদারী প্রথা চালু ছিল। ১৯৫৬ সালে তদানীন্তন সরকার জমিদারী প্রথা বাতিল করলে একমাত্র জমিদার বকুল কিশোর আচার্য্য চৌধুরী ব্যতিত অন্যসবাই ভারতে চলে যান। তিনি মৃত্যুর পূর্ব অবধি এখানে অবস্থান করেন। এখানকার জমিদাররা ছিলেন অত্যন্ত সৌখিন ও শিকারী পাগল। তারা বসবাস ও রাজকার্য পরিচালনার জন্য তৈরী করেন সুউচ্চ একতলা ও দ্বিতল বিশিষ্ট ভবন। ছিল বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা। মধুপুর বনে সদল বলে তাঁবু গেঁড়ে তারা শিকার করত বড় বড় বাঘ,হরিণসহ হিংস্র প্রাণী।জমিদার মহলের সমগ্র আঙ্গিনা ছিল পাকা। হাতি সংগ্রহ ছিল তাদের নেশা। হাতিশালায় মাহুতরা থাকত সদা ব্যস্ত। কে কত বেশী হাতি তাদের হাতিশালায় সংগ্রহ করতে পারে এ নিয়ে চলতো প্রকাশ্য প্রতিযোগিতা। দূর্গা প্রতিমা বিসর্জনে হত সাজানো হাতির মিছিল। সারা বছর জুড়ে চলত যাত্রা,নাটক,কবি গানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান। দেশের বিখ্যাত শিল্পীদের পাশাপাশি ভারত থেকে আনা হত নামকরা শিল্পীদের। আয়োজন করা হত প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলা। ভারতের বিখ্যাত ক্লাব মোহনবাগান,ইষ্ট বেঙ্গল এতে অংশগ্রহণ করতো।সূর্য্যকান্ত আচার্য্য চৌধুরীর বাড়িটি আজ শহীদস্মৃতি সরকারী কলেজ। ঐতিহাসিক সেই দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি পুরনো আদলেই নতুনভাবে সংস্কার করা হয়েছে। রাজা জগৎ কিশোর আচার্য্য চৌধুরীর বাড়িটি আজও দাঁড়িয়ে আছে কালের  স্বাক্ষী  হয়ে। দুবৃর্ত্তরা রাতের আধাঁরে বিভিন্ন ভাস্কর্য,কাঠ,লোহাসহ মূল্যবান প্রত্নতত্ব সম্পদ লুণ্ঠন করে ফুঁকলা করে দিয়েছে রাজবাড়ি। মনকাড়া,দৃষ্টিনন্দন,কারুকার্য খচিত ভবনগুলো অযত্ন আর অবহেলায় আজ বিলুপ্তপ্রায়। এ বাড়ির ঠিক উত্তর পার্শ্বেই ছিল রাজা বিষ্ণুরামের বাড়ি। এখানে স্থাপন করা হয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। বিশাল এলাকা জুড়ে ছিল বড় বড়  অট্রালিকা। ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৫ ফুট প্রস্থ্যের একটি ভবন ছাড়া কিছুই আর এখানে অবশিষ্ট নেই। এ ভবনটি এখন ব্যাটালিয়নের অশ্রাগার হিসেবে ব্যবহত হচ্ছে।এ ছাড়াও তারা জনকল্যাণে জেলার বিভিন্ন স্থানে  স্থাপন করেছিলেন জনহিতকর প্রতিষ্ঠান। সেগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ শহরে কালিবাড়ি স্কুল,আলেকজান্ডার ক্যাসেল,মহিলা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ,বিদ্যাময়ী সরকারী বালিকা বিদ্যালয়,এস কে হাসপাতাল,টাউন হলসহ আরও অনেক। আনন্দ মোহন কলেজ বর্তমানে আনন্দ মোহন বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজ  স্থাপনেও ছিল তাদের  উল্লেখযোগ্য অনুদান। প্রজাদের গোসল ও খাবার পানির জন্য খনন করেন শতাধিক বড় বড় পুকুরসংস্কৃতি কর্মকান্ডে অবদান স্মরণযোগ্য। নাটকের জন্য জমিদার জগৎ কিশোর আচার্য্য চৌধুরীর অন্দর মহলের ভিতরে  স্থায়ী ভাবে নির্মাণ করা হয় ঘূর্ণিয়মান মঞ্চ। যা ভারত উপমহাদেশে দুটির মধ্যে একটি। পরবর্তীতে তা স্থানান্তরিত হয়ে  ময়মনসিংহ টাউন হলে  প্রতিস্থাপন করা হয়।  ছিল বাংলার অন্যতম বৃহৎ পাঠাগার,জীতেন্দ্র কিশোর লাইব্রেরী। র‌্যাগেলের মানচিত্র,বঙ্কিম চট্রপাধ্যায়ের উপন্যাসের প্রথম মুদ্রিত কপি,মীর মোশাররফ হোসেনের রচনার প্রথম মুদ্রিত কপি,রবীন্দ্র ভারতীর অসংখ্য প্রকাশনা,উপ মহাদেশের বিভিন্ন মানচিত্র, চিকিৎসা বিষয়ক বই,কীর্তিমানদের আত্মজীবনী,সংস্কৃত সাহিত্যের গ্রন্থাবলী,ভেষজ চিকিৎসার বই,উদ্যান বিষয়ক গ্রন্থসহ অসংখ্য সংগ্রহ ছিল সেলফে সেলফে ঠাঁসা। ১৯৬৪ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর মূল্যবান বহু গ্রন্থ বেহাত ও নস্ট হয়ে যায়।পরে দশ সহস্রাধিক গ্রন্থ উদ্ধার করে কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড ঢাকায় সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে গ্রন্থ গুলো জিতেন্দ্র কিশোর গ্যালারী নামে বাংলা একাডেমীতে সংরক্ষিত রয়েছে। এ ছাড়াও তাদের বহু মূল্যবান ব্যবহার্য অলংকার,তৈজষপত্র,কাপড়-চোপড়,যুদ্ধাস্র,গন্ডারসহ বিভিন্ন পশুর চামড়া,হাতির দাঁতে বুনন শীতল পাটি ও বিভিন্ন উপকরণ বর্তমানে ময়মনসিংহ জাদু ঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।        জমিদারদের জমিদারী বিলীন হওয়ার সাথে সাথে তাদের বহু বিষয়সম্পত্তি ও কারুকার্যের বাসভবন,মন্দির,নাট মহল,সান বাঁধান ঘাটসহ মূল্যবান স্থাপনা গুলো হয়ে পড়ে জীর্ণ মলিন। ভবনের ইট,সুরকী,আস্ত ধ্বসে পড়েছে। দেয়াল ছাড়াই শুধু খুঁটির উপর দাঁড়িয়ে জানান দিচ্ছে তাদের অতীত অস্থিত্বের

কপি : বাংলাদেশ সরকারি তথ্য ওয়েবসাইট

Tuesday, May 7, 2019

আমাকে_আমি



আমি মানুষ!
             অতি সাধারন একটা মানুষ,,,
পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের কিছু আশা-আকাংখা থাকে, সেটা বাস্তুবে হোক অথবা স্বপ্নে । আমারও তেমন কিছু স্বপ্ন আছে। তাই হাজার মানুষের ভীরে আমিও আমার জীবন খুঁজে বেড়াই। খুঁজে খুঁজে  ক্লান্ত  হই, কখনো থেমে যাই আবার শুরু করি। এতে আমি খুব মজা পাই তাই এভাবেই  বরাবরের মতোই খুঁজে বেড়াই এই আমাকে।

আমি!
     যেখানে আমার জীবনকে সাজাই একদম নিজের মতোকরে সেখানেই তুমি এসে যায়! আচ্ছা বাদ দেই এসব। আমারও তেমন একান্ত কিছু স্বপ্ন আছে, যা আমাকে ভালো কিছু করার প্রেরনা যোগায়।
জীবনে কখনো প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেব মেলানোর চেষ্টা করিনি, হিসেব মেলানোর কোনো ব্যর্থ চেষ্টাও আমার নেই। যেকোনো মুহুর্তকে সহজে গ্রহন করার মানসিকতা লালন করি আমি, তাই হয়ত এমন। জীবনকে সব সময় বুঝতে চেষ্টা করেছি অতি-স্বাভাবিক ভাবে। আদৌও  কি পেরেছি নাকি জানা নেই।

 আমি!
       আসলে আপদ-বিপদ এর অর্থ খুঁজিনা।
আমি বুঝতে চেষ্টা করি না এই পৃথিবীতে যা ঘটমান তার সবই স্বাভাবিক। অস্বাভাবিক হতেই পারেনা, এখানে অস্বাভাবিক নামক শব্দের কোনো স্থান নেই ।
বলতে গেলে যোগ পরিবর্তনশীল তাই পৃথিবীর সাথে আমিও পরিবর্তন হচ্ছি অনবরত। তাই আমার মাঝে এত্তো পরিবর্তন  ঘটছে

আমি!
      এখনো বিশ্বাস করি এই পৃথীবিতে ভালো মানুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, যারা খারাপ কাজে লিপ্ত তারা কেবলি পরিস্থিতির শিকার। তাই ধরে নিয়েছি আমি ভালো মানুশ সব সময় আশীর্বাদ করি জগতের সকল মানুষ সুখে থাকুক,সৌন্দর্য্য গুলো দেহ ছাড়িয়ে মন পর্যন্ত পৌছে যাক, শুভহোক সকল মঙ্গল প্রয়াস…

২য় রমজান
বাদ ফজর
ময়মনসিংহ

Saturday, April 27, 2019

চিঠি

প্রিয়
       সর্ব প্রথম  লিখছিলাম তোমার ঠিকানায়।  এর আগে যা লিখেছিলাম তা আমার ঠিকানায় রয়ে যাইনি, ছড়িয়ে  দিয়েছি ফেইসবুকের গ্রুপ গুলোতে।  এরপর তুমি পেয়েছো কি পাওনি তা আমি জানতে পারিনি। হয়তো পাওনি! জানতেও চাওনি, জানতে চাইবেই বা  কেন,  আমি বুঝি আমার ভালবাসার ভাষা তোমার দৃষ্টিগোচর না হলেও, হৃদয়গোচর যে হয় সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত।  আর তার অন্যতম কারণ মিটমিটিয়ে  লুকিয়ে লুকিয়ে  দেখা গুলো হচ্ছে   বাস্তব প্রমাণ।  আমি এখন তোমার সাথে এতোটা কথা বলি নাহ।  তুমি নিজেই এসে যা তা বলে চলে যাও আর আমি  শুনে যাই ।

মায়াবতী জানো,
              সত্যিকারের প্রেমিকরা বোকা হয়, কখনো প্রতারক হয়না। মানুষ প্রতারনার সূত্র জানে, পুরুষ জানে কঠোরতার ধরন। আর শুদ্ধ প্রেমিকগুলো শুধু প্রেম করতে জানে! তারা প্রেমিকাকে দেখেনা, তার প্রেমকে দেখে। সারারাত পড়াশোনা-নাওয়া খাওয়া ফেলে কুটুর-কুটুর প্রেম কাব্য লিখে। প্রেমে পড়লে তারা এতো বোকা হয়ে যায় যে নিজেকে অচেনা লাগে।
আর অতি সৌভাগ্যবান প্রেমিকগুলো কি করে জানো?
তারা হুডখোলা রিকশায় শহরময় চষে বেড়ায়, প্রেমিকার মুখে একচিলতে হাসি দেখার আশায় বিশ্ব সংসার তন্ন-তন্ন করে খুঁজে আনে ১০৮টা নীল পদ্ম। রাত জেগে তারাও প্রেমিকার ঠোঁটে প্রেমের লাল গোলাপ ফোটায়, চুলের বনে ছড়িয়ে দেয় হাসনাহেনার ঘ্রাণ। মাতাল প্রেমিকগুলো একেকটা দীর্ঘ রাত পার করে প্রেমিকার চোখের ভাঁজের চড়ুই-ভাতীর স্বপ্নে…

ওগো মায়াবতী,
          আমি অসহায় বোকা প্রেমিক এক, আমারও যে খুব সৌভাগ্যবান সাহসী প্রেমিক হতে ইচ্ছে করে!


রাত
০১:১৩
২৮/০৪;২০১৯ ইং
ময়মনসিংহ

Sunday, April 14, 2019

হয়তো প্রেমে পরেছি


নিজেকে খুব স্বার্থপর মনে হচ্ছে।
তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে , তোমাকে ভালবাসছি না তো ?
আমাকে ভালবাসতে তোমাকে বাধ্য করছি না তো ???
কেন এমন হয় ?
এতো ভালোবাসা কিভাবে কর্পূরের মতো উবে যায় ?
সেটা কি আসলেই আদৌ ভালোবাসা ছিল ?
আমার ভালোবাসা তো অপরিবর্তনীয় , কি করবো আমি ?
খুব বেশী ভালবাসি যে তোমায় !!!

রাত ১১ঃ৩৬
মুক্তাগাছা

Saturday, April 13, 2019

ইসলামের দৃষ্টিতে পয়লা বৈশাখ



প্রতি বছরই বাংলায় ঘরে ঘরে না হবে রাস্তায় রাস্তায় আসে পয়লা বৈশাখ তথা বাংলা নববর্ষ। এ দিনটি বিশেষ উৎসব হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাভাষীদের কাছে নববর্ষ হিসেবে পালিত হয়। নববর্ষ, বর্ষবরণ, পয়লা বৈশাখ- এ শব্দগুলো বাংলা নতুন বছরের আগমন উপলক্ষে আয়োজিত উৎসব-অনুষ্ঠানাদিকে ইঙ্গিত করে।  কিছু ব্যক্তি আনন্দ উৎসবের নামে অনৈতিক কিছু কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এ দিনটিকে কলুষিত করছে। যা ইসলাম এবং সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে চরম অন্যায় হিসেবে বিবেচিত।

 ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম। ইসলামের জীবনকে পরকালীন জীবনের শস্যক্ষেত্র হিসেবে বলা হয়েছে। ইসলাম আনন্দ উৎসব উদযাপন করার অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু তার সীমারেখা রয়েছে। ইসলাম শান্তির কথা বলেছে, তার পাশে অশান্তি সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকতে বলেছে। ইসলাম শালীনতার কথা বলেছে, কিন্তু তার পাশে অশালীনতা থেকে বিরত থাকতে বলেছে। এক কথায় ইসলাম মানুষের অকল্যাণ হয় এমন প্রতিটি কাজ থেকেই বিরত থাকতে বলেছে।

বাংলাদেশে প্রতি বছরই খুব ধুমধামে পয়লা বৈশাখ উদযাপিত হচ্ছে। পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, নববর্ষের উৎসব উদযাপনের এই দিনে ইসলামী রীতি উপেক্ষা করে নামধারী কিছু মুসলিম বিজাতীয় অপসংস্কৃতির অনুসরণ করে । তারা  পোশাক পরিধান, বিয়ের মিথ্যা সাজে দম্পত্তি সাজিয়ে বর-কনের শোভাযাত্রা, বিভিন্ন বাঘ পেচা, পাখি মূর্তির  প্রদর্শনী, উল্কি আঁকা, মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে পয়লা বৈশাখ উদযাপন করছে। নববর্ষ উদযাপনে তাদের আনন্দ ফুর্তি ক্রমেই যেন সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে।

নববর্ষ উদযাপনকারী অনেকেই দিবসটিকে কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক বলে মনে করে থাকেন। তাদের ধারণা নতুন বছর কল্যাণ বয়ে আনে, দূর করে যাবতীয় পুরনো কষ্ট ও ব্যর্থতার গ্লানি  এ ধরনের কোনো তত্ত্ব ইসলাম আদৌ সমর্থন করে না। মূলত নতুন বছরের সাথে কল্যাণ শুভাগমনের ধারণা আদিযুগের প্রকৃতি পূজারী মানুষের কুসংস্কারচ্ছন্ন ধ্যান-ধারণারই বহিঃপ্রকাশ। ইসলামে এ ধরনের কুসংস্কারের কোনো স্থান নেই।

কেউ যদি এই ধারণা পোষণ করেন যে, নববর্ষের প্রারম্ভের সাথে কল্যাণের কোনো সম্পর্ক রয়েছে, তবে সে শিরকে লিপ্ত হলো, অর্থাৎ আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করল। কেননা কল্যাণ-অকল্যাণ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই এসে থাকে

১৩/০৪/২০১৯ ইং
ময়মনসিংহ

Friday, April 12, 2019

তোমাকে

আমি জানি
             তোমাকে ভালোবাসার কথা বলে কোন লাভ নেই। তবুও বলতে ইচ্ছে হয় , হয়তো প্রেমে পরে গিয়েছি।  আজকাল প্রেমে পরাটা স্বাভাবিক তার মধ্যে প্রেমের বয়স চলছে। তোমার লজ্জাবতী মায়া মুখ,  মনকাড়া চাহনি চোখ না সরানোর মতো চুল গুলো আমাকে যেন প্রেমিক বানিয়ে ছেড়েছে। এখন  মনে হচ্ছে এ যেন তোমায় ভালোবেসে যাওয়ার এক অসীম অনুপ্রেরণা।। তাই তো বছরের পর বছর, সহস্রাব্দের পর সহস্রাব্দ তোমায় ভালোবেসে যেতে ইচ্ছে করছে এখনো প্রথমে ছবিতে দেখেই চোখজোড়া মুহূর্তেই চষে ফেলি তোমার  অট্টালিকার প্রতিটা কোণ, আর তাতেই লিখেছিলাম কবিতা দেখিয়ে ছিলাম তোমাকে আর বারবার  এক নজর দেখার অভিপ্রায় নিয়ে সবসময়  অপেক্ষায়  থাকি। জানি এই সামান্য দেখাতে কিবা আসে যায় তবুও কেন জানি দেখার ইচ্ছে নিয়ে বসে  থাকি । কিন্তু ভালোবাসার কাঙাল হৃদয় আর অতৃপ্ত এই দুচোখ তোমার সামান্য দর্শনেই খুঁজে পায় সাগরসম তৃষ্ণা নিবারণের উপকরণের মতো।

 কি নিস্পাপ তোমার ঐ চাহনি!!! কি তীক্ষ্ণ তোমার দৃষ্টি!!! কি দেখেছিলাম ঐ মুখে জানি না; শুধু জানি সেইদিন থেকে, সেই মুহূর্ত থেকে আমার জীর্ণ দেহের স্বপ্নীল হৃদয়ের ঠিক মাঝখানটায় তোমার আসন স্থায়ী হয়ে গেছে। তোমার মনে হচ্ছে আমি পাগলামি করছি এমন ধারণা করাটাও স্বাভাবিক। সত্যিই পাগলামি এটা তোমার পাগলামি মনে হলে পাগল বল উড়িয়ে দিও তবে জেনে রেখো আমি সত্যিই প্রেমে পরেছি তোমার।  সেদিন তোমার বিষণ্ণ মুখের পানে চেয়ে আমার শিরধারা বেয়ে মুহূর্তেই খেলে গিয়েছিলো বিদ্যুৎ তরঙ্গ, হৃদয়ের কোথায় যেন খানিকটা রক্ত ক্ষরণেরও আভাস পেয়েছিলাম। তারপর থেকে প্রতিটা সকাল, প্রতিটা দুপুর, প্রতিটা রাত, প্রতিটা মুহূর্ত কেটেছে অজানা-অচেনা ভালোবাসার পরিণতিহীন তপস্যায়। মাঝে মাঝে স্রস্টার প্রতি বিষিয়ে উঠত মন; কেনইবা দিলে আমাকে এমন আত্মসম্মানহীন অপারগ জীবন যেখানে অজস্র অপূর্ণতা, যেখানে প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির সমীকরণ মেলাতে আমি বারংবার ব্যর্থ। পরক্ষণই মনে হতো এমনটি না হলে হয়ত তোমার সাথে কখনই কথা হতো না আমার; অনুভূতির জগৎ থাকত ভালোবাসাহীন, অন্তঃসাড়।

এখন!!!
  আমি এক জীবনী শক্তিহীন জীব কিংবা জড়…। অসীমের পানে চেয়ে আছি শেষ বিকেলের মেয়ের দেখা পাব বলে… ধূসর মেঘ হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছি নীলাকাশের নিঃসীম নিরালায়, অঝোর বৃষ্টি হয়ে ঝরব বলে…।


১১/০৪/২০১৯ ইং
মুক্তাগাছা ময়মনসিংহ 

মানুশ



এই শীতের কুয়াশার চাদরে মাখামাখি বিকবিক শরীর
রুগ্নতায় ভেসে উঠেছে বুকের প্রতিটি অঙ্গ পতঙ্গ,
পাজরের হাড় গুনে হাতেখড়ির হতে পারে সাধারণ মানব সমাজের মতোই ওদেরটাও।কিন্তু চোখের অগোচরে চোখ রেখে অমানবিক সময় যাচ্ছে  তাদের। তাই হয়তো তারা অবহেলিত, লাঞ্চিত, শোষিত। পথের ধূলোয় মাখিয়ে শরীর হেলান দিয়ে আছে  সারাদিন অার সারারাত এই  ফুটপাতে।ক্ষুধার্ত শরীর দেখে মনে হচ্ছে আকাশের উজ্জ্বল চাঁদটি যেন কাফন শাদা সন্দেশ।

কফি হাউস
  ৬.৪৭
১২/১২/১৮ইং

Wednesday, April 10, 2019

কেন তুমিই❓❓❓

#ভাবনায়_তুমি_এসে_পরে_কেন ❓

ভালো লাগলেই ভালোবাসতে হবে ? কারণ ছাড়া অযথা কথা বলতে হবে ? এমন কোন রীতি- নীতি মানব সভ্যতায় নেই।  মানুষের ভালো লাগা গুলো খুবই রহস্যময়, কিছু কিছু মানুষ এই রহস্যময় ভালো লাগার মায়ার জালে স্বয়ংক্রিয় ভাবে আটকে যায়, আমিও তেমন আটকে গেছি। হাজার চেষ্টা করেও এর থেকে বেরিয়ে আসতে পারছি না। এই রহস্যময় জগতে এখনো আমি বয়সে তরুণ, কয়েকদিন আগেই কৈশোরত্তীর্ণ হলাম। মন থেকে এখন ও সেটার পাদুর্ভাব যায় নি, তাই নিজের ভিতর আবেগ গুলো খুব বেশি পরিমাণে উপচিয়ে পড়তে চায়। এ জন্যে মাঝে মাঝে আকাশ মনে করি নিজেকে। কেন আকাশ মনে করি কারণ বলতে পারবো না! অসম্ভব কে সম্ভব  ভেবে এক ধরনের রহস্যময় অসম্পূর্ণ ভালো লাগা বোধ অনুভব করি, আবার পরক্ষনে খুব খারাপ লাগে কারণ তা অসম্পূর্ণ ও অবাস্তব। এই সব ভাবনা গুলো এত বেশী আবেগ তাড়িত যা আমাকে সব নিয়ম নীতির ঊর্ধ্বে নিয়ে যায়। নিজের ভিতর অদ্ভুত এক অদৃশ্য সুখ অনুভব করি। তবে এর ব্যাপ্তি ক্ষণস্থায়ী হয়।  যখন এই ঘোর কেটে যায় তখন বোধোদয় হয়,  সব কিছুই অর্থহীন, অযৌক্তিক ও অযাচিত । কিন্তু এতসব কিছুর পরেও নিজের ভিতর শূন্যতা গুলো বারবার ডেকে আনে ঐসব অসম্পূর্ণ অনুভূতি গুলো।

রাত ১২ঃ ৩৭
০৯/০৪/২০১৯ ইং
মুক্তাগাছা ময়মনসিংহ

Sunday, April 7, 2019

প্রেম

মায়া ভরা মেয়ে

হৃদয় শুধু  হৃদয় খুঁজে
    মন খুঁজে  মন,
আমি শুধু খুঁজে বেড়াই
  অজানা দু'নয়ন।

কি যে মায়া রূপের ছায়া
    নয়নেতে তোমার,
ঐ নয়নে না হারানোর
   সাধ্য আছে কার ?

ঐ নয়নে সাগর আছে
   আছে জলের ঢেউ,
সে জলেরই স্রোতে উঠতে মেতে
    জানবে না তো কেউ?

হরিণ হরিণ নয়ন তোমার
কাজল বরণ রূপ,
পটল চেরা সে নয়নে
দিতে চাই গো ডুব।

০৯ : ৩৬
০৭/০৪/২০১৯ইং
মুক্তাগাছা ময়মনসিংহ

কল্পনায়
সুমাইয়্যাহ ইসলাম
নারায়নগঞ্জের মেয়ে

Friday, April 5, 2019

চিঠি

প্রিয় বাবা
           চোখের সামনে সব সময় থাকছেন, দেখছি ভালো মন্দ মিলিয়েই আছেন, আজ সারাদিন হঠাৎ খুব বেশি  আপনার কথা মনে হচ্ছে  তাইতো লিখতে বসলাম  এই চিঠি হয়তো  আপনার কাছে পৌঁছবে না- তবু লিখছি লিখতে বসে হাতটা কাঁপছে। আর অশ্রুজলে ভরে যাচ্ছে নয়ন দুটি। অশ্রু-চোখে আর কাঁপা কাঁপা হাতে কি চিঠি লেখা যায় বলেন?! হয়তো কিছুদিন পর পড়ালেখার জন্য আবার দূর কোথাও চলে যাব এখনকার মতো চাইলেও পারবো না যখন তখন আপনাকে দেখতে।  আজকে কাছে থেকে বাবার মর্যাদা বুঝে আপনাকে চিঠি লেখে ভালোবাসাটা প্রকাশ করতে পেরে পৃথীবির বুকে  একটা যোগ্য সন্তান বলে নিজেকে পরিচয় দিতে ইচ্ছে  হচ্ছে।

 আপনার করা কঠিন  শাসন গুলো এক সময় হয়তো করবেন না তাই আমাকে সবসময় পাঁচটি কথা মেনে চলতে বলতেন আপনার বলা কথা গুলো আমি সবসময় মেনে চলতে চেষ্টা করি/ করবো ইনশাআল্লাহ

১. কখনো মানুষকে ঠকাবি না
২. মাকে কোনদিন কষ্ট দিবি না
৩. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরবি
৪. বাইক আস্তে ধীরে চালাবি
৫. মিথ্যা বলবি না

জানেন বাবা!
             মাদ্রাসায় যখন  থাকি তখন মা আর আপনার কথা খুব মনে পরে, মাদ্রাসায় থাকা অবস্থায়  বিকেলে খেলা করতাম না , আবার অনেক সময় মনটা ফ্রেশ করার জন্যে  খেলা করতাম। প্রায় প্রতিটা বিকেল একা নির্জনে থেকেছি আর যখন একা থাকতাম ভাবনায় আপনাদের পাশে রাখতাম  মন ভালো হয়ে যেত। আর যখন পৃথিবীর বুক থেকে সূর্য বিদায় নিয়ে  অন্ধকার করে দিত এই পৃথিবীকে  তখন আপনাকে আরো বেশী মনে পড়তো। তখন ইচ্ছে থাকলেও জোরে কাঁদা সম্ভব না, তাই চুপচাপ আপনাকে চিৎকার দিয়ে বাবা বাবা বলে ডাকতাম  আর চোখ থেকে অশ্রু ঝাড়াতাম। প্রতিটি সন্তান একদিন বাবা শূন্যতায় ভোগে। সবাই একদিন বাবার অকৃত্রিম ভালোবাসার স্পর্শ খুব বেশি মিস করে! আল্লাহ আপনাকে নেক হায়াত দান করুন ,,,,

প্রিয় বাবা,
               মাঝে মধ্যে আপনার পরম স্নেহে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে যখন  বলতেন “তুমাকে অনেক পড়তে হবে, অনেক বড় হতে হবে, মানুষের মতো মানুষ হতে হবে”। আমি তখন অনেক বড় হওয়ার প্রেরণা খুঁজে  পেতাম। প্রতিটি সন্তান প্রথম শিক্ষা গ্রহণ করে বাবার কাছ থেকে। আমারও প্রথম শিক্ষা আপনার কাছ থেকে। আপনি আপনার আদর্শে বড় করছেন আমাকে এটাই আমার সবচেয়ে বড় ভাগ্য অনেকে হয়তো এই সুযোগটা পায় নাহ। আর মার প্রতি ভালোবাসা রেখে একটি কথা বারবার বলতেন মার সাথে কখনো খারাপ আচরণ করবি না, কষ্ট দিবি না আজ পর্যন্ত কেউ মাকে কষ্ট দিয়ে বড় হয় নাই বেয়াদবি হবে এমন কথা কোনদিন বলবি নাহ, আপনি মাকেও খুব ভালোবাসতেন মা যেন আমার দ্বারা  কোনদিন কষ্ট না পায় তাই বারবার সতর্ক করতেন।

 বাবা,
        আপনার কথাগুলো মনের মাঝে গেঁথে নিয়েছি। আপনি শুনে খুশি হবেন আমি আপনার  আদর্শ মেনে চলি ও চলব ইনশাআল্লাহ
আমি ধন্য ও গর্বিত আপনার মতো বাবা পেয়ে।
সত্যি আপনি আমার শ্রেষ্ঠ বাবা। বাবা একটা কথা কখনো বলা হয় নাই
 আমি আপনাকে অ-নে-ক ভালোবাসি বাবা ❤

০৫/০৪/২০১৯
মুক্তগাছা ময়মনসিংহ

Monday, April 1, 2019

কল্পিত কথা ৫



শান্ত শিষ্ট  মনটা হঠাৎ করে কেন যেন বেকে বসে আছে। ঠিক যেন   ধনুকের মতো আঁকা বাঁকা। বর্তমানে আঁকা বাকা মনের গতি প্রকৃতি। কেন? কেন জানি! তা আমার জানার প্রয়োজন নেই।  জানি না কেন এই পরিবর্তন। হঠা? না  হঠাৎ নয়, মনে হচ্ছে  মনের মধ্যে জমে থাকা  এক ভয়ংকর ভুত মেঘ বৃষ্টি ঝরাতে  শুরু করছে। সেই ভয়ানক ভুত  বৃষ্টি ঝরচ্ছে মেঘের ফাঁক  গলে গলে তার নিজস্ব মলিনতায় মত।  এ এক বৃষ্টি নয়,  ঝড়া পাতার  মিথ্যা অভিনয়। যা  অভিনয় করা প্রাণীদের মতো!!! 

২২/১১/২০১৮ ইং
পৌরসভা কফি হাউস
মুক্তাগাছা 

অনুভব



জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমি তোমাতে হারিয়ে ছিলাম বলে এখনো নি:শ্বাসে আমার গন্ধ পাও!!!
আমাকে অনুভব করে ফেরো যখন তখন। আমি মানা করি নাহ। ভালোবাসার কোল ঘেসে চাদর মুরি দিয়ে এখন একাকিত্তে খোঁজো আমায় কিন্তু কি লাভ বলো??
আঁধারের সঙ্গী হয়ে যাও, সুখে থাকবে,,,,,
আঁধার রাতের কালো অন্ধকারে উড়িয়ে দিয়েছি
 তোমার-আমার ভালোবাসা,,,,,

আর শোন!
       ভাঁজ করে রেখো বইয়ের পাতায়
      অনুভব করা আমার স্পর্শ


 ০৫/২/২০১৯ ইং
 ময়মনসিংহ

কল্পিত কথা ৩



- কী করছ একা একা একা ?

- হয়তো করো জন্যে অপেক্ষা ।

- এই মিথ্যে কেন হু? আমার আসার কথাতো তুমি একেবারেই জানতে নাহ ।

- মানুষও তো জানে না যে, মাঝে তার কখন মিলন মেলে। তবুও মানুষই সেই খোঁজ  রাখে ।

- বুঝলাম তুমি আঁধার ।

- সূর্য হয়ে জ্বলেছিলাম কিন্তু পরে নিভে যেতে হল যে !

- থাক সে কথা । তারপর বলো কেমন আছ ?

- শেষের কবিতার মত।

গল্প

বেঁচে থাকুক ভালোবাসা


তানিয়ার সাথে আমার বিয়ে বেশ কিছুদিন হল। তানিয়ার আচার-আচরণে আমি খুবই মুগ্ধ!  ভালো ঘরের একটা  মেয়ে সে,পরিবারের পছন্দেই বিয়েটা হয়েছে। পরিবার বলতে, মা ছাড়া আমার কেউ নেই ! বাবা মারা গেছেন প্রায় তিন বছর!

খেয়াল করেছি, বিয়ের পর থেকেই মেয়েটা খুব ভালোবাসে আমাকে। অফিস  থেকে আসার পর থেকে পরদিন অফিসে যাওয়া পর্যন্ত  খুব কেয়ার করে আমাকে। আর ছুটির দিন হলেই ঘুরতে নিয়ে যাও! তখন আমার মনে হচ্ছিল "My life is full of Surprise is" আমার খুব স্পষ্ট ভাবে  মনে পরে, যেমনটা আমি দেখেছিলাম মা- বাবাকে। ঠিক  same একটা life যেন আমার। সেই ছোট  হতে আজ পর্যন্ত  মা- বাবার মতো এমন ভালোবাসা দেখেছি বলে মনে হয় না! কোনোদিন ভাবিনি আমিও মার মতো এমন একটা লক্ষী মেয়েকে জীবন  সঙ্গী হিসেবে পাবো। বিয়ের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত  সব সময় ভয় পেতাম, আর বন্ধুদের প্যারা তো আছেই!
= মামা, বিয়েটা করে নাও! টের পাবা কতো ধানে কতো চাল!!!
 আমিও ভাবতাম কেমন না কেমন একটা মেয়েকে পাব আল্লাহ ভালো জানেন।  শয়তানগুলো আরো ভয় দেখিয়ে দিত। কিন্তু  শয়তানগুলোর বলা  আর আমার চিন্তা ধারা করা বউয়ের মতো কোন বউ হয়নি। হয়েছে একটা লক্ষী বউ।এই যুগের মেয়েদের যা অবস্থা! তবে মাশাআল্লাহ  মার মতোই একটা বউ পেয়েছি। শুকরিয়া। ভালোই কাটছিল দিনগুলো ।
কিন্তু হঠাৎ! বিয়ের কিছুদিন পর দেখি মা রুমে একা একা বসে কান্না করে,আর আমি বেশ কিছু দিন ধরে দেখছি তানিয়াও একা একা বসে থাকে সব সময়,আচ্ছা তানিয়া কি মার সাথে খারাপ behave করলো নাকি? মার সাথে কি তানিয়ার কিছু হয়েছে? তানিয়া কি মাকে কিছু বলেছে! খারাপ আচরণ করেছে! না, তানিয়া এই টাইপের মেয়ে না।অামার যতটুকু ধারণা।কারণ মানুষের কিছু কিছু চরিত্র,অভ্যাস, অচরণ মুখে ভেসে উঠে। তা দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায় তানিয়া এই টাইপের মেয়ে না।  তানিয়া লাজুক তাই সে কিছু বলে না। মা ঔষধ খেয়েছেন,  খাবার ঠিক ঠাক আছে তো, এক কথায় একজন মার যতটুকু দায়িত্ব  ঠিক  ততোটুকুই সে করে আসছে। তানিয়া মার কাছে বৌমা না, মেয়ে হিসাবে থাকতে চায়।  আচ্ছা, মার কি তানিয়াকে পছন্দ  হয়নি, কিছু  বুঝতে পারছি না, থাক বিষয়টা পরে দেখা যাবে।
কিছুদিন পর তানিয়া এই একই বিষয়টা দেখলো মা বসে বসে কান্না করে। কি হয়েছে, মাকে এখন কিছু বলবো না! থাক বলবো না!!  আচ্ছা আমার কোন আচরণে মা কি কষ্ট  পাচ্ছে, বুঝলাম না! কিছুদিন পর একসাথে সবাই ডিনারে বসলাম, আমি মাকে জিজ্ঞেস করলাম মা তোমার কী কিছু হয়েছে?  শরীর কি খারাপ ? ডাক্তার দেখাবো? (মা এক কথায় বললেন) না বাবা আমি ঠিক আছি। কিছুক্ষণ  পর আমি আর তানিয়া খেয়াল করলাম, মা নিচ দিকে চেয়ে আছে মাথা উঠাচ্ছে না,তার সাথে খাবারও খাচ্ছে  না। আমি আর তানিয়া বিষয়টা খেয়াল করলাম। হঠাৎ দেখি মা কান্না করছে, অামি তানিয়ার আর তানিয়া আমার দিকে চেয়ে আছে।
মা, কি হয়েছে তোমার ? কি হয়েছে? তোমার কি কোন সমস্যা? আমি এই বিষয়টা আরো আগে থেকেই খেয়াল করেছি! তুমি ইদানিং একা একা বসে বসে কান্না করছো। কি হয়েছে  খুলে বলো তো!!!
বাবা তোদের ভালোবাসা দেখে তোর বাড়ার কথা, স্মৃতি, আর ভালোবাসাগুলো খুউব মনে পরে। তাই আমি কান্না করি। খুব অস্থির লাগে। ইদানিং  তোর বাবাকে খুব স্বপ্নেও দেখছি।
বাবা, কাল একটু তোর বাবার কবরে নিয়ে যাবি?
কবরটা যিয়ারত  করবো!!!!

এমন করেই পৃথিবীর সবাই জীবনসঙ্গীদের বিদায় দিবে সবাই।
আর স্মৃতিগুলো ভালোবাসাতে জড়িয়ে থাকবে।
বেঁচে  থাকুক আজীবন এই ভালোবাসাগুলো,,,,,



ছড়া


বিশ্ব জয়ের ছেলে 

আরিফুল ইসলাম মুকিম

   বিশ্ব জয়ের ছেলে  আমি 
              বিশ্বকে জয় করি,
   বিশ্বের দিকে চেয়ে আমি 
              জ্ঞান আহরণ করি।

   দেশ হলো মোর পূণ্যভূমি 
             দেশের জন্যেে শিখি,
   দেশের জন্যে শিখে যেন 
                 বিশ্বকে জয় করি।

    ইলম শিখার ছেলে আমি 
                 মাদরাসাতে পড়ি,
     ইলম শিখে যেন আমি 
                   বেহেশত জয় করি।
        

বসন্ত



শীতকাল শেষ অনেক দিন। বেশ কিছুদিন যাবত বসন্তের আগমন হয়েছে। শীতের হাড় কাঁপানো দিন গুলোও বেশ ভালো লাগতো । এখন চারপাশে বইছে বসন্তের মাতাল হাওয়া। প্রতিটি মুহুর্তে ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি জন্ম নিচ্ছে। এই বসন্তে যাতটুকু অনুভূতি জন্ম নিচ্ছে অন্তরে তা অন্য কোন বসন্তে জন্ম নেয়নি আর এদিকে অভিমান করে ঝরে পরছে চার দিকের বৃক্ষরাজির পুরোনো পাতা। সাথে কৃষ্ণচূড়ার ডালে রং লেগেছে ফাগুনের। ভালোবাসার রং। প্রতিটি গাছে বসন্তের কোকিলের কু-হু কু-হু শব্দ করে গান চলছে । এসব মিলে প্রকৃতির মাঝে ধরা দিয়েছে ঋতুরাজ বসন্ত। যদিও পূরণ হয়নি তবুও শেষ বিকেলের  সব থেকে বড় ইচ্ছে ছিলো বিকেল বেলা বড় একটা বট গাছের নিচে বসে সময় পার করতে, পারলে হয়তো ভালোই হতো যেখানে বসলেই  প্রাণের মাঝে দোল খেয়ে যেত অচিনপুরের  অজানা ভালোবাসার রহস্য

বসন্ত!
        সত্যিই তোমার বিদায়ের সাথে সাথে আমার জীবনেরও সমস্ত স্বপ্ন, আনন্দ, ভালোলাগা, ভালোবাসার বিদায় ঘটে যাবে হয়তো। সত্যিই আজ বড্ড একা আমি!
ভালো থেকো তুমি,,,,,,,,,

২৭/০৩/২০১৯ ইং

Sunday, March 31, 2019

গল্প


নিয়তির লেখা


কদিন ধরে কি যেন হয়েছে প্রিয়ন্তির কিছুই ভালো লাগে না। কি যেন ভাবে সবসময় একা একা।সবার মাঝে থেকেও নেই।মনটা তার হঠাৎ করেই অস্থির হয়ে উঠে।চোখ হঠাৎ চিকচিক করে উঠে কোন কারণ ছাড়াই।ছাদে দাঁড়িয়ে কি যেন ভাবছিলো প্রিয়ন্তি পাশে ছোট বোন প্রিয়া কখন এসে দাঁড়িয়ে ছিলো লক্ষ্যই করেনি।
-এখানে একা দাঁড়িয়ে কি করিস আপু?
-কিছু না রুমে দম বন্ধ হয়ে আসছিলো।
-হুম বুঝি বুঝি সবই বুঝি।ভাইয়ার কথা মনে পরছে?
-তুই একটু বেশি পেকে গেছিস।পড়া নেই তোর?যা এখান থেকে।
প্রিয়া কথা না বারিয়ে চলে এলো সেখান থেকে।প্রিয়ন্তির চোখ ভরে এলো কান্নায়।তিন মাস আগে তার বিয়ে হয়।পাতলা গড়ন পানপাতা চেহারা বেশ সুন্দর দেখতে।চুপচাপ স্ববভাব।অনার্স থার্ড ইয়ার এর ফাইনাল পরীক্ষা সামনে।বিয়ের জন্য প্রস্তাব আসলে পাত্তা দিতো না সে।কিন্তু এবার তার মা তাকে পেয়ে বসেছে ভালো একটা প্রস্তাব এসেছে ছেলে আর্মির ক্যাপ্টেন।কোন কিছুই শুনলো না তার মা।শাড়ি হাতে দিয়ে বললো তৈরী হয়ে নে তোকে দেখতে আসবে ছেলের পরিবারের লোক।অনিচ্ছা সত্বেও শাড়ি পড়লো প্রিয়ন্তি অসম্ভব সুন্দর লাগছিলো তাকে।কারও সামনে শাড়ি পরে সেজেগুজে বসে থাকতে হবে ভাবতেই তার গা রি রি করে উঠলো।বিকালে ছেলের মা,বড় বোন,ছেলে,ছেলের দুলাভাই এলো তাকে দেখতে।তাদের সামনে বসে আছে প্রিয়ন্তি এক এক প্রশ্ন করছিলো তারা সে শুধু মাথা নিচু করে উত্তর দিয়ে যাচ্ছিল। প্রশ্ন উত্তর পর্ব শেষ করে ছেলের সাথে আলাদা কথা বলার পর্বও বাকি রইলো না।ইফতির সাথে কথা বলার সময় দু'বার তাকিয়ে ছিলো তার দিকে।প্রথম দেখেই প্রেমে পড়ে যাবার মতো চেহারা তার।যাই হোক পছন্দ হয়েছে ইফতিকে।যদিও বা তেমন কথা বলেনি।আসলে কি বলবে বুঝতে পারছিলো না সে।নিরবতা ভেঙ্গে ইফতি বললো
-আপনার চোখগুলো দারুন মায়াবী জানেন আপনি?
আপনার নামটাও সুন্দর
প্রিয়ন্তি কিছু বলেনি চুপ করে শুনছিলো।লজ্জা করছিলো তার।
ইফতি ব্যাপারটা বুঝতে পেরে বললো
-ঠিক আছে আপনাকে কিছু বলতে হবে না।চলুন উঠি।
তারা চলে যাবার পর প্রিয়ন্তি তার রুমে গিয়ে আয়নায় সামনে দাঁরিয়ে মনে মনে ভাবছিল সত্যিই চোখ দুটো মায়াবী?পরদিন ইফতির মা কল করে জানালেন তাদের মেয়ে পছন্দ হয়েছে তারা বেশি দেড়ি করতে চান না।আর প্রিয়ন্তির বাসায় সবাই রাজি।বিয়ের দিন ঠিক হলো ১৫ দিন পরে কারন ইফতির ট্রেনিং এ চলে যেতে হবে।২দিন পরে অপরিচিত নাম্বার থেকে কল এলো প্রিয়ন্তির।রিসিভ করলো সে
-প্রিয়ন্তি বলছিলেন?
-জ্বী বলছিলাম।আপনি কে?
-আমি ইফতি।সকালে মা আন্টির কাছ থেকে আপনার নম্বরটা নিলো ভাবলাম একটু কল দেই।ব্যস্ত আপনি?
-না তেমন কিছু করছিলাম না।বাসার সবাই ভালো আছে?
-হুম আছে দুদিন পরে আমার বিয়ে তো।তাই সবাই একটু ব্যস্ত।
-(হেসে ফেলে বললো) তাই আপনার বিয়ে?
-জি আমার বিয়ে।আপানার সাথে কি বাহিরে দেখা করা যাবে?
-হুম কোথায় আসতে হবে বলুন?
-আসতে হবে না আপনি আপনার বাসার নিচে দাঁড়াবেন আমি আপনাকে পিক করবো।বিকালে রেডি থাকবেন।
বিকালে প্রিয়ন্তি রডি হয়ে বাসার নিচে গিয়ে দেখে ইফতি দাঁড়িয়ে আছে।মেরুন কালারের শার্টে বেশ লাগছিলো তাকে।কাছে যেতেই একগাদা গোলাপ তার হাতে দিয়ে বললো 
-এগুলো আপনার জন্য।
সে ফুলগুলো হাতে নিলো।ইফতির সাথে সময় কাটাতে খুব ভালো লাগছিলো তার।রসিক ধরণের মানুষ।একটু বেশি কথা বলে ভালোই লাগে স্বভাবটা।দেখতে দেখতে বিয়ের দিন চলে এলো।ধুমধাম করে বিয়েও হলো।১ মাস পরে ইফতি চলে যায় ট্রেনিং এর জন্য চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট এ।প্রিয়ন্তিও তার ফাইনাল পরীক্ষাটা বাবার বাসা থেকেই দেবে বলে চলে এলো। কিন্তু লাভ হলো কই?পড়ায় কোন ভাবেই মনযোগ নেই তার ওদিকে ইফতিও খুব ব্যস্ত দিনে এক ঘণ্টাও কথা হয় না। কিছুই ভালো লাগে না তার।সময়গুলো কাটতেই চায় না।
ইফতির ও মনে পড়ে প্রিয়ন্তির কথা কিন্তু তার কিছুই করার নেই তবে সামনে ওর জন্মদিন।অন্তত্য জন্মদিনটাতে তাকে একটা সারপ্রাইজ দেয়াই যায়।অনেক কষ্টে ২ দিনের ছুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে ইফতি।একটা শাড়িও কিনে নিলো।রাতের বাসে উঠলো কিন্তু শেষ পর্যন্ত পৌঁছালো না ইফতি প্রিয়ন্তির কাছে।বেপরোয়া গাড়ি চালানোর জন্য এক্সিডেন্ট করে বাসটি।ইফতি মারা যায়।হতবাক প্রিয়ন্তি দেখছে তার লাশ।ছেড়ে চলে গেলো মানুষটা?কি নিয়ে বাঁচবে সে এখন?
তারপর কেটে গেলো ৭টা বছর।প্রতি বছর সে কবর জিয়ারত করতে যায়।ভুলে যায় নি ইফতিকে।নতুন করে ভাবে নি কিছু।
-কবর কি?
-মানুষ মারা গেলে কবর দিতে হয় মা।
-এটা কার কবর?
-তোমার বাবার।
-আমার বাবা মারা গেছে?
৬ বছরের ফুটফুটে বাচ্চাটার প্রশ্নের উত্তর দিলো না সে শুধু চোখ থেকে পানি পড়লো।আফসোস হয় ইফতিকে একটা বার জানাতে পারেনি তার কথা!!!

কল্পিত কথা ২



কেডা তুমি?
-আমি মজনু মিয়া
-তুমি কেডা
- আমি চানু
-তয় এই রাইতের বেলা কিতা করো এই চাংগে?
-কিছু করি না, মন পাখিরে ভাবতাছি।
-কি হইছে তোমার হেইডা কও ?
-কিছু হয় নাই
-তো পাগলের লাহান এমন করতাছো ক্যান? পাগল হইয়া গেলা নাকি?
 - হ চানু মিয়া, পাগল হইয়া গেছি!
-কি বল আবুল তাবুল,হইছে কি হেইডা কও?
-কিচু হয় নাই, আসলে পিরিতের মানুষে কষ্ট পাইছে!  ভুল কইরা একটা কতা কইয়া ফালছি, মনে হয় হে খুব কষ্ট পায়ছে।
- তে হেরে বুঝায় কও সবকিছু
- হ কইছিই তো হে মনয় আমারে খুব ভালোবাসে তাই মাফ কইরা দিছে বইলা কইলো। একবার আই লাভ ইউটুও কইছে।
কিন্তু আগের লাহান আর কতা কয় না
দেহা করবার আইয়া খালি থুম মাইরা খারাই থাহে
দিনকাল  খারাপ যাচ্চে গো চানু মিয়া।

১৭/১০/২০১৮ ইং
তালতলা
ময়মনসিংহ

কল্পিত কথা_১



-ঐদিন হঠাৎ এসে হাত ধরেছিলে কেনো?
-কেনো কি হয়েছে?
-কিছু না, তবে,,,
-তবে কি ভয় পেয়েছিলে?
-হুমমমম
-আচ্ছা তুমি সবসময় আমাকে নিয়ে এমন ভয়ে থাকো কেনো?
- হুমম থাকি কিন্তু ভয়টা কোন বস্তু বা ব্যাক্তিকে নাহ! তোমাকে হারানোর ভয় পাই, প্রচুর ভয় পাই,,,,,!
- আচ্ছা আমি যদি হারিয়ে যায় তহলে কি করবে ?
- আমিও হারিয়ে যাব!
-কোথায় হারাবে?
-তোমার হারানো শহরে,,,,,

মুক্তাগাছা 

তুমি


-ভাইয়া ফুলটা দিবা?
-আচ্ছা নাও।
-বড়টা কিন্তু?
-ঠিক আছে নাও( সত্য তোমার জন্যেই ফুলের গাছটা কিনেছি)
-আচ্ছা ভাইয়া তোমাকেও তো কিছু দেওয়া লাগে?
-না সমস্যা নেই, কিছু লাগবে না!
-না লাগবেই,,,,,
-আচ্ছা বলো কী দিবা?
-ওম্মম্ম তোমাকে একটা কাগজের  ফুলের ওয়ালমেট বানিয়ে দিব।
-  আচ্ছা বানিয়ে দিও,,,,,
- নিবা তো ??
- হুমমম নিবো।
-ওকে
সর্বপ্রথম ভালোবাসার পরশ ভুলিয়েছো
          #তোমার_অপেক্ষায়_থাকবো,,,,,,,,,

১৯/১১/২০১৮ইং
ময়মনসিংহ

মিষ্টি সকাল



প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে দেরী করে উঠি।আর শুক্রবারতো বিশেষ দিন একদম এগারোটা।কিন্তু আজকে
 আটটায় দরজা নক হচ্ছে কারণ কি? চখে ঘুম ঘুম ভান নিয়েই দরজাটা খুলে আবার শুয়ে পরলাম বিছানাতে। সাথে সাথে ঘুম। বুঝি নাই দেখিও নাই যে, কে এসেছে।
কিছুক্ষণ পর  একজন ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকছে,,,,,,,,
- ভাইয়া শুনছো,,,,,,
- হু বলো শুনছি আমি মাথা দিয়ে হ্যাঁ সূচক জানাই
-একি!  কে আমার রুমে? 😕আরে তুমি আমার রুমে কখন আসলা???
- রাতে,,,,
- ফাইলামি করছো?
- হুমম। আধ ঘন্টা আগে অাসছি
-অ কেন আসছো???
- গিফট কটতে
- কিসের গিফট ? কার গিফট?আর কি উপলক্ষে গিফট?
-আমার মন চেয়েছে তোমাকে গিফট দিতে তাই দিলাম। আর কিছু জানি নাহহ।
-এতো সুন্দর  কাগজের ফুল কে বানালো??
- তোমার মাথা বানিয়েছে আমি গেলাম আমাকে অার কিছু বলার সুযোগ-ই দিল নাহ!বলেই চলে গেল!!!
যাই হোক ফুল দেওয়ার কারণ আমার জানা নেই। তবে আজ এই পর্যন্তই,,,,
আমার খুব করে জানতে ইচ্ছা হয়, মানুষটা অামার এত্তো খেয়াল কেন করে? সবসময় চেয়ে আমাকে দেখে। এটা সেটা জিজ্ঞেস করে। নাহহহ আজকে আর কিছু বলবো নাহহহ
ধন্যবাদ
#মায়াবতী
০১/০২/২০১৯ ইং





অনুভূতি



ঘড়িতে 05:07 বাজে। আচমকা  মিস্টি কন্ঠের বসন্তের কোকিলের গুঞ্জনে বিকেলে ঘুম ভাঙ্গে গেল আমার! তারপর জালানার পর্দা সরিয়ে দিয়ে তাকিয়ে দেখলাম পাশের ছাদে একটা মেয়ে রেলিংয়ে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কি যেন অনুভব করছে মেয়েটা, আর আমি তার দিকে তাকিয়ে তাকে নিয়ে অনুভব করছি, খুব ভালো লাগছিল হঠাৎ সে আমাকে দেখে ফেলল আমাকে দেখে লজ্জায় তার লজ্জামাখা মুখটা ঢেকে নিল! হঠাৎ দেখি শেষ বিকেলের সোনালী আলো এসে পড়েছে মেয়েটার চোখে মুখে। মেয়েটার মুখে যেন বিধাতা সবটুকু মায়া ঢেলে দিয়েছে। আর সেই অপূর্ব মায়া আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দেখছি! আমি দেখতে দেখতে মুগ্ধ! হঠাৎ দেখি জালানা দিয়ে মেয়েটিকে আর দেখা যাচ্ছে না, মেয়েটিকে আর দেখা যাচ্ছে না! কোথায় গেল সেই মেয়েটি, কোথায় হারালো, সে কি চলে গেল ? নাকি চলে গিয়ে হৃদয়ে থেকে গেল,,,,,,,,,,,,,


   14/03/18 ইং
মুক্তাগাছা, মোমেনশাহী

ছড়া

ভেজাল

একি হলো দেশের হাল
সব কিছুতে ভেজাল
ভালো জিনিস খোঁজে পাওয়া
বড়ই যে আকাল।

চালে ভেজাল ডালে ভেজাল
আরও ভেজাল তেলে
ভেজালকারীদের ধরে সব
দিতে হবে জেলে।

ভেজাল বিরোধী আইন আছে
নেই আইনের বাস্তবতা।
তাই যদি হয় অমন অাইন
কিবা আছে স্বার্থকথা।

গল্প


অপেক্ষা

আজ সুবহার ১৫তম জন্মদিন।সকাল থেকেই আশ্রমের সবাই এটা নিয়ে হই হুল্লোড় করছে। মনি মা এর কড়া হুকুম সন্ধ্যের মদ্ধ্যে পুরো আশ্রমটা সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে হবে। আশ্রমের ছোট বড় সবাই ফুল দিয়ে আশ্রমটা সাজাতে ব্যস্ত। সুবহা নিজের ঘরে বসে আছে। ওর ঘরটা দোতলায়।নিচে সবাই ব্যস্ত।সুবহা আপন মনে বসে ভাবছে। দেখতে দেখতে পুরো দশ বছর আশ্রমেই কাটিয়ে ফেলল সে।আজো ঝাপসা ঝাপসা মনে পড়ে তার সেদিন এর কথা। সে পাঁচ বছরের বাচ্চা মেয়ে ছিলো তখন। তাদের প্রতিবেশী রুমা আন্টি তাকে এই আশ্রমে নিয়ে আসে। রুমা আন্টি না থাকলে তার কি যে হতো ভেবেই কান্না পায় তার। আজ মা বাবার কথাও তার খুব মনে পড়ছে। সুবহা তাদের খুব আদরের ছিলো। সুবহা উচ্চ বংশের মেয়ে ছিলো। বাবা কাকাদের নিয়ে একান্নবর্তী পরিবার ছিলো তাদের।সুবহার পাঁচ তম জন্মদিনে তার বাবা অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান। তার বাবার মৃত্যু সংবাদ শোনা মাত্র তার মা ও হার্ট অ্যার্টাক করে সেদিনই মারা যান। সুবহা তখন মৃত্যু কি বুঝত না। শুধু বুঝতে পারল কিছু একটা খারাপ হয়েছে। পরদিন সকাল থেকে সে তার বাবা মা কে খুঁজতে থাকে। কিন্তু সারা বাড়িতে খুঁজেও বাবা মাকে পায়নি সে। খুব কষ্ট হয়েছিল তার। তার কাকি মনি তাকে একদম সহ্য করতে পারত না।পরদিন যখন সে বাবা মাকে খুঁজে আনার জন্য বায়না করেছিলো, তখন তার কাকি মনির কথায় তার কাকু মনি তাকে টেনে বাড়ির বাইরে বের করে মুখের উপর দরজা দিয়ে দিয়েছিলো। ছোট্ট সুবহা বাইরে বসে কান্না করছিলো। পাশের বাড়ির রুমা আন্টি তাকে দেখতে পেয়ে সাথে করে তার বাসায় নিয়ে গিয়েছিলো। রুমা আন্টি সুবহার কাকি মনির সাথে কথা বলেছিলো সুবহার ব্যাপারে। কিন্তু সুবহার কাকি মনি ওকে বাড়িতে নিয়ে যেতে রাজী হয়নি। এরপর রুমা আন্টি সুবহার নানা বাড়ির লোকজনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তার দুই দিন পরই রুমা আন্টি তাকে এই আশ্রমে রেখে যায়। রুমা আন্টি প্রায় তার সাথে দেখাও করতে আসে।
এখন এই আশ্রমটাই সুবহার সব। আর তার জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষ তার মনি মা। যাকে ছাড়া সুবহার জীবন অর্থহীন। মনি মাকে সে তার নিজের জীবনের চাইতেও বেশি ভালোবাসে। এই একজন মানুষের জন্যই সুবহার জীবনটা এত রঙিন লাগে।
মনি মা এই দোতলা অনাথ আশ্রমটির কর্ণধার। ২০ বছর ধরে উনি এই অনাথ আশ্রমটা চালাচ্ছেন। পুরো আশ্রমের সবাই জানে যে মনি মা সুবহাকে নিজের মেয়ের মতই ভালোবাসে। আর সুবহার কাছে মনি মা ই যেনো নিজের প্রাণ। 
-- সুবহা।
সুবহা নিজের নাম তা শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখল মনি মা দরজায় দাঁড়িয়ে আছে।মনি মাকে দেখেই সুবহা দৌড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরল।মনি মা বলল..
-- এই যে মেয়ে, একা একা ঘরে বসে কি হচ্ছে শুনি। বাইরে যেতে পারিস না নাকি? সবাই বাইরে কত মজা করছে, আর তুই ঘরে বসে আছিস।
--উহহ মনি মা, তুমি কোথায় ছিলে এতক্ষণ? একবারও তো আসলে না আমায় ডাকতে?
--আজ তো আমার মেয়ের জন্মদিন। আমার যে অনেক কাজ ছিল রে। আচ্ছা সুবহা, এইবার ঝটপট বল তো, তোর জন্মদিনে তুই কি গিফট চাস?
-- আমি যা চাইব সেটা দেবে তো মনি মা?
-- হুম, দেবো। আগে বল কি চাস?
সুবহা মনি মাকে ছেড়ে দিয়ে বলল..
-- তোমাকে চাই মনি মা। কখনো ছেড়ে যেও না আমায়, প্লিজ। তুমি আমাকে ছেড়ে গেলে আমি ঠিক মরে যাব।
--এসব কি কথা বলছিল তুই? অনেক হয়েছে, এবার থাম। আমি কখনো তোকে ছেড়ে কোথাও যাব না, বুঝলি তুই? বোকা মেয়ে।
--হুম, মনে থাকে যেনো।(আবার মনি মাকে জড়িয়ে ধরল সে)
--হুম থাকবে।এবার তৈরি হয়ে নিচে আয়।আমি তোর জন্য পায়েস করেছি। তারাতারি চলে আসিস কিন্তু। আমি যাই এখন।
এই বলে মনি মা চলে গেলো। একটু পর সুবহা খুব সুন্দর করে সেজে গুজে নিচে নামলো। সুবহা চারদিকে চোখ বুলিয়ে নিলো। আশ্রমটা এত সুন্দর করে তার জন্য সাজানো হয়েছে ভেবে চোখে জল চলে এলো সুবহার। রুমা আন্টিও এসেছে।
সবার সব কাজ শেষ। সবাই সুবহা কে নিয়ে ব্যস্ত।টেবিলে কেক টাও সাজিয়ে রাখা আছে। সবাই খুব উৎফুল্ল হয়ে আছে কেক কাটার জন্য।
মনি মা বলল.. 
--কেকটা কাটার আগে আমি সুবহাকে পায়েসটা খাওয়াতে চাই।আমি রান্না ঘর থেকে পায়েস টা নিয়ে আসছি।
সবাই মনি মার কথায় সায় দিলো। মনি মা পায়েস আনতে রান্না ঘরে চলে গেলো, আর ঠিক তখনি লোডশেডিং হয়ে গেলো।পুরো আশ্রম অন্ধকারে ঢেকে গেলো। 
এমন সময় রান্না ঘর থেকে মনি মার করুন চিৎকার ভেসে এলো। সবাই শুনতে পেলো সেই আর্ত চিৎকার। সুবহা সাথে সাথে বলে উঠল..
-- কি হলো, মনি মা চিৎকার করল কেনো ??
ঠিক তখনি কারেন্ট চলে আসলো। সুবহা সহ আরও বাকি সবাই দৌড়ে গেলো রান্নাঘরে।সুবহা রান্না ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখতে পেলো, রান্নাঘরের মেঝেতে রক্ত আর রক্ত।মনি মা মেঝেতে পরে কাতরাচ্ছে।তার পেটে একটা আঁশবটি ঢুকে আছে। সুবহা মনি মা বলে জোরে একটা চিৎকার করে সাথে সাথেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলল....।
দুই মিনিটের লোডশেডিং এ দুটি জীবনের আলো নিভে গেলো। তবে দুই জনের জীবনের আলোটা আলাদা আলাদা ভাবে নিভে গেলো। মনি মা চলে গেলো। আর সুবহার আলো ভরা জীবন অন্ধকারে রুপ নিলো। ৪ বছর পর।

মানসিক হাসপাতালের রুম নম্বর ৩২।।
-- সুবহা দেখো, তোমার জন্য আমি কি এনেছি। পায়েস। কি, খাবে না তুমি? এদিকে আসো তো আমি খাইয়ে দেই।
সুবহা মাথা তুলে বলল..
-- ওই ছায়া আপু, তুমি জানো না নাকি? আমার মনি মা আমার জন্য পায়েস আনতে রান্নাঘরে গেছে। এক্ষুনি এসে যাবে। একটু দাঁড়াও না, মনি মা আসবে।
ছায়া এই মানসিক হাসপাতালে ২০ বছর ধরে কাজ করছে। বিগত চার বছর ধরে সে সুবহার দেখাশোনা করছে।মনি মার মৃত্যুর পর থেকেই সুবহা মানসিক ভাবে অসুস্থ।মাঝে মাঝে সুবহার রুমা আন্টি এসে ওকে দেখে যায়। এই চার বছরে ছায়া যখনি সুবহা কে পায়েস খাওয়াতে গিয়েছে, তখনি সুবহা এই একি কথা বলেছে। জোর করলে পায়েস এর বাটি ফেলে দিয়েছে, নয়ত জিনিস পত্র ভাঙচুর করেছে। তাই ছায়া আর বৃথা চেষ্টা করল না। ছায়া জানে, সুবহাকে বুঝিয়ে কোনো লাভ হবে না। সে যে এখন ও তার মনি মার জন্য অপেক্ষা করছে। আর আগামী তেও করবে।
আচ্ছা, এই অপেক্ষা কি কখনো শেষ হবে??

গল্প


অপেক্ষা

আজ সুবহার ১৫তম জন্মদিন।সকাল থেকেই আশ্রমের সবাই এটা নিয়ে হই হুল্লোড় করছে। মনি মা এর কড়া হুকুম সন্ধ্যের মদ্ধ্যে পুরো আশ্রমটা সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে হবে। আশ্রমের ছোট বড় সবাই ফুল দিয়ে আশ্রমটা সাজাতে ব্যস্ত। সুবহা নিজের ঘরে বসে আছে। ওর ঘরটা দোতলায়।নিচে সবাই ব্যস্ত।সুবহা আপন মনে বসে ভাবছে। দেখতে দেখতে পুরো দশ বছর আশ্রমেই কাটিয়ে ফেলল সে।আজো ঝাপসা ঝাপসা মনে পড়ে তার সেদিন এর কথা। সে পাঁচ বছরের বাচ্চা মেয়ে ছিলো তখন। তাদের প্রতিবেশী রুমা আন্টি তাকে এই আশ্রমে নিয়ে আসে। রুমা আন্টি না থাকলে তার কি যে হতো ভেবেই কান্না পায় তার। আজ মা বাবার কথাও তার খুব মনে পড়ছে। সুবহা তাদের খুব আদরের ছিলো। সুবহা উচ্চ বংশের মেয়ে ছিলো। বাবা কাকাদের নিয়ে একান্নবর্তী পরিবার ছিলো তাদের।সুবহার পাঁচ তম জন্মদিনে তার বাবা অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান। তার বাবার মৃত্যু সংবাদ শোনা মাত্র তার মা ও হার্ট অ্যার্টাক করে সেদিনই মারা যান। সুবহা তখন মৃত্যু কি বুঝত না। শুধু বুঝতে পারল কিছু একটা খারাপ হয়েছে। পরদিন সকাল থেকে সে তার বাবা মা কে খুঁজতে থাকে। কিন্তু সারা বাড়িতে খুঁজেও বাবা মাকে পায়নি সে। খুব কষ্ট হয়েছিল তার। তার কাকি মনি তাকে একদম সহ্য করতে পারত না।পরদিন যখন সে বাবা মাকে খুঁজে আনার জন্য বায়না করেছিলো, তখন তার কাকি মনির কথায় তার কাকু মনি তাকে টেনে বাড়ির বাইরে বের করে মুখের উপর দরজা দিয়ে দিয়েছিলো। ছোট্ট সুবহা বাইরে বসে কান্না করছিলো। পাশের বাড়ির রুমা আন্টি তাকে দেখতে পেয়ে সাথে করে তার বাসায় নিয়ে গিয়েছিলো। রুমা আন্টি সুবহার কাকি মনির সাথে কথা বলেছিলো সুবহার ব্যাপারে। কিন্তু সুবহার কাকি মনি ওকে বাড়িতে নিয়ে যেতে রাজী হয়নি। এরপর রুমা আন্টি সুবহার নানা বাড়ির লোকজনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তার দুই দিন পরই রুমা আন্টি তাকে এই আশ্রমে রেখে যায়। রুমা আন্টি প্রায় তার সাথে দেখাও করতে আসে।
এখন এই আশ্রমটাই সুবহার সব। আর তার জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষ তার মনি মা। যাকে ছাড়া সুবহার জীবন অর্থহীন। মনি মাকে সে তার নিজের জীবনের চাইতেও বেশি ভালোবাসে। এই একজন মানুষের জন্যই সুবহার জীবনটা এত রঙিন লাগে।
মনি মা এই দোতলা অনাথ আশ্রমটির কর্ণধার। ২০ বছর ধরে উনি এই অনাথ আশ্রমটা চালাচ্ছেন। পুরো আশ্রমের সবাই জানে যে মনি মা সুবহাকে নিজের মেয়ের মতই ভালোবাসে। আর সুবহার কাছে মনি মা ই যেনো নিজের প্রাণ। 
-- সুবহা।
সুবহা নিজের নাম তা শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখল মনি মা দরজায় দাঁড়িয়ে আছে।মনি মাকে দেখেই সুবহা দৌড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরল।মনি মা বলল..
-- এই যে মেয়ে, একা একা ঘরে বসে কি হচ্ছে শুনি। বাইরে যেতে পারিস না নাকি? সবাই বাইরে কত মজা করছে, আর তুই ঘরে বসে আছিস।
--উহহ মনি মা, তুমি কোথায় ছিলে এতক্ষণ? একবারও তো আসলে না আমায় ডাকতে?
--আজ তো আমার মেয়ের জন্মদিন। আমার যে অনেক কাজ ছিল রে। আচ্ছা সুবহা, এইবার ঝটপট বল তো, তোর জন্মদিনে তুই কি গিফট চাস?
-- আমি যা চাইব সেটা দেবে তো মনি মা?
-- হুম, দেবো। আগে বল কি চাস?
সুবহা মনি মাকে ছেড়ে দিয়ে বলল..
-- তোমাকে চাই মনি মা। কখনো ছেড়ে যেও না আমায়, প্লিজ। তুমি আমাকে ছেড়ে গেলে আমি ঠিক মরে যাব।
--এসব কি কথা বলছিল তুই? অনেক হয়েছে, এবার থাম। আমি কখনো তোকে ছেড়ে কোথাও যাব না, বুঝলি তুই? বোকা মেয়ে।
--হুম, মনে থাকে যেনো।(আবার মনি মাকে জড়িয়ে ধরল সে)
--হুম থাকবে।এবার তৈরি হয়ে নিচে আয়।আমি তোর জন্য পায়েস করেছি। তারাতারি চলে আসিস কিন্তু। আমি যাই এখন।
এই বলে মনি মা চলে গেলো। একটু পর সুবহা খুব সুন্দর করে সেজে গুজে নিচে নামলো। সুবহা চারদিকে চোখ বুলিয়ে নিলো। আশ্রমটা এত সুন্দর করে তার জন্য সাজানো হয়েছে ভেবে চোখে জল চলে এলো সুবহার। রুমা আন্টিও এসেছে।
সবার সব কাজ শেষ। সবাই সুবহা কে নিয়ে ব্যস্ত।টেবিলে কেক টাও সাজিয়ে রাখা আছে। সবাই খুব উৎফুল্ল হয়ে আছে কেক কাটার জন্য।
মনি মা বলল.. 
--কেকটা কাটার আগে আমি সুবহাকে পায়েসটা খাওয়াতে চাই।আমি রান্না ঘর থেকে পায়েস টা নিয়ে আসছি।
সবাই মনি মার কথায় সায় দিলো। মনি মা পায়েস আনতে রান্না ঘরে চলে গেলো, আর ঠিক তখনি লোডশেডিং হয়ে গেলো।পুরো আশ্রম অন্ধকারে ঢেকে গেলো। 
এমন সময় রান্না ঘর থেকে মনি মার করুন চিৎকার ভেসে এলো। সবাই শুনতে পেলো সেই আর্ত চিৎকার। সুবহা সাথে সাথে বলে উঠল..
-- কি হলো, মনি মা চিৎকার করল কেনো ??
ঠিক তখনি কারেন্ট চলে আসলো। সুবহা সহ আরও বাকি সবাই দৌড়ে গেলো রান্নাঘরে।সুবহা রান্না ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখতে পেলো, রান্নাঘরের মেঝেতে রক্ত আর রক্ত।মনি মা মেঝেতে পরে কাতরাচ্ছে।তার পেটে একটা আঁশবটি ঢুকে আছে। সুবহা মনি মা বলে জোরে একটা চিৎকার করে সাথে সাথেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলল....।
দুই মিনিটের লোডশেডিং এ দুটি জীবনের আলো নিভে গেলো। তবে দুই জনের জীবনের আলোটা আলাদা আলাদা ভাবে নিভে গেলো। মনি মা চলে গেলো। আর সুবহার আলো ভরা জীবন অন্ধকারে রুপ নিলো। ৪ বছর পর।

মানসিক হাসপাতালের রুম নম্বর ৩২।।
-- সুবহা দেখো, তোমার জন্য আমি কি এনেছি। পায়েস। কি, খাবে না তুমি? এদিকে আসো তো আমি খাইয়ে দেই।
সুবহা মাথা তুলে বলল..
-- ওই ছায়া আপু, তুমি জানো না নাকি? আমার মনি মা আমার জন্য পায়েস আনতে রান্নাঘরে গেছে। এক্ষুনি এসে যাবে। একটু দাঁড়াও না, মনি মা আসবে।
ছায়া এই মানসিক হাসপাতালে ২০ বছর ধরে কাজ করছে। বিগত চার বছর ধরে সে সুবহার দেখাশোনা করছে।মনি মার মৃত্যুর পর থেকেই সুবহা মানসিক ভাবে অসুস্থ।মাঝে মাঝে সুবহার রুমা আন্টি এসে ওকে দেখে যায়। এই চার বছরে ছায়া যখনি সুবহা কে পায়েস খাওয়াতে গিয়েছে, তখনি সুবহা এই একি কথা বলেছে। জোর করলে পায়েস এর বাটি ফেলে দিয়েছে, নয়ত জিনিস পত্র ভাঙচুর করেছে। তাই ছায়া আর বৃথা চেষ্টা করল না। ছায়া জানে, সুবহাকে বুঝিয়ে কোনো লাভ হবে না। সে যে এখন ও তার মনি মার জন্য অপেক্ষা করছে। আর আগামী তেও করবে।
আচ্ছা, এই অপেক্ষা কি কখনো শেষ হবে??

চিঠি

প্রিয় মুনতাহা!!!

                 হয়তো ভালোই আছো। আমিও তোমার মতোই ভালো আছি। আজ বেশ কিছুদিন যাবত তোমার সাথে যোগাযোগ না থাকাতে মনটাতে বিষণ্ণতার ছাপ লেগে গিয়েছিলো ! কিন্তু এখন যোগাযোগ হওয়া পর থেকে মনকে বেশ শান্তনা দিতে পাচ্ছি বলে মনে হচ্ছে । তুমি জানো, তোমার ভালোবাসাতে আমি মুগ্ধ। আমার চাওয়া থেকে বেশী ভালোবাসা আমি পেয়েছি তোমার থেকে। এতোটুকু ভালোবাসা আমি চাই নাই। তোমার থেকে বেশী হয়তো কেউ আমাকে ভালোবাসতে পারবে কিনা আমার জানা নেই। আমি তো ছন্নছাড়া অগুছালো ছিলাম। এখন এই অামি যতোটা গুছানো সবটুকুই তো তুমিই গুছিয়ে দিয়েছো। একটা ছেলের অগুছালো জীবন যে গুছিয়ে দেয় তারকাছে চির কৃতজ্ঞ হয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু সম্ভব  বলে মনে হচ্ছে  নাহহ।

জানো!!!
        আমি তোমার অভিমানের কাছে সবচেয়ে বেশী দুর্বল।  যতোটুকু না তোমাকে ভালোবাসে আমি দুর্বল  তার থেকে বেশী দুর্বল তোমার অভিমনের কাছে।  যখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে, তখন আমি এলোমেলো হয়ে যাই। অামার ভুলের কারণে তুমি যখন অভিমান করো তখন তোমার অভিমান করা আর আমার কাজের উপর খুব করে ঘৃণা আসে। তবে তুমি আমাকে আজ এতোটা ভালোবাসো কারণে হয়তো তুমি তোমার অভিমানের কাছে হেরে গিয়ে আমার কাছে চলে এসো।  জানি না তোমাকে ছাড়া থাকতে পাবো কি নাহ! তবে সারাজীবন ভালোবেসে যাব,,,,

তুমি কি আমাকে তোমার চোখের কাজল  করে রেখে দিতে পারবে চিরকাল? আমাকে নিয়ে হারিয়ে যেতে পারবে ? যে দেশে মন স্বাধীন  ছাড়া কোন আইন চলে নাহহহ,,

 ০৮/০২/২০১৯ইং
ময়মনসিংহ বাংলাদেশের 

কবিতা

হৃদয় ভুবন


 যে ভূবনে  বাস মোর জানিনা তেমায়,
কেন হঠাৎ করে ডাকিলে আমায়।
পৃথিবীর রং রুপ সবই যে মধুর,
আমাদের  মাঝে শুধু ব্যবধান  সুদূর !
ও পারেতে তুমি শুধু জানিবে অামায়
হৃদয়ের ভালোবাসা পাঠাবো তোমায়।
তোমার আমার মাঝে কাচের দেয়াল,
সবকিছু বুঝা যায় করিও খেয়াল।
হে প্রিয়!  যাবে কি মোর হৃদয় ভুবনে ?
দেবী এসে নিয়ে যাবে ঘুমে স্বপনে।
আমার ভুবনে থাকি আমি নিজ ভাবনায়,
তোমার ভুবন কেন আমাকে জড়ায়?
অ বন্ধু তুমি যে মনের প্রেমিক
তোমার যে প্রেম গভীর, সে কথা ঠিক।

১১/১১/২০১৮ ইং
ময়মনসিংহ

স্মৃতি

-ভাইয়া ফুলটা দিবা?
-আচ্ছা নাও।
-বড়টা কিন্তু?
-ঠিক আছে নাও( সত্য তোমার জন্যেই ফুলের গাছটা কিনেছি)
-আচ্ছা ভাইয়া তোমাকেও তো কিছু দেওয়া লাগে?
-না সমস্যা নেই, কিছু লাগবে না!
-না লাগবেই,,,,,
-আচ্ছা বলো কী দিবা?
-ওম্মম্ম তোমাকে একটা কাগজের  ফুলের ওয়ালমেট বানিয়ে দিব।
-  আচ্ছা বানিয়ে দিও,,,,,
- নিবা তো ??
- হুমমম নিবো।
-ওকে
সর্বপ্রথম ভালোবাসার পরশ ভুলিয়েছো
          #তোমার_অপেক্ষায়_থাকবো,,,,,,,,,

০৭/০১/২০১৯ ইং
মুক্তাগাছা ময়মনসিংহ 

চিঠি

প্রিয়_মায়াবতী
কেমন আছো জিগ্যেস করবো না। কারণ আমি তোমাকে প্রতিদিনই হাসি-খুশি ভালবাসাময় আমেজে দেখি।
জানো!
খুব ভালো লাগে! যখন তোমার দূরন্তপনাগুলো দেখি।
আমি দেখি আর মগ্ন হয়ে চেয়ে থাকি।  বাতাসের মতো তোমার এই অদ্ভুত ছুটোছুটি আগে কখনও দেখিনি।
 হয়তো দেখেছিলাম কিন্তু কখনও খেয়াল করিনি। আজকাল খুব ভালোভাবেই খেয়াল করছি তোমার দূরন্তপনা আর আনন্দগুলো। হয়তো দৃষ্টি বদলেছে বলে।

 আজ একদমই কুয়াশা ছিল না। অাকাশটা রৌদ্রজ্বল ছিল। তোমাকে দেখার জন্যেই হয়তো প্রকৃতি আমাকে নিয়ে এমন আজীব খেলা খেলেছে। জালানার পর্দা সারাতেই দেখি তুমি ছাদের পাতাগুলো ঝাড়ু  দিচ্ছো।

 আচ্ছা মায়াবতী,,
 আমি শুধু শুনেছিলাম, আর অাজ দেখছি তুমি অনেক কাজ করো, তুমি এতো কাজ কিভাবে করো? এই বয়সেই তোমার এতো কর্মঠ হওয়া আমাকে আশ্চর্য করে! অামি মগ্ন হয়ে দেখছিলাম তোমার চোখগুলো।

মায়াবতী,,,
         আমাকে কেন লজ্জা পাও বলবে একটু! পাশের বাসার ছেলেকে দেখে এতো লজ্জা পেতে হয়? দেখলেই লুকিয়ে যেতে হয়? কথা বলা বন্ধ করে দিতে হয়? দৌঁড় দিতে হয়?

কয়েকদিন তোমাকে যেদিন তোমার আগামী ক্লাসের এক সেট বই দিতে গেলাম আর তুমি প্রথমে আন্টির আঁচলের আড়ালে পরে দৌঁড়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেলে? আমি কেমন যেন "হাবলা" হয়ে গিয়েছিলাম। তাকিয়েই ছিলাম। আন্টির (তোমার আম্মু) 'মুকিম' ডাকে ধ্যান ভাঙে। তাকিয়ে দেখি আন্টি সরাসরি আমার চোখের দৃষ্টি দেখছেন! আমি যে কী লজ্জা পেয়েছিলাম! আন্টি কী না কী ভাবছে!

জানো মায়াবতী!
আমার বড় ও একমাত্র বোনটিও তোমাকে খুব পছন্দ করে! তোমাকে দেখিয়ে আমাকে বলে, "ওরে আমার খুব পছন্দের!বড় হইলে তোরে দিয়ে বিয়ে করাবো। তোমার শান্ত-শিষ্ট স্বভাবটাই তাকে বেশি আকৃষ্ট করেছে"

আচ্ছা আজ এ পর্যন্তই থাক। বাকি গল্প আরেকদিন বলবো নে,,

ইতি
#তোমার_প্রতিবেশী

২৩/১২/২০১৮ ইং

গল্প

হাসানের আর্তনাদ


২০১৭ এর শুরুর দিকে বার্মায়  মুসলমানদের উপর চলে নির্যাতনের ষ্ট্রীম রুলার।মা বোনেরা হার়ায় সতীত্ব। হাসান সেই বার্মার বাসিন্দা। নাজেরা পড়ে, কতটুকুই আর বুদ্ধিমান। দেশের অবস্থা ভালো নেই বলে ক'দিন যাবৎ মাদ্রাসায় যাওয়া হচ্ছেনা। মায়ের কাছে থেকে টুকটাক ইলম অন্বেষণে আছে সে।

 মনটা আজ তার ভালো নেই। ফজরের নামাজ শেষে সে বের হয়েছে গ্রামটাকে উপভোগ করতে। সবুজ ঘাসের ফাঁকে লুকানো শিশির। সেই শিশিরের উপর পা রেখে হাঁটছে হাসান। বাবার রেখে যাওয়া চাদর দিয়ে সে নিজেকে আবৃত করে রেখেছে।


 হাসান গ্রামে বেশ অনেক্ষণ ঘুরে বাড়িতে ঢুকলো। বাড়িতে মামা এসেছে। মামার সঙ্গে জোহরের নামাজটা মসজিদে আদায় করলাম। বাড়ী এলে মামা মাকে ফিস ফিস করে কি যেন বলল। কিন্তু কি বলল? মায়ের চেহারায় কেমন যেন বিষণ্নতার ছাপ! কিন্তু কেন? কি হয়েছে? শুয়ে শুয়ে সে এ সব ভাবছে।


ওদিকে মা জিনিস পত্র গুছাতে শুরু করল! কচি মন এবার আর বোঝ মানলনা ।অনুনয়ের সুরে মাকে জিজ্ঞেস করতে শুরু করল:-মা!মা!আমরা কোথায় যাব?

মা চুপ রইল। একটু পরে মা হাসানকেও সব গুছাতে বলল। মায়ের কথা মত সেও একটা পুটলিতে বই,কাপড়,আর প্রিয় খেলনাগুলো ভরে নিল।

এরপর আপনিতেই মা বলতে শুরু করল:-আমাদেরকে বাংলাদেশে চলে যেতে হবে। এদেশে আমাদেরকে বৌদ্ধরা থাকতে দিবেনা। এখন আমরা নাফ নদীর তীরে যাচ্ছি।বাড়ি আর বন্ধুদের ছেড়ে যাওয়াটা হাসানের জন্য ছিল খুবই কষ্টকর।


রাত তিনটা বাজে। ঘুম আসছেনা হাসানের। মা তাহাজ্জুদ পড়ছেন। বাবাকে দেখা হয়না কয়েক মাস হলো। সেই যে বার্মা পুলিশ এসে নিয়ে গেল,আর ফিরে আসেনি।মাকে বাবার কথা জিজ্ঞেস করলে মা আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে থাকে আর কাঁপা গলায় বলে তোর বাবা ইসলাম,দেশ ও আমাদের জন্য একটা কাজে গেছে। বিছানায় শুয়ে বাবার আদরের কথা ভাবছিল হাসান। হঠাৎ বাইরে বিকট আওয়াজ হলো। উঠে বসল হাসান।  বুলেট ছুড়ার আওয়াজ ছড়িয়ে পড়ল সব দিকে।


 মা নামাজ শেষে হাসানকে অভয় দিতে লাগল। অনিবার্য বিপদের আভাস পেয়ে মা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। যেদিন থেকে বাবা চলে গেছে সেদিন থেকে না খেয়ে রোজা রাখে রাতে তাহাজ্জুদ পরে কেঁদে কেঁদে খোদার দরবারে ফরিয়াদ জানায়।আজও তা-ই করছিল।হঠাৎ দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ল একদল সেনাবাহিনী। হাসানের কোলে অচেতন মা। হাসান এই অবস্থায় দিশেহারা হয়ে গেছে। একজন বন্দুক তাক করল হাসানের দিকে।আরেকজন মায়ের বুকের উপর। নিমিষেই শেষ হয়ে গেল দুজনের জীবন। শেষ মূহুর্তে হাসান শুধু এই বাক্যই বার বার উচ্চারণ করছিল-"আমি প্রভুকে বলে দিব,আমি প্রভুকে সব বলে দিব"।

১২/০৪/২০১৬
বড় মসজিদ
ময়মনসিংহ

গল্প

বাংলা আমার মায়ের ভাষা
             

১৯৫২ সাল। ফাহিম ১০ম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে।   তার বাবা ঢাকায় একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। দীর্ঘদিন পরে তার বাবা বাড়ি এসেছে। পরিবারের সবাই বেজায় খুশি কিন্তু আজ ফাহিমের মনটা ভালো নেই।  কেমন জানি বিষণ্ণ  লাগছে তার ।

রাষ্ট্রভাষা নিয়ে নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক আর পূর্ব পাকিস্তানের নিরীহ জনগনের মাঝে জোড়ালো মতপার্থক্য   দেখা দিয়েছে। পকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ কর্তৃক উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা  ঘোষনার পর উপস্থিত ছাত্ররা 'না, না,না'...... ধ্বনিতে এর প্রতিবাদ জানালে  নুরুল আমিন ১৪৪ ধারা জারি করে। ফাহিমের  বাড়ি  পূর্ব পাকিস্তানে। অন্যের ভাষা নিজের রাষ্টের উপর চাপিয়ে দেওয়ার কথা শুনে সরলমনা বাঙালিদের মন ভেঙ্গে চৌচির হয়ে যায় আর ভেতরে ভেতরে একচেটিয়া সরকারের উপর চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।   সাবার মত ফাহিমের বাবাও এ ঘোষণায় মনঃক্ষুণ্ণ হয়। ফাহিমের বাবা খবর পায়' ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেই ২১ শে ফেব্রুয়ারি  মিছিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছ' । আজ রাতে তারা স্বপরিবারে  খেতে বসেছে,ফাহিমের বাবা তার মাকে বলে "ফাহিমের মা, আমার ঢাকায় যাওয়া দরকার"। এই কথা শুনে তার মায়ের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পরে কিন্তু ফাহিম মনে মনে ভীষণ খুশি হয়। সেও তার বাবার সঙ্গে যাওয়ার  জন্য বায়না ধরে।  বাবা-মা দুজন মিলে অনেক বোঝানোর পরেও ফাহিম তার সিদ্ধান্তে অবিচল। অবশেষে
ফাহিমের  বাবা তার মাকে বলল। "থাক ফাহিমকে বাঁধা  দিও না, আমি চাই আমার ছেলে  দেশ প্রেমিক হোক"।পরদিন সকাল,  ফাহিমকে নিয়ে তার বাবা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হল।  ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে পৌঁছেই দেখতে পেল রাষ্টভাষা বাংলার দাবীতে বাংলার দামাল ছেলেরা রাজপথে মিছিল করছে। ফাহিম ও তার বাবা সে মিছিলে যোগ দিল। মিছিলে নেতৃত্ব দেয় আব্দুল মতিন ও গাজীউল হক। সেদিন মিছিল ঠেকাতে সরকার পোষ্য পেটুয়া বাহিনী নিরীহ জনতার উপর ঝঁপিয়ে পরেছিল। প্রথমে লাঠি চার্জ করলো তারপর কাঁদানে গ্যাস।  নাহ,  এ ক্ষোভ যেন ক্রমেই বেড়ে চলছে,  নির্যাতন যতো বাড়ছে প্রতিবাদের স্ফুলিঙ্গ ততোই জোড়ালো হচ্ছে। দ্রিম.. দ্রিম...দ্রিম. কেমন যেন বজ্রপাত ঘটে গেলো মিছলের মাঝে। মূহুর্তেই স্তব্ধ হয়ে গেলো প্রতিবাদী জনতা,  থেমে গেলো প্রাণের শ্লোগান "রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই"। লুটিয়ে পরলো কয়েকটি রক্তাক্ত দেহ,। লুটিয়ে পরলো রফিক, জব্বার, বরকত, সালাম ও ৯ বছরের শিশু   ওলিউল্লাহ,  এছাও নাম না জানা আরো অনেকে । চোখের সামনেই নিথর হয়ে গেলো ফাহিমের বাবার দেহ

২১/০২/২০১৭ ইং
ময়মনসিংহ



গল্প


আবার ভালবাসা


খালাতো বোনের বিয়ে ঠিক হয়েছে। বাসার সবার এক দাবি বিয়ের অন্তত ৩ দিন আগে আমার বিয়ে বাড়ি উপস্থিত থাকতে হবে। অনেক বোঝালাম সবাইকে, নতুন চাকরি পেয়েছি। এখন ছুটি নেওয়াটা ঠিক হবে না। কিন্তু আদুরে বোনটির আদুরে অভিমানের কাছে অবশেষে হার মানলাম।
আমি নীল। একটা কর্পরেট ফার্মের জুনিয়র ম্যানেজার হিসেবে জয়েন করেছি। বেশ ভাল স্যালারি। দুই বছর আগে যখন ছাত্র ছিলাম, এই স্যালারির অভাবটাই আমাকে দিয়ার থেকে আলাদা করে দিয়েছিল। ছেলেটি ব্যাংকে জব করত, হয়ত এজন্যই আমাদের ২ বছরের রিলেশনটা হাসি মুখে ভেঙে গায়ে বেনারসি জড়াতে তার কোন কষ্টই হয় নি। আজ আমার সবই হয়েছে। কিন্তু যেটা সবথেকে বেশি চেয়েছিলাম তা হারিয়ে ফেলেছি।
কুষ্টিয়া যেতে হবে, ট্রেনে যেতে ইচ্ছা হল খুব। অনেকদিন ট্রেনে ওঠা হয় না। সন্ধায় কমলাপুর স্টেশনে পৌছুলাম। টিকেট কেটে বসে আছি, কিছুক্ষন পরে ট্রেন ছাড়বে। হটাৎ খেয়াল করলাম কিছুটা দূরে বসে একটা সুন্দরী মেয়ে কাদছে। পোশাক বলে দিচ্ছে অবস্থা সম্পন্ন ঘরের মেয়ে। শুরুতে গুরুত্ব দিলাম না। মেয়েদের প্রতি একটা ঘৃনা জন্মেছিল, সেজন্যই হয়ত। কিন্তু অসহায় একটা মেয়েকে এতক্ষন কাদতে দেখে বিবেকে বাধা দিল।
* হ্যালো, কাদছেন কেন, কোন সাহায্য করতে পারি।
= না, এমনিতেই। সাহায্য দরকার নেই। (মেয়েটি)
এসে নিজ জায়গাই বসলাম, জানি সাধারন কেস। কারো জন্য হয়ত পালিয়ে এসেছে। কিন্তু সে আসে নি। এখন এটা খুব কমন একটা ব্যাপার।
= শুনুন...
তাকিয়ে দেখি মেয়েটি আমার সামনে দাড়িয়ে।
* জ্বী বলুন।
অাজকে  সারারাত  কথা বলবা?
= আসলে এখানে আসার পর আমার ব্যাগ চুরি হয়ে গেছে। ব্যাগে ফোন টাকা ট্রেনের টিকেট সব ছিল। আপনি যদি এই ঘড়িটা রেখে আমাকে ২০০ টাকা দেন তবে আমি মেসে ফিরে যাব।
* ( একটু হেসে) কোথায় যাচ্ছিলেন?
= বাড়িতে, কুষ্টিয়া।
* আমি আপনার টিকেট করে দিচ্ছি, বাড়ি পৌছে নাহয় আমাকে টাকা টা দিয়ে দিবেন। আপনার এত দামি ঘড়িটা ২০০ টাকায় বিক্রির দরকার নেই।
= (একটু ভেবে) ঠিক আছে।
নিজ জেলার একটা মেয়েকে বিপদে রাখতে মনে চায়লো না তাই সিদ্ধান্ত নিলাম সাহায্যই করব। প্রায় ১ ঘন্টা লেট করে ট্রেন আসল। আমি মেয়েটির টিকেট কেটে দিলাম। ট্রেন বেশ ফাকা, তাই মেয়েটি আমার পাশের সিটেই বসল। দেখেয় বোঝা যাচ্ছে, আমাকে খুব ভয় পাচ্ছে মেয়েটি। পাক না, আমারো বেশ মজা লাগছে সুন্দরীর ভীত চাহনী টা।
= আমি নীলা।(মেয়েটি)
* বেশ সুন্দর নাম।
= আপনার নামটা জানতে পারি..?
*...........নীল।
= কোথায় যাবেন..?
* আপনার গন্তব্য যেখানে......
= আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
* এখানে কি করেন..?
= একটা প্রায়ভেট ইউনিতে ২য় বর্ষে পড়ি। একটা বিয়েতে এটেন্ড করতে বাড়ি যাচ্ছিলাম। পথে ব্যাগ চুরি হয়ে গেল। আর আপনি কি করেন...?
* টাকার জন্য কামলা খাটি। তো শহরের কোথায় আপনার বাসা..?
= সদরপুর।
খায়ছে, এই মেয়ে দেখি খালার এলাকার, যেখানে আমি যাচ্ছি। তবে কি বিয়েটাও ওটাই..! ট্রেনের বাতাসে বেশ ঘুম পাচ্ছে। কয়েক বছর আগে হলেও এমন সুন্দরীর পাশে বসে সারারাত জেগে যেতাম। এখন সেই ইচ্ছা টা মরে গেছে। আজ আবার দিয়াকেকে খুব মনে পড়ছে। সপ্ন ছিল ওর হাতে হাত রেখে সারারাত জেগে ট্রেনে জার্নি করার।
= আমরা চলে এসেছি। উঠুন।(নীলা)
* আপনি ঘুমান নি রাতে...?
= ঘুম আসেনি রাতে...।
* নীলা, আপনাকে আপনার বাড়ি পর্যন্ত লিফ্ট দিতে পারি। যদি একটা উপকার করেন।
= কি উপকার... (ভয়ে)
* পৌছানর পরে আপনি ভুলে যাবেন আমার সাথে কখন আপনার দেখা হয়েছিল।
নীলা শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে, যার ভয়ে সে সারা রাত জেগে কাটিয়েছে কেন যেন তাকে এখন ভাল মানুষ ভাবতে ইচ্ছা করছে। আচ্ছা লোকটা পাগল নয়ত। কথা গুলো এমন উল্টা পাল্টা কেন। চেহারা টাও কঠিন। মাপা হাসি ছাড়া মন খুলে হাসতেও দেখেনি। এমন সুন্দরী মেয়ে পাশে, অথচ কথা বলার কোন ইচ্ছাই নেই তার ভেতরে। এই শেষ রাতে কোন গাড়ি পাওয়া যাবে না। কেন যেন মনে হচ্ছে মানুষটিকে বিশ্বাস করলে ঠকবে না।
আমার খালার বাড়ির দুই বাড়ি পরেই নীলাদের বাড়ি। ওকে পৌছে দিয়ে আমি গিয়ে বাড়ি ঢুকলাম। ফ্রেশ হয়েই লম্বা ঘুম। ঘুম থেকে উঠেই দেখি আমার খালাতো বোন সুমির সাথে নীলা। আমাকে দেখেই হা হয়ে গেছে।
=নীল সাহেব আপনি...?(নীলা)
> নীলা, তুইনীল ভাইয়াকে চিনিস? ভাইয়া তুমি চেন নাকি নীলাকে..? (সুমি)
না, চিনি না। বলে সোজা কেটে পড়লাম। সারা বাড়ির সব খবর দুষ্টু সুমিটা ঠিক বের করে নেয়। জানি, এটাও বের করে ফেলবে।
বড় ভাই হিসাবে পরবর্তি দুই দিন খুব ব্যাস্ত কাটালাম। আর সবসময় দেখছি নীলা আমার আশপাশেই থাকে। আবার আমি তাকালেই গায়েব। দুর থেকে মিষ্টি করে হাসি দেয়। কেন জানি মেয়েটা চোখের সামনে না থাকলে আমারো ভালো লাগে না। আমার মনে কি ওর জন্য যায়গা তৈরি হচ্ছে। না এ সম্ভব না। আমার যে কোন মন ই নেই।
বিয়ের আগের রাত। সব কিছু গুছিয়ে রেখে সিগারেট হাতে ছাদে এসে দাড়ালাম। চকচকে বিয়ে বাড়ি। একদিন আমারো এমন একটা বিয়ে বাড়ির স্বপ্ন সেই স্বপ্ন সিগারেটের ধুয়া হয়ে উড়ে যায়।
= কিছু জিনিষ ভুলে যেতে হয়। মনে রেখে নিজের ক্ষতি করতে হয় না।(পেছনে ঘুরে দেখি নীলা দাড়িয়ে। ও কি তাহলে সব জেনে গেছে..?)
* আপনি এখানে কেন...?
= আপনার টাকাটা দিতে এসেছিলাম। এখন ভাবছি দেব না।
* কেন..?
= টাকাটা বাকি থাকলে আপনি আমাকে নিয়ে ভাববেন। আর আমাকে সহজে ভুলতেও পারবেন না। তাই দিবনা টাকাটা।
* চিন্তা করবেন না ভুলে যাব।
= (হাত থেকে সিগারেট কেড়ে নিয়ে) এসব যেন আর কখন খেতে না দেখি।
অন্য সময় হলে যে কাউকে বেশ কিছু কড়া কথা শুনিয়ে দিতাম। কিন্তু মেয়েটিকে কেন যেন বকা দিতে ইচ্ছা হচ্ছে না। শুধু তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করছে। না না, আমাকে শক্ত হতে হবে।
* আমার বিষয়ে কথা বলার আপনি কে..?
= এখনো কেউ না, তবে সবকিছু হতে চায়।
কথাটা বলেই নীলা দৌড়ে চলে গেল। আমি শুধু তাকিয়েই রইলাম। বাড়ির ভেতরে গিয়ে দেখি মা কেও নীলা পটিয়ে ফেলেছে। পুরো বিয়ে বাড়ি কানাকানি চলছে পরবর্তী বিয়ে নীল আর নীলার। নাহ্ আর থাকা যাবে না। ব্যাগটা গুছিয়ে পালিয়ে যেই মাত্র বাড়ির গেট পেরিয়েছি, কেউ একজন আমার হাত টেনে ধরল। তাকিয়ে দেখি নীলা। শাড়িতে মেয়েটাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। তার সাথে করুন দৃষ্টি আর চোখের পানি যেন কলিজায় আঘাত করছে।
= আমাকে আপনার পছন্দ না সে কথা বলে দিলেই হতো। এভাবে কেন পালাচ্ছেন। আমি আর কখন আপনার সামনে আসবো না। তবু প্লিজ চলে যাবেন না।
* কে বলেছে তোমাকে আমার পছন্দ হয়নি..? আমি শুধু ভয় পেয়েছি। এখানে থাকলে সেই ভুলটা আবার করে ফেলব, যেটা একবার আমার স্বাভাবিক জীবনটাকেই কেড়ে নিয়েছে।
= আমাকে না হয় একটা সুযোগ দিন আপনাকে সেই পুরনো আপনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার।
* কখন ছেড়ে যাবে না তো...?
এবার আর মুখে জবাব পেলাম না। তবে কেউ একজন আমাকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। আর না। আমি ওকে আর ছাড়তে পারব না। ও ই আমার অগোছাল জীবনটা জড়িয়ে ধরে রাখুক না।
                        ( ((<সমাপ্ত>))))



কবিতা

      অনুভব

ভাবনায় আছো তুমি
   অনুভবে বুঝি, 
অনুভবে প্রতি দিনই 
তোমায় যে খুঁজি।

লুকিয়ে ছিলে যে তুমি 
  অচিন লোকে,
কতো যে খুঁজেছি তোমায়
পাইনি গোপনে।

কতোদিন পর তুমি 
 দূর হতে ডাকি,
কহিলেন আমীয় সুরে ,
   কতো ভালোবাসি।

পারিব কি দিতে আমি,
 তোমায় সে মান,
যাহা তুমি হতে চাও 
হয়ে মহিয়ান! 

ছড়া



ছোট্ট বেলা 


জীবন যখন ছোট ছিল   
আকাশ ছিল বড়,
মেঘের খেলায় রঙের মেলায়
হারিয়ে যেতাম ধরো।

সুযোগ হলেই খেলার মাঠে 
যেতাম   বন্ধু কতো,
রঙিন সুরের নেশায় পাগল
জমতো লড়াই শত।

বাবার শাসন ছিল করা
সন্ধ্যা হলেই নিতো পড়া, 
ফাঁকি দিলেই  খেতাম  ধরা
মায়ের আদর আচল ভড়া।
    

০১/০৩/২০১৮ ইং
ময়মনসিংহ  বাাংলাদেশ
    

চিঠি

প্রিয় মায়াবতী!
                    সকালে ঘুম থেকে উঠেই তোমার দেখা পেলাম। তোমাকে অশেষ ধন্যবাদ।  এই সকালের মিষ্টি রোদ তোমার উপর পরেছে, তাতে  মনে হচ্ছে রোদ থেকে মিষ্টি  যেন তুমিই। মনটা আজকে অনেক ফ্রেশ, মনে হচ্ছে  দিনটা ভালোই কাটবে। এখন আর প্রতিদিনের মতো তোমাকে দেখি না, কেন দেখি না উল্লেখ করতে মন চাচ্ছে  না! তবে এতোটুকু জেনে রাখো তোমার চোখের অতি মায়াতে আমি দিশেহারা হয়ে যাই। বাংলায় একটা বচন আছে "অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ " কথাটা বলার কারণ হলো আমি তোমাকে যতোই দেখি ততোই মুগ্ধ হতে থাকি। এই মুহুর্তে আমি যেভাবে তোমার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছি তা আমার ভবিষ্যতের  ক্ষতি ছাড়া  কিচ্ছু মনে হচ্ছে নাহ।

মায়াবতী!!!
          তুমি কি জানো ?  আমি তোমার চোখ দেখে অনেক কিছুই বলে দিতে পারি। তুমি আমাকে ভালোবাসো এটা আমি স্পষ্ট  ভাবে বুঝি।কথাটা তোমার চোখ গুলো বলে দেয় আমাকে। মাঝে মধ্যে তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে স্বপ্ন দেখি, স্বপ্নে ঘর বাঁধি, সুখি হয়ে যাই অনন্ত কালের জন্য আর হারিয়ে যাই অনেক দূর। তোমার দুষ্টুমিগুলো আমাকে অনেক মুগ্ধ করে। আচ্ছা আমাকে এভাবে মুগ্ধ হয়ে দেখ কেনো ? আর আমি যখন দেখে ফেলি তখন লজ্জা পেয়ে হয় চলে যাও নয়তো এমন ভাব করো যেন আমাকে চিনোই না। তোমার লজ্জা মুখটা আমাকে আরো দুর্বল করে দেয়। তোমার দেওয়া কাগজের ফুলটা যেদিন দিয়েছিলে ঐদিনের আচরণটা আমার কাছে স্মৃতি হয়ে থাকবে। সাথে তোমার দেওয়া ফুলটাও। তোমার দেওয়া কাগজের ফুলটা খুবই সুন্দর ছিলো। ধন্যবাদ দিব না, ধন্যবাদ তো দূরের মানুষগুলোর জন্য।  তুমি তো আমার দূরের কেউ না তাই ধন্যবাদ দিলাম নাহ।

জানো!
        মাঝে মধ্যে কল্পনাতে বহু দূর অবলম্বন করে ফেলি। আমার রাঙা বউ হয়ে তুমি যেন এসে গেছো, আমরা অনেক দূর পর্যন্ত আমাদের জীবনকে নিয়ে গিয়েছি কিন্তু হঠাৎ দেখি অস্তিত্ব  ঠিক জায়গাতেই রয়ে গেছে। আমরা কোত্থাও যাইনি। তবে জেনে রেখো অপেক্ষায় থাকবো অনির্দিষ্ট কালের জন্যে,,,

আচ্ছা!
       তুমি কি জানো আমি ছন্নছাড়া মানুষ,  তুমি আমার জীবনে অভির্বাব হয়ে আমার জীবনকে ছন্ন দিয়ে গুছিয়ে দিবে? আমাকে তোমাতে হারাতে দিবে? মুগ্ধ করে দিতে পারবে এই আমাকে???

০৩/১২/২০১৮ ইং
নন্দীবাড়ী মুক্তাগাছা
ময়মনসিংহ
 


স্মৃতির আয়না



 "নিষ্পেশিত মানবতা"
আরিফুল ইসলাম মুকিম 


রাস্তাঘাটে চলতে ফিরতে মানুষ কত্তোকিছু দেখে আর শেখে! কোনোটা অবাক করে। কোনোটা হাসায়, কোনটা কাঁদায় আবার কোনটা চিরদিনের জন্য স্থায়ী হয়ে যায় মনোস্পটে। সবার মতো আমারও আছে অনেক অভিজ্ঞতা আর অজস্র স্মৃতিতবে আজ শুধু একটাই বলবো বাকিগুলো অন্য কোথাও, অন্য কোন সময়।
 ১. মফস্বলেই থাকি বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঢাকাতে যাওয়াই হয়না। ক্লাসমেটদের প্রায় সবাই ঢাকায় থাকে। এজন্য কোন উপলক্ষ আসলেই ছুটে যাই সেখানে। প্রিয়জনদের সাথে হেসে-খেলে দু চারদিন কাটিয়ে আবার ফিরে আসি আপন নীড়ে, নিজের শহরে। এবার পরীক্ষার ছুটিটা হয়েছে ঠিক ফেব্রুয়ারির শুরুতে। এ মাসকে নতুন করে পরিচয় করানোর প্রয়োজন তেমন নেই। ভাষার মাস এটি। মুসলমান যুবকেরা নিজের জীবন দিয়ে ভাষার প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করেছে। বাংলা একাডেমী এসময় আয়োজন করে "একুশে বই মেলা"র যা প্রতিটি সাহিত্যপ্রেমীককে আন্দোলিত করে। আমিও আন্দোলিত হই। হারাতে চাই ভাষার মুগ্ধতায়। এমন সুযোগ আগে আর মেলেনি। যদিও বই মেলায় আরো গিয়েছি তবে লুকিয়ে। পরিবার আর মাদ্রাসা ফাঁকি দিয়ে!এবার সুযোগটা আর হাতছাড়া করতে চাইনি। তাই নিজে অনুনয় করে, বন্ধুদের দিয়ে সুপারিশ করিয়ে বহুকষ্টে বাবার থেকে ঢাকা যাওয়ার অনুমোদন পাশ করিয়েছি।
 ২.শীতের সকাল। ভর দুপুর ছাড়া রোদের দেখা পাওয়া মানে আমাবশ্যার চাঁদ হাতে পাওয়া। তাই রোদ উঠার অপেক্ষায় না থেকে সকাল সকাল বের হয়েছি। এখানকার দোকানিদেরকে প্রাচীনকালের নবাবজাদা বললে বোধয় বাড়াবাড়ি হবে না। ঘুমুবে সেই রাতে আর উঠবে দুপুর হয় হয় সময়। একটা দোকানও খোলা নেই। কিছু যে কিনবো তারও জো নেই। শহরটাও ফাঁকাফাঁকা লাগছে। তা লাগুক আমার সমস্যা নেই আমি যেতে পারলেই হলো। অন্য কোন ভাবনা না করে ঢাকাগামী বাসের টিকিট কিনে সিটে চেপে বসি। কিন্তু পেট তো মানছে না! বারবার সিগনাল দিচ্ছে। খোজ নিয়ে জানলাম চব্বিশঘণ্টা সার্ভিস দেয় এমন একটা রেস্টুরেন্ট চালু হয়েছে। টার্মিনাল চত্তরেই। ঘড়ি দেখলাম। বাস ছাড়ার এখনো পনের মিনিট বাকি। বেরিয়ে পরলাম। ররেস্টুরেন্টের ঠিক গেইটের সাথেই একটা........ বয়সটা বলতে পাচ্ছিনা তবে শীতের এই প্রকোপের মাঝেও সাতসকালে ছেড়া কাপড়াবৃত দেখে এটা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারলাম যে, উনি পথ আশ্রিতদেরই একজন। রেখাবহুল মুখখানা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে। দেখে বুঝা যায় এ জনমে বুজি সুখের দেখা পায়নি। মনে মনে খুব দয়া হলো। তার খাবারের বাজেটও করে ফেললাম। আজ আমার যেই নাস্তা হবে তাকেও সেটাই খাওয়াবো। কিন্ত তা আর হলো না। সম্ভবত ওয়েটারই হবে। সে এসে ছোট পেকেটে করে তার হাতে কিছু দিয়ে গেলো। সম্ভবত বার্গার বা রুল হবে, পিজ্জাও হতে পারে। মনটা কৃতজ্ঞতায় ভরে গেলো। ভাবলাম এখনো এমন কিছু ভালো মানুষ আছে যারা বঞ্চিতদের মনের আকুতি বুঝে। নিপীড়িতদের অশ্রুর ভাষা বুঝে। এজন্যই তো পৃথিবীটা আজো বড় সুন্দরভাবে চলছে।
 ৩. খুব দ্রুত কিছু খেয়ে আর কিছু পার্সেল নিয়ে বের হয়েই তো চোখ কপালে! সেই বৃদ্ধ বমি করছে! আর ওয়েটারের দেয়া জিনিসগুলি এদিক ওদিক ছুড়ে মারছে। বুঝা না যাওয়া ভাষায় বকাবকি করছে। এখন আর সেই ওয়েটারের মহানুভবতা(?) বুঝার বাকি রইল না। অগত্যা আমার যা কিছু পার্সেল নিয়ে ছিলাম সব উনার থলেতে ঢেলে দিয়ে আসলাম। পুরো পথে আর স্বস্তি পাইনি।চোখের জল হয়ত গড়ায়নি ভিতরে রক্তক্ষরণ হয়েছে ঠিকই। মানবতার এমন বিপর্যয় আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে। ধিক এসেছে বারবার এই মানুষরূপী বানরের প্রতি যে বঞ্চিত মানবতাকে উপহাস করেছে উচ্ছিষ্ট অখাদ্য দিয়ে আর তাদের প্রতি যারা প্রতিনিয়ত উপহাস করে চলছে বঞ্চিত মানুষগুলোর সাথে।

প্রকাশিত
চিরকুট পত্রিকা
সূচনা সংখ্যা  "মে" ২০১৮ ইং

ছড়া


বর্ণমালা 

বর্ণমালা নিয়ে গেল 
সব পাখি মিলে,
"চ"নিয়ে উড়ে গেল 
ঐ যে দেখ চিলে।

বক গিয়েছে বিলের ধারে
মাছটি পাওয়ার আসায়,
বিল গুলো সব খালি দেখে
কেঁদে বুক বাসায়।

কিচির মিচির শব্দ দেখে 
চড়ই সব আসে, 
তাই দেখে বুলবুলিটা 
মিটমিটিয়ে হাসে।

ছড়া

বনের খোঁজে

খুঁজে খুঁজে বনের মাঝে
ধরেছিলাম এক পাখি
সেই পাখি আজ উড়াল দিলো
ভাসিয়ে মোর  আঁখি।

সোনার খাঁচা গড়েছিলাম
আমি তার  জন্য
ভালোবাসার  বাঁধন কেটে
করেছে সে শূন্য।

লোকে আমায়  বলে বোকা
বুঝোনি তার অভাব
বনের পাখি খাঁচার কেন?
 মুক্তিই তার স্বভাব।

কবিতা


আমি  রাখিনি


আমি রাখিনি আমার অনুতাপের সুখ
বিকিয়ে দিয়েছি ফুটপাতে,
নয়তো তপ্ত বালুচরে,
হয়তো ধুম্রজালে সব এলোমেলো 
তোমার প্রবেশ নয়তো প্রস্থান, 
পারিনি তোমায় বন্দি করতে পাখির মতো!
দিয়েছে স্বাধীন করে তোমার অনিচ্ছায়।
সাগরের গভীরতায় হারাতে চাইনি আমি-
আমি যে, ছোট শুধু ভাসতে চাই উপরে 
চাইলেই পারি দিতে পারি
মহা সমুদ্রের তলদেশ থেকে পাহাড়ের চুড়ায়
তুমি স্বাধীন, তুমি মুক্তি,
আমার প্রাচীর থেকে,
অন্যের আঙ্গিনায় তুমি বন্দি।

কোন এক বিকেল

মাঝে মাঝে রৌদ্রুহীন এই বৃষ্টির বিকেলে হারিয়ে যাই নিরবতার মাঝে, অসহায় হয়ে যাই একাকিত্বের ক্লান্তিতে হতাশার চাদর জড়িয়ে ধরে আমাকে।  বিকেলের...