Sunday, March 31, 2019

গল্প

বাংলা আমার মায়ের ভাষা
             

১৯৫২ সাল। ফাহিম ১০ম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে।   তার বাবা ঢাকায় একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। দীর্ঘদিন পরে তার বাবা বাড়ি এসেছে। পরিবারের সবাই বেজায় খুশি কিন্তু আজ ফাহিমের মনটা ভালো নেই।  কেমন জানি বিষণ্ণ  লাগছে তার ।

রাষ্ট্রভাষা নিয়ে নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক আর পূর্ব পাকিস্তানের নিরীহ জনগনের মাঝে জোড়ালো মতপার্থক্য   দেখা দিয়েছে। পকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ কর্তৃক উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা  ঘোষনার পর উপস্থিত ছাত্ররা 'না, না,না'...... ধ্বনিতে এর প্রতিবাদ জানালে  নুরুল আমিন ১৪৪ ধারা জারি করে। ফাহিমের  বাড়ি  পূর্ব পাকিস্তানে। অন্যের ভাষা নিজের রাষ্টের উপর চাপিয়ে দেওয়ার কথা শুনে সরলমনা বাঙালিদের মন ভেঙ্গে চৌচির হয়ে যায় আর ভেতরে ভেতরে একচেটিয়া সরকারের উপর চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।   সাবার মত ফাহিমের বাবাও এ ঘোষণায় মনঃক্ষুণ্ণ হয়। ফাহিমের বাবা খবর পায়' ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেই ২১ শে ফেব্রুয়ারি  মিছিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছ' । আজ রাতে তারা স্বপরিবারে  খেতে বসেছে,ফাহিমের বাবা তার মাকে বলে "ফাহিমের মা, আমার ঢাকায় যাওয়া দরকার"। এই কথা শুনে তার মায়ের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পরে কিন্তু ফাহিম মনে মনে ভীষণ খুশি হয়। সেও তার বাবার সঙ্গে যাওয়ার  জন্য বায়না ধরে।  বাবা-মা দুজন মিলে অনেক বোঝানোর পরেও ফাহিম তার সিদ্ধান্তে অবিচল। অবশেষে
ফাহিমের  বাবা তার মাকে বলল। "থাক ফাহিমকে বাঁধা  দিও না, আমি চাই আমার ছেলে  দেশ প্রেমিক হোক"।পরদিন সকাল,  ফাহিমকে নিয়ে তার বাবা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হল।  ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে পৌঁছেই দেখতে পেল রাষ্টভাষা বাংলার দাবীতে বাংলার দামাল ছেলেরা রাজপথে মিছিল করছে। ফাহিম ও তার বাবা সে মিছিলে যোগ দিল। মিছিলে নেতৃত্ব দেয় আব্দুল মতিন ও গাজীউল হক। সেদিন মিছিল ঠেকাতে সরকার পোষ্য পেটুয়া বাহিনী নিরীহ জনতার উপর ঝঁপিয়ে পরেছিল। প্রথমে লাঠি চার্জ করলো তারপর কাঁদানে গ্যাস।  নাহ,  এ ক্ষোভ যেন ক্রমেই বেড়ে চলছে,  নির্যাতন যতো বাড়ছে প্রতিবাদের স্ফুলিঙ্গ ততোই জোড়ালো হচ্ছে। দ্রিম.. দ্রিম...দ্রিম. কেমন যেন বজ্রপাত ঘটে গেলো মিছলের মাঝে। মূহুর্তেই স্তব্ধ হয়ে গেলো প্রতিবাদী জনতা,  থেমে গেলো প্রাণের শ্লোগান "রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই"। লুটিয়ে পরলো কয়েকটি রক্তাক্ত দেহ,। লুটিয়ে পরলো রফিক, জব্বার, বরকত, সালাম ও ৯ বছরের শিশু   ওলিউল্লাহ,  এছাও নাম না জানা আরো অনেকে । চোখের সামনেই নিথর হয়ে গেলো ফাহিমের বাবার দেহ

২১/০২/২০১৭ ইং
ময়মনসিংহ



No comments:

Post a Comment

কোন এক বিকেল

মাঝে মাঝে রৌদ্রুহীন এই বৃষ্টির বিকেলে হারিয়ে যাই নিরবতার মাঝে, অসহায় হয়ে যাই একাকিত্বের ক্লান্তিতে হতাশার চাদর জড়িয়ে ধরে আমাকে।  বিকেলের...