Sunday, March 31, 2019

গল্প

হাসানের আর্তনাদ


২০১৭ এর শুরুর দিকে বার্মায়  মুসলমানদের উপর চলে নির্যাতনের ষ্ট্রীম রুলার।মা বোনেরা হার়ায় সতীত্ব। হাসান সেই বার্মার বাসিন্দা। নাজেরা পড়ে, কতটুকুই আর বুদ্ধিমান। দেশের অবস্থা ভালো নেই বলে ক'দিন যাবৎ মাদ্রাসায় যাওয়া হচ্ছেনা। মায়ের কাছে থেকে টুকটাক ইলম অন্বেষণে আছে সে।

 মনটা আজ তার ভালো নেই। ফজরের নামাজ শেষে সে বের হয়েছে গ্রামটাকে উপভোগ করতে। সবুজ ঘাসের ফাঁকে লুকানো শিশির। সেই শিশিরের উপর পা রেখে হাঁটছে হাসান। বাবার রেখে যাওয়া চাদর দিয়ে সে নিজেকে আবৃত করে রেখেছে।


 হাসান গ্রামে বেশ অনেক্ষণ ঘুরে বাড়িতে ঢুকলো। বাড়িতে মামা এসেছে। মামার সঙ্গে জোহরের নামাজটা মসজিদে আদায় করলাম। বাড়ী এলে মামা মাকে ফিস ফিস করে কি যেন বলল। কিন্তু কি বলল? মায়ের চেহারায় কেমন যেন বিষণ্নতার ছাপ! কিন্তু কেন? কি হয়েছে? শুয়ে শুয়ে সে এ সব ভাবছে।


ওদিকে মা জিনিস পত্র গুছাতে শুরু করল! কচি মন এবার আর বোঝ মানলনা ।অনুনয়ের সুরে মাকে জিজ্ঞেস করতে শুরু করল:-মা!মা!আমরা কোথায় যাব?

মা চুপ রইল। একটু পরে মা হাসানকেও সব গুছাতে বলল। মায়ের কথা মত সেও একটা পুটলিতে বই,কাপড়,আর প্রিয় খেলনাগুলো ভরে নিল।

এরপর আপনিতেই মা বলতে শুরু করল:-আমাদেরকে বাংলাদেশে চলে যেতে হবে। এদেশে আমাদেরকে বৌদ্ধরা থাকতে দিবেনা। এখন আমরা নাফ নদীর তীরে যাচ্ছি।বাড়ি আর বন্ধুদের ছেড়ে যাওয়াটা হাসানের জন্য ছিল খুবই কষ্টকর।


রাত তিনটা বাজে। ঘুম আসছেনা হাসানের। মা তাহাজ্জুদ পড়ছেন। বাবাকে দেখা হয়না কয়েক মাস হলো। সেই যে বার্মা পুলিশ এসে নিয়ে গেল,আর ফিরে আসেনি।মাকে বাবার কথা জিজ্ঞেস করলে মা আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে থাকে আর কাঁপা গলায় বলে তোর বাবা ইসলাম,দেশ ও আমাদের জন্য একটা কাজে গেছে। বিছানায় শুয়ে বাবার আদরের কথা ভাবছিল হাসান। হঠাৎ বাইরে বিকট আওয়াজ হলো। উঠে বসল হাসান।  বুলেট ছুড়ার আওয়াজ ছড়িয়ে পড়ল সব দিকে।


 মা নামাজ শেষে হাসানকে অভয় দিতে লাগল। অনিবার্য বিপদের আভাস পেয়ে মা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। যেদিন থেকে বাবা চলে গেছে সেদিন থেকে না খেয়ে রোজা রাখে রাতে তাহাজ্জুদ পরে কেঁদে কেঁদে খোদার দরবারে ফরিয়াদ জানায়।আজও তা-ই করছিল।হঠাৎ দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ল একদল সেনাবাহিনী। হাসানের কোলে অচেতন মা। হাসান এই অবস্থায় দিশেহারা হয়ে গেছে। একজন বন্দুক তাক করল হাসানের দিকে।আরেকজন মায়ের বুকের উপর। নিমিষেই শেষ হয়ে গেল দুজনের জীবন। শেষ মূহুর্তে হাসান শুধু এই বাক্যই বার বার উচ্চারণ করছিল-"আমি প্রভুকে বলে দিব,আমি প্রভুকে সব বলে দিব"।

১২/০৪/২০১৬
বড় মসজিদ
ময়মনসিংহ

No comments:

Post a Comment

কোন এক বিকেল

মাঝে মাঝে রৌদ্রুহীন এই বৃষ্টির বিকেলে হারিয়ে যাই নিরবতার মাঝে, অসহায় হয়ে যাই একাকিত্বের ক্লান্তিতে হতাশার চাদর জড়িয়ে ধরে আমাকে।  বিকেলের...